• জগদ্ধাত্রী পুজোয় থাকছে ত্রিস্তরীয় নিরাপত্তা বলয়, কৃষ্ণনগরে উন্মাদনা
    বর্তমান | ২১ নভেম্বর ২০২৩
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, কৃষ্ণনগর: জগদ্ধাত্রী পুজো থেকে ভাসান, রেকর্ড জনসমাগম হতে পারে শহর কৃষ্ণনগরে। পরিস্থিতি সামাল দিতে সতর্ক পুলিস প্রশাসন ময়দানে নামাচ্ছে বিরাট বাহিনী। পাশাপাশি, পুজোকে কেন্দ্র করে গড়ে তোলা হচ্ছে ত্রিস্তরীয় নিরাপত্তা বলয়। পুলিস সূত্রে জানা গিয়েছে, জেলার পুলিস কর্মী, অফিসারদের সঙ্গে ভিনজেলা থেকেও কর্মী, অফিসারদের আনা হচ্ছে। জেলা ও জেলার বাইরের পুলিস মিলিয়ে অতিরিক্ত ১৫০০ পুলিস কর্মী জগদ্ধাত্রী পুজোয় মোতায়েন করা হচ্ছে। জেলার ও জেলার বাইরের পুলিস দিয়ে দু’টি নিরাপত্তা বলয় তৈরি করা হবে। আর তৃতীয় নিরাপত্তা বলয়ে থাকবে সাদা পোশাকের পুলিস। পাশাপাশি, রাখা হবে প্রযুক্তিগত নজরদারি। নিরাপত্তায় সিসি ক্যামেরার সঙ্গে ড্রোনও ব্যবহার করবে পুলিস।

    ইতিমধ্যেই শহরজুড়ে নো এন্ট্রি জারি হয়ে গিয়েছে। শহরের মোড়ে মোড়ে মোতায়েন করা হয়েছে পুলিস। আজ, মঙ্গলবার থেকে পুলিস বাহিনীর সংখ্যা বাড়ানো হবে। সেই কারণে মুর্শিদাবাদ, বারুইপুর, রানাঘাট পুলিস জেলা সহ রা঩জ্যের একাধিক জেলা থেকে পুলিস বাহিনী নিয়ে আসা হচ্ছে। কৃষ্ণনগর পুলিস জেলার বিভিন্ন থানা থেকে ৮০০পুলিস অফিসার ও কর্মীকে কৃষ্ণনগরে নিয়ে আসা হয়েছে। বাইরে থেকেও প্রায় ৭০০পুলিস কর্মী, অফিসারদের আনা হচ্ছে। সবমিলিয়ে জগদ্ধাত্রী পুজোয় শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে দেড় হাজার অতিরিক্ত পুলিস অফিসার, কর্মীকে কৃষ্ণনগরে মোতায়েন করা হচ্ছে। পুলিস সূত্রে জানা গিয়েছে, শহরের মোড়ে মোড়ে নাকা পয়েন্ট করা হচ্ছে। পদস্থ কর্তাদের নেতৃত্বে বিশেষ টহলদার বাহিনী থাকবে। আক্ষরিক অর্থেই নিরাপত্তার চাদরে শহরকে মুড়ে ফেলার নীল নকশা তৈরি। কৃষ্ণনগর পুলিস জেলার পুলিস সুপার কে অমরনাথ বলেন, দর্শকদের নিরাপত্তার জন্য যাবতীয় নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয়েছে। জেলার পুলিস বাহিনীর সঙ্গে একাধিক জেলা থেকে বাড়তি পুলিস বাহিনী আনা হয়েছে। একাধিক স্তরের নিরাপত্তা বলয় এবারের জগদ্ধাত্রী পুজোতে থাকবে। ট্রাফিক ব্যবস্থা নিয়ে বিধিনিষেধ লাগু করা হয়েছে।

    শহর কৃষ্ণনগর সেজে উঠেছে আলোয়। বিগবাজেটের থিম পুজো ও ঐতিহ্যবাহী পুজো, দু’য়ের মেলবন্ধনে সোমবার রাত থেকে পথে নেমে পড়েছেন বাসিন্দারা। বুড়িমা, কাঁঠালপোতার ছোটমা, কলেজস্ট্রিট বারোয়ারির মেজমা দর্শন করতে সোমবার দিন থেকে রাত, ভিড় দেখা গিয়েছে। সোমবারও মণ্ডপে মণ্ডপে শেষ মুহূর্তের কাজ হয়েছে। তার মধ্যেই বাঁধভাঙা উৎসাহ আর কৌতূহল দেখা গিয়েছে বাসিন্দাদের মধ্যে। প্রতিবছরই শহরজুড়ে থিমের বাহারে শহরের ভোল বদলে যায়। কিন্তু প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, এবার শহর কৃষ্ণনগর আরও মোহময় হয়ে উঠেছে। সবচেয়ে বড় কথা রাজ্যে দু’টি জায়গাতেই জগদ্ধাত্রী পুজো নিয়ে চর্চা আছে। একটি চন্দননগর ও অন্যটি কৃষ্ণনগর। চন্দননগরে ভাসান ধরে চারদিনের পুজোর আবহ থাকে। কিন্তু কৃষ্ণনগরে পুজো ও ভাসান মিলিয়ে কার্যত দু’দিনের উৎসব। ফলে, নদীয়া জেলা তো বটেই ভিনজেলা থেকে কৃষ্ণনগরে ভিড় জমে ওঠে। এবারে পুজো আয়োজনে বাড়তি জেল্লা থাকায় দর্শক সংখ্যা বাড়ার পূর্বভাস রয়েছে। সেই পরিস্থিতিতেই নিবিড় নিরাপত্তা বলয় গড়ে তুলতে চাইছে পুলিস। পাশাপাশি, সতর্কতা থাকছে ভাসানের জন্যও। ভাসানে কৃষ্ণনগরের হাইস্ট্রিটে ব্যাপক ভিড় হয়। তা সামাল দিতে হিমশিম খেতে হয় পুলিসকেও। তাই সেখানকার পাঁচ জায়গায় বসছে ওয়াচ টাওয়ার। সঙ্গে একাধিক ড্রোনের মাধ্যমে নজরদারি করা হবে। 

     নিজস্ব চিত্র
  • Link to this news (বর্তমান)