• Communal Harmony: মৃত হিন্দুদের জন্য ৩৫ বছর ধরে সমাধি বানিয়ে চলেছেন বরিশালের তাহের আলি   
    আজকাল | ২৬ নভেম্বর ২০২১
  • আজকাল ওয়েবডেস্ক: দুর্গাপুজোর সময় বাংলাদেশে সাম্প্রদায়িক অশান্তির ঘটনায় বিচলিত হয়েছিল দুই বাংলাই। শেখ হাসিনার সরকার কড়া হাতে ব্যবস্থা নিয়েছিল। কিন্তু এটা পরিষ্কার হয়ে গেছিল, এক শ্রেণির মানুষ এখনও ধর্মের নামে হানাহানিকেই জীবনের লক্ষ্য বানিয়ে নিয়েছে। আবার তাহের আলি খানের মতো মানুষও আছেন। পেশায় রাজমিস্ত্রি ধর্মপ্রাণ মুসলমান তাহের তাঁর শিল্পীসত্তাকে উৎসর্গ করেছেন শ্মশানে মারা যাওয়া হিন্দুদের সমাধিসৌধ ও মঠ তৈরিতে। দেশের সবথেকে বড় বরিশাল মহাশ্মশানে পরম মমতায় তিনি বহু বছর ধরে তৈরি করেছেন দশ হাজারের বেশি সমাধিসৌধ ও মঠ। তাঁর বানানো সমাধিসৌধে এখন ভরে গেছে বরিশাল মহাশ্মশান।

    হিন্দু শ্মশানে কাজ করেন বলে নিজের ধর্মকে একেবারেই ভুলে যাননি তাহের আলি। ৬০ বছর বয়সী এই ধর্মপ্রাণ মানুষটি প্রতিদিনই পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়েন এবং ইসলামের যাবতীয় অনুশাসন মেনে চলেন। কট্টরপন্থীদেরা অবশ্য দাবি, যে শ্মশানে কাজ করে তার নমাজ কবুল হয় না। কিন্তু নিজের কাজ ও বিশ্বাস সম্পর্কে পূর্ণ ওয়াকিবহাল তাহের আলি এএফপিকে জানিয়েছেন, ‘আমাদের নবি সৎ কাজ করে জীবিকানির্বাহ করতে বলেছেন। তিনি আমাদের চুরি করা, অন্যকে আঘাত বা কোনও অপরাধ করা থেকে বিরত থাকতে নির্দেশ দিয়েছেন। আমি এখানে হিন্দুদের সমাধি নির্মাণের কাজ করি। এতে আমি এমন কিছু দেখি না, যা আমার ধর্ম আমাকে নিষেধ করে।

    দুর্গাপুজোর সময় সাম্প্রাদায়িক হিংসার ঘটনায় মন ব্যাকুল হয়েছে তাহের আলির। তিনি জানান, ‘আমি হিন্দুদের আমার ভাই ও বোন মনে করি। তাঁরা আমার কাজের জন্য আমাকে ভালোবাসেন। আমি তাদের প্রতিটি সমাধি বানাই একেবারে হৃদয় থেকে। কারণ প্রত্যেকেই তাদের মৃত আপনজনদের জন্য সুন্দর কিছু তৈরি করতে চায়।’

    তাহের আলির বেশিরভাগ সময়ই কাটে এই শ্মশানে। অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ার চিতার স্থান পেরিয়ে অলঙ্কৃত সমাধি-মন্দিরে কাজ করেন তিনি। ছোট স্মৃতিস্তম্ভগুলো তাহের বানান কংক্রিটের স্ল্যাব দিয়ে, যা অনেকটা পশ্চিমি ধাঁচের সমাধি পাথরের মতো। এসব সমাধির নীচে মৃতদের ছাইচাপা দেওয়া। এ ছাড়া তিনি মঠও তৈরি করেন। টানা ৩৫ বছর ধরে এই কাজ করে আসছেন তিনি। 
  • Link to this news (আজকাল)