• সামাজিক বয়কটের শিকার কেশপুরের প্রায় ২০০টি BJP পরিবার
    এই সময়, 11 June 2021
  • এই সময় ডিজিটাল ডেস্ক : ফের শিরোনামে কেশপুর! সামাজিক বয়কটের শিকার গোলাড়, কলাগ্রাম, মন্তা, ঝেঁতলা, বাগরুই, বাগপোতা সহ বেশ কয়েকটি গ্রামের প্রায় ২০০টি BJP পরিবার। আতঙ্কে ঘড়ছাড়া গ্রামের পুরুষরা। অভিযোগ, পাড়ার দোকানদানি থেকে জল নেওয়া- সমস্ত ক্ষেত্রেই সামাজিকভাবে বয়কট করে রাখা হয়েছে এই সমস্ত পরিবারগুলিকে। কারণ তাঁরা BJP করেন। এমনকি পরিবারের পুরুষ সদস্যদের নানারকম হুমকিও দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ। বাধ্য হয়ে আতঙ্কে গ্রাম ছেড়ে BJP কর্মীদের আশ্রয় নিতে হয়েছে দলের পার্টি অফিসে। বৃহস্পতিবার সাংবাদিকদের ক্যামেরার সামনেই কার্যত ক্ষোভে ফেটে পড়লেন অত্যাচারিত BJP কর্মীরা। কেশপুরের ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, বরাবরই রাজ্যের শাসকদলেরই প্রভাব তুঙ্গে পশ্চিম মেদিনীপুরের এই কেন্দ্রে। একসময়ে ‘লালদুর্গ’ হিসাবে পরিচিত ছিল কেশপুর।

    ২০১১ সালে রাজ্যে পালাবদলের পর ধীরে ধীরে এই লালদুর্গেও ফাটল ধরতে শুরু করে। একাধিক গ্রামে উড়তে দেখা যায় তৃণমূলের পতাকা। তারপর ২০১৬ বিধানসভা নির্বাচনে কেশপুর থেকে প্রথম জয়লাভ করেন তৃণমূলের শিউলি সাহা। এরপর কার্যত গোটা কেশপুর জুড়েই দাপট বাড়ে শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসের। তবে ২০১৯ লোকসভা নির্বাচনে যেমন গোটা রাজ্যে ছাপ ফেলেছিল BJP, তার থেকে বাদ যায়নি কেশপুরও। ওই লোকসভা ভোটের পর থেকেই কেশপুরের বিভিন্ন গ্রামে উড়তে থাকে গেরুয়া পতাকা। ২০১৯-এ লোকসভার নিরিখে কেশপুরে বিজেপি ভোট পায় ৫২,৫০০টি। তার তিন বছরের মাথায় ২০২১ বিধানসভা নির্বাচনে অবশ্য তৃণমূলেরই শিউলি সাহা বিজয়ী হন। এখানে BJP ভোট পায় ৯৫,৯০০।

    স্বাভাবিকভাবেই ভোট বেড়েছে গেরুয়া শিবিরের। যদিও রাজ্যের শাসকদলে পরিবর্তন ঘটেনি। তাই বিধানসভা ভোটের ফল প্রকাশের পর থেকেই রাজনৈতিক অস্থিরতা বেড়েছে সমগ্র কেশপুরে। অভিযোগ, ভোটের ফল প্রকাশের পর থেকেই রাজ্যের অন্যান্য প্রান্তের মতো কেশপুরেরও বিভিন্ন গ্রামে BJP কর্মীদের হামলার মুখে পড়তে হয়েছে। জরিমানা আর সামাজিক বয়কটের জেরে গ্রাম ছাড়তে হয়েছে বিভিন্ন গ্রামের BJP নেতা-কর্মীদের। জেলার মোট ৭টি ক্যাম্প অফিসে এই সমস্ত ঘরছাড়া দলীয় কর্মীদের রাখার বন্দোবস্ত করা হয়েছে BJP-র তরফে।

    প্রত্যেকেরই অভিযোগ, সামাজিক বয়কটের শিকার হতে হয়েছে তাঁদের। বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে জল, রেশন। পরিবারের সদস্যদের নানাভাবে ভয় দেখানো হচ্ছে বলেও অভিযোগ। ইতিমধ্যেই বেশ কয়েকটি পরিবারের তরফে থানায় লিখিত অভিযোগও দায়ের করা হয়েছে। কিন্তু পুলিশ কোনো ব্যবস্থা নেয়নি বলেও অভিযোগ BJP নেতৃত্বের।কেশপুরে BJP কর্মীদের উপর যে অত্যাচার নেমে এসেছে তার তীব্র নিন্দায় সরব হয়ে রাজ্যের শাসদকদলের প্রতি ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন ঘাটাল সাংগঠনিক জেলা BJP-র সভাপতি তন্ময় দাস। তাঁর অভিযোগ, বিরোধী রাজনীতি করার জন্যই এভাবে সন্ত্রাসের শিকার হতে হচ্ছে দলীয় কর্মীদের। যদিও গেরুয়া শিবিরের অভিযোগ মানতে নারাজ তৃণমূল শিবির। INTTUC- র রাজ্য সভানেত্রী দোলা সেনের পাল্টা দাবি, ‘কোথাও কেউ ঘড়ছাড়া নেই। আগে ঘড়ছাড়াদের তালিকা দিক বিজেপি। সমস্ত অভিযোগই কার্যত ভিত্তিহীন।’ কিন্তু তৃণমূল নেত্রীর এই দাবী কি আদৌ সত্য! সেই প্রশ্নই উঠছে বিভিন্ন মহলে।
  • Link to News (এই সময়)