• Kaliachak: কালিয়াচক থেকে উদ্ধার বস্তাভর্তি কচ্ছপের চর্বি, পাচারকারীকে জেরা করতেই তাজ্জব পুলিস
    ২৪ ঘন্টা | ২৪ নভেম্বর ২০২২
  • রণজয় সিংহ: জ্যান্ত কচ্ছপ নয়, ছক বদলে পাচারকারীরা এবার কচ্ছপের শুকনো হাড় ও চর্বি পাঠাচ্ছে বিদেশে। মালদহ থেকে কচ্ছপের হাড়, চর্বি‌-সহ ধৃত উত্তরপ্রদেশের ৩ পাচারকারীকে জেরা করে এমনই চাঞ্চল্যকর তথ্য পেয়েছে পুলিস। গোপন সূত্রে খবর পেয়ে কালিয়াচকের একটি জায়গায় হানা দেয় কালিয়াচক থানার পুলিস। গ্রেফতার করা হয় উত্তরপ্রদেশের ৩ বাসিন্দাকে। তাদের তল্লাশি করতেই উদ্ধার হয় বস্তা ভর্তি শুকনো কচ্ছপের চর্বি। পুলিস সুত্রে জানা গিয়েছে, কালিয়াচকের এক পাচারকারীকে সেগুলি দিতে এসেছিল তারা। তবে হস্তান্তরের আগেই পুলিস তাদের গ্রেফতার করে। ধৃতরা হল সুরেশ(৩০), পাপ্পু(৪০) ও নাওয়ালী(৬০)। তিন জনের বাড়ি উত্তরপ্রদেশের গোরক্ষপুর জেলায়। কালিয়াচকের মাটাবুল শেখ নামে এক পাচারকারীকে সেগুলি দিতে এসেছিল তারা।

    ধৃতদের কাছ থেকে উদ্ধার হয়েছে প্রায় ২৭০ কেজি কচ্ছপের শুকনো চর্বি। আন্তর্জাতিক চোরা বাজারে এক কেজি এই চর্বির আনুমানিক মূল্য ভারতীয় টাকায় প্রায় ১ লক্ষ টাকা।

    এতদিন জ্যন্ত কচ্ছপ উদ্ধার হয়েছে জেলার বিভিন্ন প্রান্তে। ট্রেনে করে কচ্ছপ নিয়ে আসার পথে পুলিসের জালে ধরা পড়েছে পাচারকারীরা। বারবার পুলিসের জালে ধরা পড়তে থাকায় পাচারকারীরা এখন কচ্ছপের শুকনো হাড় ও চর্বি পাচার করছে। মূলত এইগুলি বাংলাদেশে পাচার করা হয়। কচ্ছপের হাড় ও চর্বি দিয়ে বিশেষ যৌন উত্তেজক ওষুধ তৈরি হয়। বাংলাদেশ তৈরি এই ওষুধের বাজারে প্রচুর চাহিদা। মূলত তক্ষক ও কচ্ছপ থেকেই তা তৈরি হয়। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে এর ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। তাই চোরাপথে ভারত থেকে কচ্ছপ ও তক্ষক বাংলাদেশে পাঠানো হয়।

    বুধবার রাতে গ্রেফতার তিন অভিযুক্তের বিরুদ্ধে ভারতীয় দণ্ডবিধি ১৯৭২ আইনে মামলা রুজু করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার ওই তিনজনকে মালদা জেলা আদালতে পেশ করে ঘটনার তদন্ত নেমেছে কালিয়াচক থানার পুলিস। এই পাচার চক্রের সঙ্গে আরও কেউ জড়িত রয়েছে কিনা সে বিষয়ে তদন্ত শুরু করা হয়েছে।
  • Link to this news (২৪ ঘন্টা)