• আরামবাগের রাইসমিলে তীব্র বিস্ফোরণ, বয়লার উড়ে গেল ২০০ মিটার দূরে
    এই সময়, 22 November 2020
  • এই সময় ডিজিটাল ডেস্ক: মালদহের সুজাপুরের কারখানায় বিস্ফোরণ নিয়ে হইচইয়ের মধ্যে ফের বিস্ফোরণ ঘটল রাজ্যে। হুগলির আরামবাগে এক রাইসমিলে শনিবার বিকেলে জোরালো বিস্ফোরণ ঘটে। যার জেরে দুই শ্রমিক গুরুতর জখম হন। ওই রাইসমিলের বয়লার থেকেই এই বিস্ফোরণ বলে জানা গিয়েছে। তবে, বয়লার ফাটার কারণ এখনও পরিষ্কার ভাবে জানা যায়নি। রাইসমিল কর্তৃপক্ষের তরফে জানানো হয়েছে, বয়লার দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধান করে দেখা হচ্ছে।

    পুলিশ সূত্রে খবর, হুগলি আরামবাগের জয়পুর এলাকায় একটি রাইসমিল রয়েছে। শনিবার বিকেলে সেখানেই বিস্ফোরণ ঘটে। দুর্ঘটনায় জখম মৃত্যুঞ্জয় মাঝি এবং দিব্যেন্দু ভকত নামে দুই শ্রমিককে আরামবাগ মহকুমা হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়েছে। দু'জনের অবস্থাই আশঙ্কজনক বলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।

    স্থানীয় এবং পুলিশ সূত্রে খবর, এদিন বিকেলে কাজ চলাকালীন হঠাত্‍ই রাইসমিলের বয়লারটি ফেটে যায়। বিস্ফোরণের তীব্রতা বেশি থাকার কারণে গরম বয়লায় ছিটকে গিয়ে পড়ে ২০০ মিটার দূরে, আরামবাগ-কলকাতা রাজ্য সড়কের উপর। তবে সেই সময় রাস্তা ফাঁকা থাকায় কোনও বড়সড় দুর্ঘটনা ঘটেনি। দুর্ঘটনার সময় ওই বয়লার রুমে কর্মরত দুই শ্রমিক মৃত্যুঞ্জয় এবং দিব্যেন্দু গুরুতর জখম হন। বয়লারের গরম জলে তাঁদের শরীর পুড়ে গিয়েছে।

    দুর্ঘটনার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় পুলিশ। আহতদের তড়িঘড়ি হাসপাতালে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হয়। রাইসমিল কর্তৃপক্ষের গাফিলতির কারণেই দুর্ঘটনা কি না, পুলিশ তা খতিয়ে দেখছে।

    এদিকে, মালদহের সুজাপুরের প্লাস্টিক কারখানায় বিস্ফোরণের ঘিরে ধোঁয়াশা এখনও কাটল না। ফরেনসিক বিশেষজ্ঞদের ধারণা ছিল, যান্ত্রিক ত্রুটি এবং রক্ষণাবেক্ষণের অভাবের কারণেই এই বিস্ফোরণ ঘটে থাকতে পারে। কিন্তু, শনিবার নমুনা সংগ্রহের সময় ক্ষতিগ্রস্ত মেশিনের পাশে ফের মৃদু বিস্ফোরণ ঘটায়, যান্ত্রিক ত্রুটির তত্ত্ব থেকে সরে আসেন ফরেনসিক বিশেষজ্ঞরা।

    ফরেনসিক বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, বিস্ফোরণের কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হতে আরও কিছু পরীক্ষার প্রয়োজন রয়েছে। ফরেনসিক দলটি নমুনা সংগ্রহ করার সময় শনিবার বেলা ১টা নাগাদ হঠাৎই ওই কারখানার ক্ষতিগ্রস্ত মেশিনের পাশে আচমকা মৃদু বিস্ফোরণ ঘটে। যার নতুন করে আতঙ্ক ছড়াল ওই এলাকায়।

    ফরেনসিক বিশেষজ্ঞ চিত্রাক্ষ সরকার এদিন সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, ‘‌তদন্ত চলছে। এখনও কিছু বলা যাচ্ছে না। তবে আপাতত মনে হচ্ছে না যে শুধু যন্ত্রের কোনও ত্রুটি থেকেই এই ঘটনা ঘটেছে। এখনও কোনও সিদ্ধান্তে উপনীত হতে পারছি না। আরও পরীক্ষার প্রয়োজন।’‌ বোঝাই যাচ্ছে, সুজাপুর বিস্ফোরণ কাণ্ডে এখনই কোনও তত্ত্ব খাড়া করতে চান না ফরেনসিক বিশেষজ্ঞরা।

    এদিকে, এই বিস্ফোরণের ঘটনাকে ঘিরে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক তরজা। এ নিয়ে মালদা উত্তরের বিজেপি সাংসদ খগেন মুর্মু অভিযোগ করেছেন, ‘‌এত বড় ঘটনা ঘটল। বিস্ফোরণের তীব্রতায় বাড়িটাই ধসে গিয়েছে। মৃত্যু হয়েছে ৬ জনের। তার পরও এখনও পুলিশ–প্রশাসন নির্বিকার। পুলিশ কোনও মামলাও দায়ের করেনি।’‌

    এই সময় ডিজিটাল এখন টেলিগ্রামেও। সাবস্ক্রাইব করুন, থাকুন সবসময় আপডেটেড। জাস্ট এখানে ক্লিক করুন।
  • Link to News (এই সময়)