• রাস্তা মেরামতে নিম্নমানের সামগ্রী, বিক্ষোভ রাজগ্রামে
    বর্তমান | ২৫ নভেম্বর ২০২২
  • সংবাদদাতা, রামপুরহাট: গ্রামের জল নিকাশি ব্যবস্থা না থাকায় রাস্তার উপর জল জমা হচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে এই অবস্থা চলায় বেহাল হয়ে পড়ে বোলপুর রাজগ্রাম রাজ্য সড়ক। মুরারইয়ের রাজগ্রামের কাছে সেই রাস্তা সংস্কার করার কাজ শুরু হলেও তা নিম্নমানের বলে অভিযোগ উঠেছে। বৃহস্পতিবার সকালে এ নিয়ে বিক্ষোভ দেখালেন এলাকার মানুষ। তাঁদের অভিযোগ, রাতের অন্ধকারে রাস্তার কাজ করা হচ্ছে। তাতেই অনিয়ম হচ্ছে। ঠিকমতো উপকরণ দিয়ে রাস্তা তৈরি করা না হলে আন্দোলনে নামার হুমকি দিয়েছেন এলাকার মানুষজন। 

    জেলার শেষপ্রান্ত রাজগ্রাম। যোগাযোগের অন্যতম মাধ্যম হল বোলপুর রাজগ্রাম রাজ্য সড়ক। এই রাস্তা দিয়ে একদিকে ঝাড়খণ্ডের পাকুর যাওয়া যায়। অন্যদিক থেকে মহকুমা শহর রামপুরহাট ও সদর শহর সিউড়ি যাওয়া যায়। রাজগ্রামের পশ্চিমবাজারের রবিদাস পাড়া থেকে প্রায় আধ কিমি এই রাস্তায় দীর্ঘদিন ধরেই খানাখন্দের সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগ, দুধারে নিকাশি ব্যবস্থা না থাকায় বাড়ির জল রাস্তায় জমা হয়। দীর্ঘদিন জল জমে থেকে রাস্তা বেহাল হয়ে পড়েছে। তার উপরে পাথর বোঝাই ভারী যানবাহন চলাচল করে।  এই রাস্তা দিয়ে মুরারই হাসপাতাল, থানা, বিডিও অফিস সহ সরকারি বিভিন্ন কার্যালয় যাওয়া যায়। পথ চলতে দুর্ভোগের মুখ পড়ছিলেন এলাকার মানুষজন। প্রায়ই টোটো উল্টে জখম হচ্ছিলেন যাত্রীরা। তেমনি লরির যন্ত্রাংশ বিকল হয়ে দাঁড়িয়ে যাওয়ায় যানজটের সৃষ্টি হচ্ছিল। এই নিয়ে মানুষের ক্ষোভ বাড়ছিল। অবশেষে পঞ্চায়েত নির্বাচনের আগে নলহাটি থেকে রাজগ্রাম পর্যন্ত ৩১ কিমি এই রাস্তা সংস্কারের জন্য প্রায় দশ কোটি টাকা বরাদ্দ করে সরকার। সেই মতো কাজও শুরু করেছে পিডব্লুডি রোডস। 

    কিন্তু অভিযোগ, সেই কাজ অত্যন্ত নিম্নমানের করা হচ্ছে। এরই প্রতিবাদে এদিন রাজগ্রামে বিক্ষোভ দেখায় স্থানীয় মানুষজন। স্থানীয় বাসিন্দা আনোয়ার হোসেন, ফজল শেখ, মুজিবর শেখরা বলেন, খানাখন্দে আগেই পঞ্চায়েতের পক্ষ থেকে পাথরের ধুলো ফেলে বোজানো হয়েছিল। সেই ধুলোর উপরই পিচ পাথরের আধ ইঞ্চির প্রলেপ দেওয়া হচ্ছে। যেগুলি হাত দিয়ে তোলা যাচ্ছে। রাতের অন্ধকারের সুযোগকে কাজে লাগিয়ে অত্যন্ত নিম্নমানের কাজ করা হচ্ছে। এদিন বিক্ষোভের খবর পেয়ে ঠিকা সংস্থার লোকজন এসে ওই রাস্তার উপর পুনরায় রাস্তা করার আশ্বাস দিলে মানুষজন চলে যায়। যদিও ঠিকমতো রাস্তা না হলে আন্দোলনে নামার হুমকি দিয়েছেন তাঁরা।  যদিও  পিডব্লডি রোডসের জেলা এগজিকিউটিভ ইঞ্জিনিয়ার নাজির আহমেদ বলেন, রাজগ্রামের ওই এলাকায় রাস্তায় কংক্রিটের ব্লক বসানো হবে। 

    তার জন্য অতিরিক্ত প্রায় ১২ লক্ষ টাকার টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছে। কিন্তু তাহলে এখন কেন পিচের রাস্তা করা হচ্ছে? নাজির সাহেব বলেন, যদি পিচের রাস্তা করে থাকে তাহলে ঠিকাদার সংস্থা তার জন্য কোনও টাকা পাবে না। ওখানে পিচের রাস্তা টিকবে না।
  • Link to this news (বর্তমান)