• খড়দহের প্রতারক চক্র হাজার হাজার কোটি টাকা পাচার করেছে বিদেশে
    বর্তমান | ২১ নভেম্বর ২০২৩
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাকপুর: মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার বাসিন্দাদের সঙ্গে প্রতারণা করে ‘অর্জিত’ হাজার হাজার কোটি টাকা প্রতারকচক্র কোন কোন ব্যাঙ্কের অ্যাকাউন্টে রেখেছিল, তারই খোঁজ শুরু করেছে বারাকপুর কমিশনারেটের গোয়েন্দারা। ইতিমধ্যে বেশ কয়েকটি বিদেশি ব্যাঙ্কের হদিশ পেয়েছেন তাঁরা। অধিকাংশ অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করে দেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট ব্যাঙ্কগুলির কাছে নথি চেয়ে চিঠিও পাঠানো হয়েছে। তদন্তকারীরা জানতে পেরেছেন, এই বিশাল প্রতারণা চক্রের পিছনে বড় কোনও মাথা রয়েছে। তার মাধ্যমেই সমস্ত প্রতারণা চক্রটি অপারেট হতো। ভিন রাজ্যে সে গা ঢাকা দিয়েছে বলে পুলিসের আশঙ্কা। প্রতারক চক্রের কিংপিনের খোঁজেই ভিন রাজ্যে যাচ্ছে কমিশনারেটের গোয়েন্দাদের একটি টিম। 

    খড়দহের বলরাম হাসপাতালের কাছে মধুসুদন মুখার্জি রোডের একটি বাড়ির একতলা ভাড়া নিয়ে আধুনিক অফিস বানিয়ে জাঁকিয়ে বসেছিল প্রতারণা চক্র। ২০১৯ সালে জনৈক সৈয়দ শাহাবাজ হাসান ঘরটি ভাড়া নিয়েছিল। সন্ধ্যে সাতটা থেকে সারারাত ধরে অফিস চলত। ভোরের দিকে কর্মীরা বাড়ি চলে যেত। স্থানীয় বাসিন্দাদের বক্তব্য, দামি বাইকে চেপে কর্মীরা কাজ করতে আসত। করোনার সময় অনলাইনে কারবার চালিয়েছিল প্রতারণা চক্রটি।  তদন্তে পুলিস জানতে পেরেছে, প্রতারকরা বিলাসবহুল জীবনযাপন করত। তাদের একাধিকবার দুবাই ও ব্যাঙ্কক যাওয়ারও তথ্য পুলিসের হাতে এসেছে। কেন তারা বার বার সেখানে যেত, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।  কয়েকদিন আগে দেরাদুন থেকে ছ’জনকে পুলিস গ্রেফতার করেছিল, তারা প্রত্যেকেই সেখানে পাঁচতারা হোটেলে ছিল। বিদেশে যে অ্যাকাউন্টগুলিতে টাকা রাখা হয়েছে, সেখানে প্রতারক চক্রের কোনও এজেন্ট রয়েছে কি না, সেটাও পুলিস খতিয়ে দেখছে। বিটকয়েন এবং হাওলার মাধ্যমে ওই টাকা পৌঁছেছে বলে পুলিস তদন্তে জানতে পেরেছে। কাদের মাধ্যমে হাওলার টাকা পেমেন্ট হয়েছে, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

    পুলিস সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রতারকরা মূলত ভয়েস চেঞ্জারের মাধ্যমে বিদেশিদের সঙ্গে কথা বলত। কম্পিউটারের অ্যান্টি ভাইরাসের মেয়াদ ফুরিয়ে গিয়েছে, নতুন করে অ্যান্টি ভাইরাস দেওয়ার নামে তারা লিঙ্ক পাঠাত। সেই লিঙ্ক ক্লিক করলেই অ্যাকাউন্টের বিস্তারিত চলে আসত প্রতারকদের কাছে। এরপর খড়দায় বসেই কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিত প্রতারকরা। আমেরিকা এবং কানাডার ৭০-৮০ জন প্রবীণ নাগরিকের প্রতারিত হওয়ার খবর মিলেছে। তদন্তে নেমে পুলিস জেনেছে, প্রতারণার পরিমাণ কমপক্ষে আট হাজার কোটি টাকা। এই পরিমাণ আরও বাড়তে পারে বলে তদন্তকারীদের অনুমান। সব মিলিয়ে ১৭ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বারাকপুরের গোয়েন্দা প্রধান শ্রীহরি পাণ্ডে বলেন, সমস্ত বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ধৃতদের কাছে থেকে বেশ কিছু তথ্য পাওয়া গিয়েছে। এই চক্রের সঙ্গে আর কেউ রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
  • Link to this news (বর্তমান)