• ছোট বোল্লা কালীপুজোগুলিকে নিয়ে আশায় বুক বাধঁছেন ভোগ বিক্রেতারা
    বর্তমান | ২৬ নভেম্বর ২০২১
  • সংবাদদাতা, গঙ্গারামপুর: করোনা পরিস্থিতির কারণে এবারও বোল্লা মেলা বন্ধ হওয়ায় মাথায় হাত চিনির ভোগ বিক্রেতাদের। তবে দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার গঙ্গারামপুর মহকুমাজুড়ে ছোট বোল্লা কালীপুজোকে কেন্দ্র করে আশায় বুক বাঁধছেন ভোগ বিক্রেতারা। উত্তরবঙ্গ তথা জেলার মধ্যে সর্ববৃহৎ বোল্লা কালীপুজোকে ঘিরে চারদিন ধরে বিরাট মেলা বসে। বোল্লা কালীর প্রধান প্রসাদ চিনির তৈরি ভোগ। শতাধিক দোকানদার দোকান নিয়ে বসেন। চিনির তৈরি ছাঁচের হাতি, ঘোড়া, পাখি, কদমা, বাতাসা, বড় নকুল দানা বেশ জনপ্রিয়। গত দু’বছর ধরে করোনা পরিস্থিতির জেরে মেলা বন্ধ হওয়ায় মাথায় হাত পড়েছে চিনির ভোগ বিক্রেতাদের। সারা বছর ধরে তাঁরা বোল্লা পুজোর দিকে তাকিয়ে থাকেন। পুজোকে সামনে রেখে একমাস আগে থেকে চিনির ভোগ তৈরি করতে শুরু করেন। 

    আজ, শুক্রবার শুরু হচ্ছে বোল্লা কালীপুজো। প্রতিদিন কয়েকশো কুইন্টাল ভোগ বিক্রি হয় বোল্লা মেলায়। এবার মেলা বন্ধের খবরে তাঁরা হতাশ। তাই তাঁরা ছোট বোল্লা কালীপুজোর দিকেই তাকিয়ে রয়েছেন। গঙ্গারামপুর মহকুমাজুড়ে কুশমণ্ডি ব্লকের  কাঁটাবাড়ি, বংশীহারি ব্লকের জোড়দিঘি, বাগদুয়ার, বুনিয়াদপুর স্টেশন মাঠ ও হরিরামপুর ব্লকের সুরহর পাটন এলাকায় বোল্লা কালীপুজোর দিন ছোট বোল্লা পুজো হয়। বর্তমানে ছোট বোল্লা কালীপুজোও জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। করোনা পরিস্থিতির জেরে গত বছর বোল্লা কালীপুজো হলেও ভক্তদের পুজো দেওয়ার ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা ছিল। ফলে ছোট বোল্লা কালীপুজোগুলিতে ব্যাপক ভিড় হয়েছিল। এবার গঙ্গারামপুর শহরের পিডব্লিউডি পাড়া, হাইস্কুল পাড়ার কারখানায় চিনির মিষ্টি ভোগ তৈরি হচ্ছে ছোট বোল্লা পুজো উপলক্ষে। ছোট বোল্লাতে ভোগ বিক্রির আশায় বুক বাঁধছেন মিষ্টান্ন বিক্রেতারা।  

    গঙ্গারামপুরের মহকুমা শাসক মানবেন্দ্র দেবনাথ বলেন, জেলা প্রশাসন করোনা পরিস্থিতির জেরে মূল বোল্লা কালীপুজোর মেলা বন্ধ রেখেছে। আমরাও পুলিসের সঙ্গে মিটিং করছি। গঙ্গারামপুর মহকুমার একাধিক জায়গায় ছোট বোল্লা কালীপুজো উপলক্ষে কোভিড বিধি মেনে মেলার বিষয়টি দেখা হচ্ছে। এনিয়ে আমরা পুজো উদ্যোক্তাদের সঙ্গে কথা বলব। পুজোর ক্ষেত্রে কোনও নিষেধাজ্ঞা নেই। ছোট বোল্লা কালীপুজোয় ভক্তরা অংশগ্রহণ করলেও জমায়েত হবে না।

    গঙ্গারামপুরের চিনির ভোগ বিক্রেতা বলরাম কুণ্ডু বলেন, গঙ্গারামপুর শহরে চিনির ভোগ তৈরির অনেকগুলি কারখানা রয়েছে। বোল্লা কালী মেলা হবে ভেবে এবার আমরা অনেক ভোগ তৈরি করেছি। এখন প্রশাসন মেলা হবে না বলে জানিয়ে দিয়েছে। ভোগ বিক্রিও করা যাবে না। আমরা দোকান করার জন্য গিয়েছিলাম। কিন্তু অনুমতি দেওয়া হয়নি। গত বছর করোনা পরিস্থিতির জেরে মেলা বন্ধ ছিল। আমরা এবার আশায় ছিলাম, বোল্লা মেলা হবে। চিনির ভোগ বিক্রেতারা বোল্লা পুজোর দিকে মুখিয়ে থাকেন। এবার আমরা যে ভোগ তৈরি করেছি, তা ছোট বোল্লা পুজোর জন্য পাইকারি ও দোকান লাগিয়ে বিক্রি করব বলে ঠিক করেছি। 
  • Link to this news (বর্তমান)