• মালদহে ১০০ দিনের কাজে দুর্নীতির অভিযোগ, তদন্তে এল কেন্দ্রীয় দল
    বর্তমান | ২৬ নভেম্বর ২০২১
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, মালদহ: একশো দিনের কাজের প্রকল্পে ওঠা ‘দুর্নীর্তি’র অভিযোগের তদন্তে বৃহস্পতিবার মালদহে এল কেন্দ্রীয় দল। দুই সদস্য বিশিষ্ট ওই প্রতিনিধি দল এদিন ইংলিশবাজার ব্লকের নরহাট্টা গ্রাম পঞ্চায়েতে যান। সেখানে পঞ্চায়েতে গিয়ে সংশ্লিষ্ট প্রকল্পের ব্যাপারে বিস্তারিত খোঁজখবর নেন। কাগজপত্র খতিয়ে দেখার পাশাপাশি তাঁরা প্রকল্প এলাকাও পরিদর্শন করেন। এদিকে, কেন্দ্রীয় প্রতিনিধিদলের তদন্ত নিয়ে জেলা প্রশাসনের অন্দরে জোর চর্চা শুরু হয়েছে। তাঁরা দিল্লি ফিরে কী রিপোর্ট দেন, সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছেন জেলা প্রশাসনের কর্তারা। এদিন তদন্তের ব্যাপারে অবশ্য প্রতিনিধি দলের সদস্যরা কোনও মন্তব্য করতে চাননি। 

    ইংলিশবাজারের বিডিও সৌগত চৌধুরী বলেন, নরহাট্টা গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায় ১০০ দিনের কাজ নিয়ে কিছু অভিযোগ দিল্লিতে জমা পড়েছিল। সেকারণেই এদিন কেন্দ্রীয় গ্রামোন্নয়ন মন্ত্রক থেকে দু’জন তদন্তে আসেন। তাঁরা অভিযোগকারীকে সঙ্গে নিয়ে প্রকল্প এলাকা পরিদর্শন করেন। অভিযোগের তেমন সারবত্তা পাওয়া যায়নি। প্রকল্প রূপায়ন নিয়ে তাঁরা সন্তুষ্ট বলে কেন্দ্রীয় প্রতিনিধি দলের সদস্যরা আমাদের জানিয়েছেন। সবদিক খতিয়ে না দেখেই অভিযোগ করেছিলেন বলে এদিন তদন্তকারীদের সামনে অভিযোকারী স্বীকারও করে নেন। উল্লেখ্য, একশো দিনের কাজের প্রকল্পে এবার মালদহ জেলা খুব একটা ভালো জায়গায় নেই। এব্যাপারে রাজ্যের বেশ কয়েকটি জেলা মালদহকে টেক্কা দিয়ে সাফল্যের তালিকায় প্রথম দিকে রয়েছে। তৃণমূল স্তরে প্রকল্প রূপায়ন নিয়ে রাশি রাশি অভিযোগ জেলায় জমা পড়ার কারণে প্রশাসন এব্যাপারে কিছুটা ধীরে চলো নীতি নিয়েছিল বলে আধিকারিকরা স্বীকার করে নিয়েছেন। সেই কারণে জেলায় প্রকল্পের গতি শ্লথ হয়ে পড়ে। অভিযোগ, সরকারী কর্মী-আধিকারিক, জনপ্রতিনিধি এবং ঠিকাদারদের একাংশের আঁতাতের কারণে প্রকল্পে দুর্নীতির শিকড় ছড়িয়েছিল। কিছু কিছু ক্ষেত্রে অভিযোগের সত্যতা আধিকারিকরা খুঁজেও পান। তদন্ত চালিয়ে জেলা প্রশাসনের তরফে বেশ কিছু পদক্ষেপও গ্রহণ করা হয়। যদিও এব্যাপারে আধিকারিকরা বিস্তারিত কিছু জানাতে চাননি। তবে প্রকল্পে দুর্নীতি যে বরদাস্ত করা হবে না, তা স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়। 

    এদিকে, জেলায় ফের প্রকল্পে গতি আনতে সম্প্রতি শ্রম দিবস বাড়ানোর উপর জোর দেওয়া হয়। চলতি আর্থিক বছরের লক্ষ্যমাত্রা ডিসেম্বর মাসের মধ্যে পূরণ করার জন্য ব্লকগুলিকে জেলা প্রশাসনের তরফে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ফের মালদহকে রাজ্যের প্রথম সারির জেলাগুলির সঙ্গে এক আসনে বসানোর লক্ষ্য নিয়ে কাজ শুরু হয়েছে বলে আধিকারিকরা জানিয়েছেন। আগামী দিনে প্রশাসন সাবধানে পা ফেলতে চাইছে। ফের যাতে কোনও বিতর্ক দানা না বাঁধে, সেদিকে কড়া নজর রাখা হচ্ছে। প্রকল্প রূপায়নের ক্ষেত্রে সচ্ছতাকে প্রধান্য দিতে গ্রাম পঞ্চায়েতগুলিকে বলা হয়েছে। নির্মাণ সহায়ক সহ পঞ্চায়েতের কর্মীদেরই এব্যাপারে বেশি করে দায়িত্ব নিতে হবে বলে স্পষ্ট জানানো হয়েছে। কোনও গাফিলতি হলে কর্মীদের তলব করা হতে পারে বলেও আধিকারিকরা জানিয়েছেন। সেক্ষেত্রে প্রকল্প রূপায়নের ক্ষেত্রে যাবতীয় ফাঁকফোঁকরের কৈফিয়ত কর্মীদের দিতে হবে। জেলা প্রশাসনের এক আধিকারিক বলেন, কোনও প্রকল্পেই দুর্নীতি বা স্বজনপোষণ আমরা বরদাস্ত করব না। নিচুতলায় অনেক সময় প্রকল্প রূপায়নের ক্ষেত্রে ত্রুটি থাকে। সবসময় তা জানা আমাদের পক্ষে সম্ভবও নয়। তবে কোনও অভিযোগ জমা পড়লে গুরুত্বের সঙ্গে তা খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়। উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষ তদন্ত চালিয়েও দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পারে। তাতে আমাদের কিছু বলার নেই। কোনও কিছুর আশঙ্কা করে কাজ এড়িয়ে গেলেও হবে না। কারও ফাঁকিবাজির জন্য প্রকল্পের গতি শ্লথ হলে কড়া পদক্ষেপ নেওয়া হবে। এসব বিষয় যেন সকলে মাথায় রাখেন। 
  • Link to this news (বর্তমান)