• জিআই স্বীকৃতি দেওয়া হোক গঙ্গারামপুরের ক্ষীর দইয়ের, দরবার শুরু জেলা প্রশাসনের
    বর্তমান | ২৫ নভেম্বর ২০২২
  • সংবাদদাতা, গঙ্গারামপুর: গঙ্গারামপুরের ক্ষীর দইয়ের জিআই স্কীকৃতি নিয়ে তদ্বির শুরু করল দক্ষিণ দিনাজপুর জেলা প্রশাসন। জেলার জনপ্রিয় মিষ্টির তালিকায় সবার আগে রয়েছে গঙ্গারামপুরের নয়াবাজারের ক্ষীর দই। সারা বছর পুজো পার্বণ থেকে শুরু করে সামাজিক অনুষ্ঠানে ক্ষীর দইয়ের চাহিদা তুঙ্গে থাকে। শুধুমাত্র জেলা নয়, উত্তরবঙ্গ ও দক্ষিণবঙ্গ সহ প্রতিবেশী রাজ্যেও সমানভাবে জনপ্রিয়তা পেয়েছে এই দই। জেলা প্রশাসন এই জনপ্রিয়তার কথা মাথায় রেখেই কেন্দ্রীয় সরকারের জিওগ্রাফিক্যাল আইডেন্টিফিকেশন দপ্তরে আবেদন করেছে জিআই তকমা পেতে। 

    কোনও একটি অঞ্চলের জনপ্রিয় পণ্যকে ভৌগোলিক ভাবে চিহ্নিত করা হয়। ইতিমধ্যেই জেলার মধ্যে কুশমণ্ডির  মুখোশ জিআই তকমা পেয়েছে। রাজ্য ছাড়িয়ে আন্তর্জাতিক বাজারে বিক্রি হচ্ছে কাঠের মুখোশ। আগামিদিনে গঙ্গারামপুরের ক্ষীর দই জিআই ট্যাগ পেলে ব্যবসায়ীরা অনলাইনের দই বিক্রির মাধ্যমে ব্যবসার প্রসার ঘটাতে পারবেন। এজন্য আশায় বুক বাঁধছেন গঙ্গারামপুরের দই প্রস্তুতকারকরা। ১৯৬০’র দশকে বর্তমান বাংলাদেশের সিরাজগঞ্জ জেলার শাহজাদপুর থেকে গঙ্গারামপুরের নয়াবাজারে পরিবার নিয়ে চলে আসেন রমণী ঘোষ। ওপারে তিনি দইয়ের ব্যবসা করতেন। এপারে এসেও তিনি খাসা ও ক্ষীর খাসা দই প্রস্তুত করে বিক্রি শুরু করেন। খুব অল্প দিনের মধ্যেই সুনামের সাথে এই দইয়ের নাম ছড়িয়ে পড়তে শুরু করে। পরবর্তীতে রমণীবাবুর হাত ধরে এপারে চলে আসেন শান্তি ঘোষ, যোগেশচন্দ্র ঘোষ ও অনিল ঘোষেরা। তাঁরাও নয়াবাজারে দইয়ের ব্যবসা শুরু করেন। বর্তমানে ওপার বাংলা থেকে বহু বাঙালি এপারে এসে ক্ষীর দইয়ের ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন। বংশপরম্পরায় শতাধিক দই প্রস্তুতকারক এই পেশাকে জীবন জীবিকা হিসেবে বেছে নিয়েছেন। 

    জেলাশাসক বিজিন কৃষ্ণা বলেন, গঙ্গারামপুরের ক্ষীর দইয়ের জিওগ্রাফিক্যাল আইডেন্টিফিকেশনে জন্য জেলা প্রশাসনের তরফে আমরা আবেদন করেছি। জিআই তকমা পেলে দই ব্যবসায়ীদের সুনাম আরও ছড়িয়ে পড়বে। ব্যবসা বৃদ্ধি পেলে দই প্রস্তুতকারকরা অর্থনৈতিক ভাবে আরও এগিয়ে যাবেন।

    দই প্রস্তুতকারক রমেন ঘোষ বলেন, আমরা দীর্ঘ বছর ধরে নয়াবাজারে ক্ষীর দই প্রস্তুত করলেও এখনও পর্যন্ত কোনও সরকারি সাহায্য পাইনি। জেলা প্রশাসন আমাদের জনপ্রিয় দইয়ের জিআই তকমার জন্য আবেদন করায় আমরা ভীষণ খুশি। রাজ্যের রসগোল্লা জিআই তকমা পেয়েছে। জিআই ট্যাগ মিললে আমরা আন্তর্জাতিক বাজারে দই বিক্রি করতে পারব। দেশেও জনপ্রিয় হবে। জেলার মন্ত্রী বিপ্লব মিত্র বলেন, গঙ্গারামপুর শহরে আমার বাড়ি হওয়ায় ছোট থেকেই আমরা নয়াবাজারের ক্ষীর দইয়ের স্বাদ নিয়েছি। জেলা ছাড়িয়ে আশপাশের জেলায় ব্যাপক জনপ্রিয় ক্ষীর দই। জেলা প্রশাসন ক্ষীর দই প্রস্তুতকারকদের কথা নিয়ে ভেবে যে জিআই তকমার জন্য আবেদন করেছে, সেজন্য তাদের সাধুবাদ জানাই।
  • Link to this news (বর্তমান)