• মন্দিরে ঢুকে শৌচকর্ম-তাণ্ডব! কিশোরকে আক্রমণ করতেই জনতার পিটুনিতে প্রাণ গেল ভাল্লুকের
    এই সময় | ২৫ নভেম্বর ২০২১
  • এই সময় ডিজিটাল ডেস্ক: বেশ কয়েকদিন ধরেই শোনা যাচ্ছিল চা বাগানে ভাল্লুকের আনাগোনা শুরু হয়েছে। কিন্তু তার পরিণতি যে এমন হবে ভাবেননি এলাকার বাসিন্দারা। বুধবার ওই ভাল্লুকের ছবি তুলতে গিয়ে মৃত্যু হল এক কিশোরের। বুধবার জলপাইগুড়ি জেলার ডুয়ার্সের মেটেলি চা বাগানের ঘটনা। পুলিশ জানিয়েছে, মৃত জীবেশ খালকো (১৭) স্থানীয় বাসিন্দা। ঘটনার পর থেকেই এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়েছে। এমন ঘটনা এর আগে কখনও ঘটেনি বলে জানিয়েছেন বাসিন্দারা। ঘটনাস্থলে গিয়েছেন গরুমারা বন্যপ্রাণ বিভাগের আধিকারিকেরা।

    বুধবার জলপাইগুড়ি জেলার ডুয়ার্সের মেটেলি চা বাগানের ঘটনা। পুলিশ জানিয়েছে, মৃত জীবেশ খালকো (১৭) স্থানীয় বাসিন্দা। ঘটনার পর থেকেই এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়েছে। এমন ঘটনা এর আগে কখনও ঘটেনি বলে জানিয়েছেন বাসিন্দারা। ঘটনাস্থলে গিয়েছেন গরুমারা বন্যপ্রাণ বিভাগের আধিকারিকেরা।

    স্থানীয় সুত্রে জানা গিয়েছে, মেটেলি চা বাগান এলাকায় গত দু’দিন ধরেই ভাল্লুকটি দেখা যাচ্ছিল। ভাল্লুক দেখতে প্রায় রোজই চা বাগানে ভিড় করছিলেন এলাকার বাসিন্দারা। এ দিনও চা বাগানের কিছু কিশোর ভাল্লুক দেখতে আসে। তাদের সকলের সঙ্গেই ছিল মোবাইল ফোন। সেই ফোনেই তাঁরা ভাল্লুকের ছবি তোলার চেষ্টা করছিল। কেউ কেউ ভিডিও করছিল। এমন করতে করতেই কিশোর দলটি এক সময় ভাল্লুকের একেবারে সামনে চলে যায়। হঠাৎই আক্রমণ করে বসে ভাল্লুকটি। বেশির ভাগ কিশোর পালিয়ে গেলেও জীবেশকে ধরে ফেলে ভাল্লুক। রীতিমতো খুবলে খেয়ে গুরুতর জখম অবস্থায় জীবেশকে ফেলে রেখে চলে যায় ভাল্লুকটি। পরে মৃত অবস্থায় উদ্ধার করা হয় কিশোরকে। পুলিশ দেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠায়। কিন্তু, এরপরই চা বাগানের এমন ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকা জুড়ে চাঞ্চল্য ছড়ায় । ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে চা শ্রমিকরা। বনকর্মীরা পৌঁছানোর পর ভাল্লুকটিকে তাড়ানোর চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়। অবস্থা নিয়ন্ত্রণে আনতে গরুমারা বন্যপ্রাণী বিভাগের বনকর্মীরা ভাল্লুকটির হাত থেকে মানুষকে বাঁচাতে গুলি চালায়। কিন্তু, তাতে কোনও লাভ হয়নি। কিশোরের মৃত্যুর পর উত্তেজিত জনতা পিটিয়ে মেরে ফেলে ভাল্লুকটিকে। অন্য একটি সূত্রের দাবি, বনকর্মীদের গুলিতেই ভাল্লুকের মৃত্যু হয়েছে। রাজ্যের প্রধান মুখ্য বনপাল (বন্যপ্রাণ) দেবল রায় জানান, মেটেলি চা বাগানে ভাল্লুক একজন ছাত্রকে মেরে ফেলেছে।উত্তেজিত জনতা ভাল্লুকটিকে পিটিয়ে মেরেছে।জনতার আক্রোশ থেকে ভাল্লুককে বন দফতর বাঁচাতে পারেনি। ভাল্লুককে গুলি করে মারার ঘটনা অস্বীকার করেছেন দেবল রায়।

