• কেজরির গান্ধীগিরি!
    আজকাল, 14 February 2020
  • জয়ন্ত ঘোষাল,দিল্লি: এ এক সাঙ্ঘাতিক গান্ধীগিরি। বিপুলভাবে জেতার পর অরবিন্দ কেজরিওয়াল রবিবার শপথগ্ৰহণ অনুষ্ঠানে কোনও বিরোধী নেতাকে আমন্ত্রণ জানালেন না রামলীলা ময়দানে। আবার শপথের আগেই তিনি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে দেখা করে আশীর্বাদ নিতে চাইলেন। তবে বিজেপি সূত্রে জানা যাচ্ছে, মোদি অস্বস্তি এড়াতেই শপথের আগে দিল্লির মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করতে রাজি হননি। প্রধানমন্ত্রীর সচিবালয় থেকে কেজরিওয়ালকে জানানো হয়েছে, শপথের পরেই প্রধানমন্ত্রী দেখা করবেন। তার আগে সময় হবে না। গতকালই অবশ্য অন্ধ্রপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী জগন্মোহন রেড্ডি মোদির সঙ্গে দেখা করেছেন। 

    আরও একটি চিত্তাকর্ষক ঘটনা, ২০১৫ সালে কেজরিওয়াল জেতার পর সঙ্গে সঙ্গে ফোন করে মোদি শুভেচ্ছা জানান, কিন্তু এবার তিনি দু’‌দিন হয়ে গেল ফোন করেননি। অমিত শাহও করেননি। তবে প্রধানমন্ত্রী টুইট করে শুভেচ্ছা জানালে সঙ্গে সঙ্গে কেজরিওয়াল বলেছেন, আমিও কেন্দ্রের সঙ্গে সহযোগিতা রক্ষা করেই উন্নয়নের কাজ করতে চাই।

    তবে রামলীলা ময়দানে কেজরিওয়ালের শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে কোনও মুখ্যমন্ত্রী ও রাজনৈতিক নেতাকে আমন্ত্রণ না জানানো বেনজির ঘটনা। বহু বিরোধী নেতাই চেয়েছিলেন এই সভায় থেকে ফের জাতীয় বিরোধী ঐক্যের বার্তা দেবেন, কিন্তু কেজরিওয়াল এই পরম্পরার অবসান ঘটাতে চাইলেন। তিনি মণীশ শিশোদিয়া ও অন্য দু’‌জন সম্ভাব্য 

    মন্ত্রীকে নিয়ে বৈঠকে বললেন, সীতারাম ইয়েচুরি থেকে স্ট্যালিন বা রাহুল গান্ধী এঁদের ডেকে সবাই মিলে হাত তুলে সস্তায় বিরোধী রাজনীতি তিনি করার পক্ষে নন। তিনি এবার দিল্লির নির্বাচনে ভোটারদের বলেছিলেন, এবারের ভোট দলীয় রাজনীতির নয়। বিজেপি সমর্থক ভোট দিতে 

    পারেন, এটা উন্নয়নের ভোট। তাই এবার রামলীলাতে কেজরিওয়াল বলেছেন আমজনতাকে আসতে, তাতে বিজেপি সমর্থকেরাও আসতে পারেন, যাঁরা ভোট দিয়েছেন। কিন্তু তিনি এখনই সর্বভারতীয় বিরোধী রাজনীতি করবেন না। লোকসভা ভোট তো এখনও সাড়ে ৪ বছর বাকি। তা ছাড়া কেজরিওয়াল জানেন রাজ‍্যের হাতে সীমিত ক্ষমতা। কেন্দ্রের সঙ্গে সঙ্ঘাতে গিয়ে দিল্লিতে কাজ করা খুব কঠিন। যদি সর্বভারতীয় রাজনীতি করতে হয় তবে তা দেখা যাবে পশ্চিমবঙ্গের ভোটের পর।‌
  • Link to News (আজকাল)