• বিজেপি ভাঙলেও অমিত মচকাচ্ছেন না
    আজকাল, 14 February 2020
  • আজকালের প্রতিবেদন,দিল্লি: বাস্তবতা না বুঝে, ভুল কৌশল নেওয়ার ফলেই যে বিজেপি দিল্লির ভোটে বিশ্রীভাবে হেরেছে, তা স্বীকার করে নিচ্ছেন দলের নেতারা। বৃহস্পতিবার দলের ব্যর্থতা নিয়ে বিজেপি সভাপতি জে পি নাড্ডা, দিল্লি শাখার সভাপতি মনোজ তিওয়ারি ও দলের সাধারণ সম্পাদক (‌সংগঠন)‌ বিএল সন্তোষের বৈঠক হয়েছে। সেই বৈঠকের পর বলা হয়েছে, কংগ্রেসের ভোট এভাবে উধাও হয়ে যাবে একথা দল ভাবেনি। আগের বিধানসভা ভোটের তুলনায় এবার বিজেপির ভোট বাড়লেও, দল ধাক্কা খেয়ে গেছে লড়াইটা পুরোপুরি দ্বিপাক্ষিক হয়ে যাওয়ায়। ভবিষ্যতে আপ–এর সঙ্গে সরাসরি লড়াইয়ের জন্য দল কৌশল ছকবে বলে জানিয়েছেন তাঁরা। কিন্তু ভোট পুরোপুরি দুই মেরুতে ভাগ হয়ে যাওয়ার কারণ কী, তা কিন্তু কংগ্রেস বা বসপা–র মতো দলগুলোর কাছে স্পষ্ট। তাদের বক্তব্য, বিজেপি হিন্দু জাতীয়তাবাদী প্রচার এত উচ্চগ্রামে নিয়ে গিয়েছিল যে, যাঁরা এই আদর্শের বিরোধী তাঁরা সবাই বিজেপি–কে হারাতে আপ–কে ভোট দিয়েছেন। 

    এই ভোটে বিজেপি–র সেনাপতি অমিত শাহ অবশ্য তা মানতে রাজি নন। তাঁর দাবি, এই ভোটে তাঁদের আদর্শ আরও প্রসারিত হয়েছে। তবে দলের কিছু নেতার কিছু মন্তব্য অনভিপ্রেত ছিল বলে তিনি মন্তব্য করেন। এক্ষেত্রে তাঁর লক্ষ্য ‘‌গোলি মারো’‌ গোছের মন্তব্যগুলি। তিনি নিজে বলেছিলেন এত জোরে বোতাম টিপতে, যাতে শক লাগে শাহিনবাগে। সেই মন্তব্য কিন্তু ঠিক ছিল বলেই মনে করছেন তিনি। 

    এরপর শুক্রবার বিজেপি দিল্লির ফল বিশ্লেষণ করতে সদর দপ্তরে আরও বৈঠক করবে। ইতিমধ্যে অমিত শাহ যাঁদের ‘‌ডিজিটাল ওয়ারিয়র্স’‌ বলেন, অর্থাৎ যাঁরা সোশ্যাল মিডিয়ায় বিজেপির হয়ে প্রচার চালান, তাঁদের কেউ বলছেন ‘‌২০–র বেশি আসনে’‌ বিজেপি ২ হাজারের কম ভোটে হেরেছে। কেউ বলছেন, সংখ্যাটা ৩৮। কিন্তু ঘটনা হল, মাত্র ২ আসনে আপ–এর থেকে বিজেপির ভোটের ব্যবধান ২ হাজারের কম। এই দুটি আসন হল বিজওয়াসন ও আদর্শনগর। তবে এটা ঘটনা যে, এবারের ৩৮.‌৫১ শতাংশ ভোট ১৯৯৩ সালের (‌৪৭.‌৮২ শতাংশ)‌ পর বিধানসভায় শতাংশের হিসেবে বিজেপির সবচেয়ে ভাল ফল। আপ কিন্তু পাঁচ বছর আগেও ৫০ শতাংশের বেশি ভোট পেয়েছিল, এবারও পেয়েছে। ২০১৫–র ভোটে আপ পেয়েছিল ৫৪.‌৩ শতাংশ ভোট, এবার পেয়েছে ৫৩.‌৭৫। কাজেই বিজেপি কেন মনে করল এবার লড়াইটা দ্বিপাক্ষিক হবে না, বোঝা কঠিন।

    পাঁচ বছর আগে কংগ্রেস পেয়েছিল প্রায় ১০ শতাংশ ভোট, এবার পেয়েছে ৪.‌৪। কংগ্রেস এবারও ১০ শতাংশ ভোট পেলে যে আপ জিতত না, তা নয়। হয়তো ৭০–এর মধ্যে ৬২–র থেকে আসন কিছু কমত। কংগ্রসের ভোট কমার বড় কারণ, সংখ্যালঘু ভোট পুরোপুরি আপ–এর দিকে চলে যাওয়া। ‌
  • Link to News (আজকাল)