    গরুমারা বন্যপ্রাণ বিভাগের বনকর্মীদের দাবি, মেটেলি চা বাগান-সহ পাশ্ববর্তী এলাকায় এর আগে কখনও ভাল্লুক-মানুষের সংঘাতের ঘটনা ঘটেনি। দীর্ঘদিন ধরেই এই ভাল্লুকটির অস্তিত্বের ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছিল। কখনও কখনও দেখাও যাচ্ছিল। কিন্তু, এদিনের ঘটনা হতবাক করে দিয়েছে গোটা এলাকাকে। বন্যপ্রাণ দফতরের তরফেই বার বার এলাকার বাসিন্দাদের সতর্ক করা হয়েছিল। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক বন কর্মী বলেন, ‘এমন সংঘাতের আশঙ্কা করা হচ্ছিল বন দফতরের তরফে। তাই বাসিন্দাদের বারবার ভাল্লুকের কাছে যেতে নিষেধ করা হয়েছিল। এত তাড়াতাড়ি যে আশঙ্কা সত্যি হবে ভাবতে পারিনি।’

    এ ঘটনার জন্য সাধারণ মানুষের সচেতনতার অভাবকেই দায়ী করছেন বনকর্মীরা। তাঁরা মনে করছেন, হাতে হাতে মোবাইল ক্যামেরা এবং সমাজমাধ্যমে এক্সক্লুসিভ ছবি দেওয়ার তাগিদেই এ ধরণের ঘটনা ঘটছে বারবার। দক্ষিণবঙ্গে হাতির ক্ষেত্রেও এমন ঘটনা ঘটেছে এর আগে।

    এ দিকে দার্জিলিঙের সেঞ্চেল অঞ্চলে এক মন্দিরে ঢুকে পুজোর ফল, তেল, ঘি এমনকি মোমবাতিও খেয়ে ফেলেছে একটি ভাল্লুক। এমনই অভিযোগ করেছেন মন্দির কমিটির লোকজন।

    মঙ্গলবার রাতে সিঞ্চেল অভয়ারণ্য থেকে বেরিয়ে একটি ভাল্লুক স্থানীয় একটি মন্দিরে ঢুকে পড়ে। বুধবার সকালে মন্দিরের পুরোহিত এসে দেখেন চারদিন অপরিচ্ছন্ন, অবিন্যস্ত। চুরির ঘটনা ভেবে তিনি খবর দেন মন্দির কমিটিকে। কমিটির কর্তা ব্যক্তিরা মন্দিরের সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখে আঁতকে ওঠেন। দেখা যায়, একটি ভাল্লুক মন্দিরে ঢুকে সব খেয়ে ফেলছে। তবে অত কিছু খাওয়ার পর বেশি দূরে যেতে পারেনি সে। মন্দিরেই শৌচকর্ম সেরে ফেলে। সকালে সেই নোংরাই দেখতে পেয়েছেন পুরোহিত।

    এরপরে তাঁরা খবর দেন বন দফতরের দার্জিলিং বিভাগে। বিষয়টি খতিয়ে দেখছে বন্যপ্রাণ বিভাগ। এর আগেও সিঞ্চেল, তাকদাহ ও দার্জিলিংয়ের একাধিক জায়গায় ভাল্লুকের দেখা মিলছে। সম্প্রতি ১৮ অক্টোবর তিব্বতি উদ্বাস্তু শিবিরের কাছে একটি হিমালয়ান ব্ল্যাক বিয়ার খাঁচা বন্দি হয়। এরপর ফের সিসি ক্যামেরায় ভাল্লুকের ছবি ধরা পরায় আতঙ্ক ছড়িয়েছে।
  • Link to this news (এই সময়)