• 'সোনিয়ার সঙ্গে দেখা করতেই হবে নাকি!'
    এই সময় | ২৫ নভেম্বর ২০২১
  • এই সময়, কলকাতা ও নয়াদিল্লি: দিল্লিতে এলেই সোনিয়া গান্ধীর সঙ্গে দেখা করার কোনও বাধ্যবাধকতা তাঁর নেই বলে সাফ জানালেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। পাঞ্জাবের নির্বাচন নিয়ে কংগ্রেস নেতৃত্ব ব্যস্ত থাকায় সনিয়ার সঙ্গে দেখা করার কোনও সময় তিনি চাননি বলেও জানিয়েছেন তৃণমূলনেত্রী। তিন দিনের দিল্লি সফরে শুধু প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে সাক্ষাতেরই সূচি পূর্বনির্ধারিত ছিল বলে জানিয়েছেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী।

    তৃতীয়বার বাংলার মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পরে তাঁর প্রথম দিল্লি সফরে প্রধানমন্ত্রীর পাশাপাশি সোনিয়ার সঙ্গেও দেখা করেছিলেন মমতা। ১০ জনপথে সেই বৈঠকে সোনিয়ার সঙ্গে ছিলেন রাহুল গান্ধীও। ফলে এ বারও মমতার দিল্লি সফরে তাঁর সঙ্গে সনিয়ার দেখা হয় কি না, তা নিয়ে কৌতূহল ছিল রাজধানীর রাজনৈতিক মহলে। কিন্তু বুধবার সন্ধ্যায় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ সেরে সংবাদমাধ্যমকে মমতা জানিয়ে দেন, সনিয়ার সঙ্গে তাঁর সাক্ষাতের কোনও সূচি ছিল না। তাঁকে আবার এ ব্যাপারে প্রশ্ন করা হলে মমতা কিঞ্চিৎ উষ্মা প্রকাশ করেই বলেন, 'প্রতিবারে দেখা করার কোনও বিষয় রয়েছে? এটা কি বাধ্যতামূলক নাকি? এটা কি কনস্টিটিউশনাল প্রভিশন নাকি? আমি বলেছি, আমি কোনও সময় চাইনি। ওঁরা পাঞ্জাবের নির্বাচন নিয়ে ব্যস্ত রয়েছেন। ওঁদের দলের কাজ নিয়ে ওঁদের ব্যস্ত থাকতে দিন।' কংগ্রেস হাইকম্যান্ডের কাছ থেকে অবশ্য মমতার কথার কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

    মমতার প্রথম দিল্লি সফরে সোনিয়ার সঙ্গে তাঁর বৈঠক হলেও, ভবানীপুর উপনির্বাচনের সময় থেকেই দুই কংগ্রেসের সম্পর্ক আগের মতো মসৃণ নেই। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় একাধিকবার কংগ্রেস নেতৃত্বের সমালোচনা করেছেন। লাগাতার ভোটে কংগ্রেস বিজেপিকে রুখতে পারছে না বলে তৃণমূলের সর্বস্তরের নেতারা অভিযোগ করেছেন। এই রাজনৈতিক পটভূমিতে মমতা এদিন বলেছেন, 'আমি কারও সময় চাইনি। আমি শুধু রাজ্যের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ চেয়েছিলাম। আমি জানি, পাঞ্জাবে নির্বাচন রয়েছে। ওঁরা (কংগ্রেস নেতৃত্ব) ব্যস্ত রয়েছেন।'

    প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অধীর চৌধুরী অবশ্য এদিন দিল্লিতে অভিযোগ করেছেন, কংগ্রেসকে ভাঙার জন্য প্রধানমন্ত্রী তৃণমূলনেত্রীকে পরামর্শ দিয়ে থাকতে পারেন। অধীরের কথায়, 'প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ওঁর কী গোপন কথা হয়েছে কে জানে! হয়তো কংগ্রেসকে ভাঙতে কী কী করতে হবে, প্রধানমন্ত্রী সেই পরামর্শ দিয়েছেন।' অধীরের এই অভিযোগ অবশ্য ধর্তব্যের মধ্যেই আনতে চাননি মমতা। তাঁর প্রতিক্রিয়া, 'আমাদের ব্লক প্রেসিডেন্ট এই সব প্রশ্নের উত্তর দেবে।' ঘটনা হলো, হালে লুইজিনহো ফেলেইরো, কীর্তি আজাদ, সুস্মিতা দেব-সহ একদল কংগ্রেস নেতা তৃণমূলে এসেছেন। এ ব্যাপারে তৃণমূলের অবস্থান স্পষ্ট করে মমতা বলেছেন, 'কেউ যদি তাঁর নিজের দল ছেড়ে আসেন, সেটা তাঁর সিদ্ধান্ত। আমরা কোনও দলকে ভাঙা-গড়ার কাজ করছি না। কেউ যদি আসে এটা তো ভালোই।'
  • Link to this news (এই সময়)