• কালিয়াচকে প্রচুর মাদক বাজেয়াপ্ত, গ্রেপ্তার ৩
    বর্তমান | ২৬ নভেম্বর ২০২১
  • সংবাদদাতা, মালদহ: ফের মালদহের কালিয়াচক থেকে উদ্ধার হল বিপুল পরিমাণ মাদক। অভিনব কায়দায় লরিতে করে লুকিয়ে নিয়ে আসা ওই মাদক উদ্ধার হয়েছে রাজ্য পুলিসের স্পেশাল টাস্ক ফোর্সের এক বিশেষ অভিযানে। গ্রেপ্তার করা হয়েছে প্রতিবেশী রাজ্য অসমের একজন ও মুর্শিদাবাদের দুই বাসিন্দাকে। মাত্র সাতদিন আগেই জেলা পুলিসের রাতভর অভিযানে উদ্ধার হয়েছিল বিপুল পরিমাণ মাদক। এত অল্প সময়ের মধ্যে বারবার মাদক পাচারের দুঃসাহসিক চেষ্টা ভাবাচ্ছে জেলা পুলিস কর্তা ও গোয়েন্দাদের। মালদহকে মাদক পাচারের করিডর হিসেবে ব্যবহার করা রুখতে কোমর বেঁধে লাগাতার অভিযান চালাতে চাইছে রাজ্য পুলিসের বিভিন্ন শাখা। 

    পুলিস সূত্রে জানা গিয়েছে, গোপন সূত্রে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে বৃহস্পতিবার ভোররাতে কালিয়াচক থানার বালিয়াডাঙা মোড়ে একটি লরিকে থামায় রাজ্যে পুলিসের এসটিএফ আধিকারিকদের একটি দল। ওই গাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে উদ্ধার হয় ১ কেজি ৯ গ্রাম ব্রাউন সুগার ও প্রায় ১৪ হাজার ইয়াবা ট্যাবলেট। ওই গাড়িটির ইঞ্জিনের কাছে খুব সন্তর্পণে লুকিয়ে রাখা ছিল মাদকের প্যাকেটগুলি। সেগুলি খুঁজে বের করে বাজেয়াপ্ত করেন এসটিএফ আধিকারিকরা। 

    ওই লরিটি মণিপুর থেকে মালদহে আসছিল বলে পুলিস সূত্রে জানা গিয়েছে। ওই গাড়ি থেকে তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। ধৃতদের মধ্যে রয়েছে অসমের বঙ্গাইগাঁও জেলার বাসিন্দা রুহুল আমিন মির্জা। এছাড়াও মুর্শিদাবাদের সুতি থানা এলাকার বাসিন্দা সামায়ুন শেখ ও রন্টু সিংহ। তিনজনকেই জেলা পুলিসের হাতে তুলে দিয়েছে এসটিএফ। 

    কালিয়াচক থানার এক আধিকারিক বলেন, মাদক পাচার চক্রের সঙ্গে আর কারা যুক্ত তা জানতে ধৃতদের নিজেদের হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। অসমের ওই বাসিন্দাকে এসটিএফ তদন্তের প্রয়োজনে মণিপুরেও নিয়ে যেতে পারে বলে পুলিস সূত্রে খবর। 

    উল্লেখ্য, ১৮ নভেম্বর রাতে মালদহের কালিয়াচক ও মোথাবাড়ি থানার বিভিন্ন এলাকায় ব্যাপক অভিযান চালায় জেলা পুলিস। ওই অভিযানে উদ্ধার হয়েছিল প্রায় ২ কেজি ৮০০ গ্রাম ব্রাউন সুগার। গ্রেপ্তার করা হয়েছিল তিনজনকে। তাদের মধ্যে মণিপুরের এক বাসিন্দাও ছিল। 

    মালদহের পুলিস সুপার অলোক রাজোরিয়া বলেন, আমরা জানতে পেরেছি এসটিএফের অভিযানে বিপুল পরিমাণ মাদক সহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পুলিসের পাশাপাশি এসটিএফও মাদক পাচারের বিরুদ্ধে লাগাতার অভিযান চালাচ্ছে। আমরা লক্ষ্য করেছি, মাদক পাচার চক্রের মূল ঘাঁটি রয়েছে মণিপুরে। মণিপুর পুলিসের সঙ্গে যোগাযোগ করেছি। একই সঙ্গে নারকোটিকস কন্ট্রোল ব্যুরোও যদি বিষয়টি নিয়ে বিশেষভাবে অভিযান চালায় তবে এই পাচারচক্রের চাঁইদের গ্রেপ্তার করতে সমস্যা হবে না। প্রাথমিকভাবে জানতে পেরেছি মণিপুর থেকে ওই মাদক মালদহ হয়ে মুর্শিদাবাদে পাঠানোর চেষ্টা হচ্ছিল। তার আগেই এসটিএফের জালে ধরা পড়েছে পাচারকারীরা। 

    পুলিস সূত্রে জানা গিয়েছে, মালদহে পুলিস ও প্রশাসনের তৎপরতায় বেআইনি পোস্ত চাষ কার্যত নির্মূল হওয়ার ফলে মাদকের কাঁচামালের মূল জোগান আসছে উত্তর-পূর্বাঞ্চলের কয়েকটি রাজ্য থেকে। তারমধ্যে অন্যতম হল মণিপুর। তাই মণিপুর পুলিসের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে সমন্বয় রাখা হচ্ছে। পুলিস সূত্রে জানা গিয়েছে, মালদহের কালিয়াচকের বিভিন্ন অংশেও মণিপুর থেকে নিয়ে আসা ব্রাউন সুগার প্রক্রিয়াকরণ করা হয়। তারপরে নিষিদ্ধ বাজারে চড়া দামে বিক্রি হয় ওসব। অন্যদিকে, মাদক হিসেবে জনপ্রিয় বিভিন্ন রঙের সুগন্ধী ইয়াবা ট্যাবলেট। যা প্রতি পিস ১৫ টাকা থেকে ২৫ টাকা করে বিক্রি করা হয় বলে জানান এক পুলিস আধিকারিক। তবে ওই ট্যাবলেট বাংলাদেশে পাচার করা গেলে সেগুলির দাম একলাফে প্রায় তিন থেকে চারগুণ বেড়ে যায় বলেও জানিয়েছেন ওই আধিকারিক।  
  • Link to this news (বর্তমান)