• খেজুরিতে তৃণমূলের সমাবেশে জনজোয়ার, ব্যাকফুটে বিজেপি
    বর্তমান | ২৫ নভেম্বর ২০২২
  • শ্রীকান্ত পড়্যা, খেজুরি: বৃহস্পতিবার হার্মাদমুক্ত দিবসে খেজুরির মাটিতে জমায়েতের নিরিখে বিজেপিকে পিছনে ফেলল তৃণমূল। এদিন সকালে খেজুরির কামদেবনগর থেকে আশাভবন বাসস্টপ পর্যন্ত মিছিল করে বিজেপি। রাষ্ট্রপতি সম্পর্কে অখিল গিরির মন্তব্যকে হাতিয়ার করেই এদিন ওই মিছিলের ডাক দেওয়া হয়েছিল। সেখানে বিরোধী দলনেতার পাশাপাশি খেজুরির বিধায়ক শান্তনু প্রামাণিক সহ অন্যান্য বিজেপি নেতারা অংশ নেন। বিকেলে বারাতলায় খেজুরি কলেজ ময়দানে হার্মাদমুক্ত দিবস স্মরণে সভা ছিল তৃণমূলের। সকালে বিজেপির মিছিলের কয়েকগুণ বেশি জমায়েত করে খেজুরির মাটিতে পদ্ম শিবিরকে টেক্কা দিল শাসক দল। এদিন ওই সভা থেকে বিজেপির পাশাপাশি বিরোধী দলনেতাকে আক্রমণ করেন কুণাল ঘোষ, অখিল গিরি, জ্যোতির্ময় করের মতো তৃণমূল নেতারা। সাম্প্রতিক অতীতে খেজুরির মাটিতে এতবড় সভা করতে পারেনি তৃণমূল। এদিনের জমায়েত পঞ্চায়েত ভোটের আগে স্থানীয় নেতা-কর্মীদের অক্সিজেন জোগাবে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।

    এদিনের সভায় তৃণমূলের রাজ্য সাধারণ সম্পাদক কুণাল ঘোষ বলেন, বুকে দম থাকলে এতবড় মাঠে সভা করা যায়। সকালে বিজেপির মিছিলে শ’তিনেক লোক ছিলেন। বিকেলে খেজুরির কলেজ ময়দান কালো মাথায় ঢেকে গিয়েছে। এই ভিড় স্পষ্ট জানিয়ে দিচ্ছে, খেজুরি কোন দিকে রয়েছে। তিনি বলেন, একসময় যারা খেজুরিকে অশান্ত করেছে, সেইসব হার্মাদরাই বিরোধী দলনেতার সঙ্গে আছে। বিজেপি তাদের আশ্রয় দিয়েছে। তাদের নিয়েই বিরোধী দলনেতা হার্মাদমুক্ত দিবসে মিছিল করছেন। কেন্দ্রীয় বাহিনীর কনভয়কে ঢাল করে বিজেপি নেতারা এলাকায় বোমা সাপ্লাই করছে। আমরা ওইসব গাড়ি চেকিংয়ের দাবি করছি।

    এদিনের সভায় কুণাল ঘোষ আরও বলেন, অখিল গিরিকে ধারাবাহিকভাবে উত্ত্যক্ত করায় তিনি কিছু মন্তব্য করে ফেলেছেন। দলও এই বক্তব্যকে সমর্থন করে না। এনিয়ে অখিল গিরি দুঃখপ্রকাশ করেছেন। স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রীও দুঃখপ্রকাশ করেছেন। তাই ওই চ্যাপ্টার এখন ক্লোজড। কিন্তু, বিরোধী দলনেতা জঙ্গলকন্যা বীরবাহা হাঁসদাকে তাঁর জুতোর তলায় থাকার কথা বলেছেন। যদি চন্দ্র, সূর্য থাকে তাহলে ওই বীরবাহার জুতো পালিস করিয়ে ছাড়ব। এই চ্যাপ্টার খোলা রইল। এই অখিল গিরি কারামন্ত্রী থাকাকালীন ওঁকে জেলে ঢোকাব। আমার কাঁধে বন্দুক রেখে সারদায় চুরি করেছে। আমি সাড়ে তিন বছর জেল খাটার পরও বুকে দম রেখে এই মঞ্চে আছি। ভয়ে তিনি বিজেপিতে যোগ দিয়েছেন। বিজেপি লড়াইয়ের নজর ঘোরাতে চাইছে। ওরা ভাষার লড়াইয়ে নেমেছে। মানুষের দৈনন্দিন জীবনে সমস্যা এড়িয়ে যাচ্ছে। পেট্রল, ডিজেল, রান্নার গ্যাসের দাম কেন বাড়ছে, এসব নিয়ে বিজেপির মুখে কোনও কথা নেই। পুরনো দিনের বিজেপি কর্মীরা অধিকারীদের বিরুদ্ধে তৃণমূলে ফিরে আসছেন। নন্দীগ্রামে জয়দেব দাসের মতো নেতারা বিজেপি ছেড়ে তৃণমূলে ফিরেছেন। খেলা তো সবে শুরু। ওরা ডিসেম্বরে খেলার কথা বলছে। আগামী ৩ ডিসেম্বর কাঁথিতে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সভা। সেদিন আসল খেলা হবে।

    মিঠুন চক্রবর্তী সম্পর্কে কুণাল ঘোষ বলেন, উনি সিনেমায় নাম লেখানোর মতো দলে নাম লেখান। নকশাল থেকে সিপিএম, তৃণমূল থেকে বিজেপি কোনও দল বাদ নেই। এখন শুধু এসইউসি করার অপেক্ষা। উনি নায়ক হিসেবে বাংলার গর্ব। কিন্তু, নেতা হিসেবে বাংলার কলঙ্ক।
  • Link to this news (বর্তমান)