• ‘গ্রিন’ বাজি ছাড়া সব আতসবাজিই নিষিদ্ধ, নির্দেশিকা রাজ্যের
    বর্তমান | ২৮ অক্টোবর ২০২১
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ‘পরিবেশবান্ধব আতসবাজি’ বা ‘গ্রিন ক্র্যাকার্স’ ছাড়া অন্য সব ধরনের বাজি নিষিদ্ধ ঘোষণা করল রাজ্য দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদ। অন্য সব বাজি নিষিদ্ধ হওয়ায় তা লেনদেন ও ব্যবহার করতে দেখলে ব্যবস্থা নেবে পুলিস। মঙ্গলবার রাজ্য দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদ নির্দেশিকা জারি করে এই কথা রাজ্যের সমস্ত জেলাশাসক ও পুলিসকর্তাকে জানিয়ে দিয়েছে। শুধু তাই নয়। পরিবেশবান্ধব বাজি কেনাবেচা ও পোড়ানো গেলেও তার জন্য সময় বেঁধে দিয়েছে পর্ষদ। নির্দেশিকায় তারা জানিয়েছে, দীপাবলিতে রাত ৮টা থেকে ১০টা, ছটপুজোয় সকাল ৬টা থেকে সকাল ৮টা, বড়দিন এবং ইংরেজি নতুন বছর উপলক্ষে রাত ১১টা ৫৫ মিনিট থেকে সাড়ে ১২টা পর্যন্ত মোট ৩৫ মিনিট পরিবেশবান্ধব বাজি পোড়ানো যাবে। এই উৎসবগুলি বাদ দিলে অন্য কোনওক্ষেত্রে বাজি পোড়াতে চাইলে জেলাশাসক বা জেলার পুলিস সুপার বা পুলিস কমিশনারের কাছ থেকে বিশেষ অনুমতি নিতে হবে। সুপ্রিম কোর্ট এবং ন্যাশনাল গ্রিন ট্রাইব্যুনালের রায়ের ভিত্তিতে এই নির্দেশিকা জারি কর হয়েছে বলে জানিয়েছে পর্ষদ। নিয়মভঙ্গকারীদের বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নিচ্ছে পুলিস-প্রশাসন, তার প্রত্যেকদিনের রিপোর্ট পর্ষদে পাঠানোরও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। 

    এই নির্দেশিকা প্রকাশের পর এবারের বাজি বাজার নিয়ে দোলাচল তৈরি হয়েছে স্বাভাবিকভাবে। বাজি ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে এ প্রসঙ্গে মিশ্র প্রতিক্রিয়া পাওয়া গিয়েছে। পরিবেশের স্বার্থে এই নির্দেশিকা মেনে চলা দরকার বলে মনে করছেন তাঁরা। কিন্তু ইতিমধ্যে তাঁরা যে ‘স্টক’ করেছেন, তার কী হবে, কোন বাজি পরিবেশবান্ধব, আর কোনটা নয়—এসব সাধারণ ক্রেতা চিনবেন কীভাবে, আদৌ এই বাজির পর্যাপ্ত জোগান সম্ভব কি না —এসব প্রশ্ন তুলেছেন তাঁরা। পশ্চিমবঙ্গ বাজি শিল্প উন্নয়ন সমিতির সাধারণ সম্পাদক শুভঙ্কর মান্না বলেন, সরকারের নির্দেশ আমরা মানতে বাধ্য। কিন্তু এভাবে বাজির ব্যবসা পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যাক, তা আমরা চাই না। গ্রিন ক্র্যাকার্স বানাতে আমরাও তো অনেকদিন ধরে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। এ বিষয়ে এখনও নানা গবেষণা চলছে। গবেষণার পর তা উৎপাদন, বাজারজাত হওয়া—এসবে তো অনেকটা সময় লাগবে। সাধারণ মানুষ কীভাবে বুঝবেন কোনটা ‘গ্রিন’ আর কোনটা তা নয়? এই নির্দেশিকার পর বিক্রি করার মতো বাজি পাওয়াই মুশকিল হবে। বড়বাজার ফায়ার ওয়ার্কস ডিলার্স অ্যাসোসিয়েশনের যুগ্ম সম্পাদক শান্তনু দত্ত বলেন, আমরা তো শুধু ব্যবসা করি। যারা বাজি উৎপাদন করছে, এই নির্দেশিকা তাদের কাছে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। আমরা সরকারের নির্দেশ পুরোপুরি মানতে প্রস্তুত। 
  • Link to this news (বর্তমান)