• ডেঙ্গু নিয়ে সচেতনতায় ব্লকের বাড়ি বাড়ি যাচ্ছেন গ্রামীণ সম্পদ কর্মীরা
    বর্তমান | ২৬ নভেম্বর ২০২১
  • সংবাদদাতা, গাজোল: ডেঙ্গু নিয়ে বাসিন্দাদের সচেতন করতে মালদহের হবিবপুরের ১১টি গ্রাম পঞ্চায়েতের বাড়ি বাড়ি যাচ্ছেন ব্লকের গ্রামীণ সম্পদ কর্মীরা। আদিবাসী অধ্যুষিত এলাকায় বাড়ি বাড়ি গিয়ে তাঁরা ডেঙ্গু নিয়ে সচেতনতা প্রচার করছেন। এছাড়া কোনও বাড়ির পার্শ্ববর্তী এলাকায় ফুলের টব, ডাবের খোল, মাটির পাত্রে জমা জল দেখলেই তা তাঁরা দ্রুত ফেলে দিচ্ছেন। দীর্ঘক্ষণ গ্রামের মানুষদের তাঁরা বোঝাছেন, এই ভাবে বাড়ির ভিতরে বা আশপাশে জল জমিয়ে রাখতে দেবেন না। পরিবেশ পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখুন। মশার কামড় এড়াতে গা-ঢাকা হালকা রঙের পোশাক ব্যবহার করুন। নির্দিষ্ট জায়গায় নোংরা ফেলুন। ঘরের অন্ধকার স্থান টুকু পরিষ্কার করুন। এই প্রচারে ব্লক প্রশাসনের সঙ্গে জনসাধারণের সুন্দর জনসংযোগ গড়ে উঠছে। গ্রামের মানুষও এনিয়ে খুশি। 

    ব্লক প্রশাসন জানিয়েছে, গোটা ব্লক জুড়ে ভিআরপি অর্থাৎ গ্রামীণ সম্পদ কর্মী রয়েছেন ১০১ জন। তাঁরা প্রতি পঞ্চায়েত একজন সুপারভাইজারের নেতৃত্বে মাসের ৩০ দিনই এই কাজ করছেন। এরপর কর্মসূচির যাবতীয় তথ্য পোর্টালে আপলোড করে দেওয়া হচ্ছে। হবিবপুর ব্লকের গ্রামীণ সম্পদ কর্মীদের সুপারভাইজারের দায়িত্বে থাকা সুবীর চৌধুরী বলেন, বিডিওর নির্দেশে বাড়ি বাড়ি যাওয়া হচ্ছে। গ্রামের বাড়িতে গিয়ে কোথাও জমা জল দেখলেই সঙ্গে সঙ্গে ফেলে দেওয়া হচ্ছে। মানুষকেও বোঝান হচ্ছে। তাদেরকে বলা হচ্ছে নিজের বাড়ি সব সময়ের জন্য পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে। খাবারের জিনিস ভালোভাবে ঢেকে রাখতে হবে। খানাখন্দে জল জমতে দেওয়া যাবে না। এতে ভালো সাড়া পাওয়া যাচ্ছে। আমাদের ব্লকের সমস্ত কর্মী মাঠে নেমে কাজ করছেন। হবিবপুরের বিডিও সুপ্রতীক সাহা বলেন, এই কাজ আমাদের ব্লকে খুব সুন্দর হচ্ছে। মানুষের সুবিধার জন্য গ্রামীণ সম্পদ কর্মীরা খুব পরিশ্রম করছেন। তাঁরা জমা জল দেখতেই ফেলে দিচ্ছেন। এছাড়াও ব্লকের বহু কর্মী নোংরা জায়গাগুলি স্প্রে করে দিচ্ছেন। সবকিছু পোর্টালে দেওয়া হচ্ছে। প্রসঙ্গত, ডেঙ্গুর হানা মালদহে এবার এখনও পর্যন্ত কার্যত নেই। তবে জেলায় মশার উপদ্রব বাড়ছে। দিনের বেলাতেও মশা কামড়াচ্ছে। এনিয়ে মানুষ অতিষ্ঠ। রাজ্য সরকার সেজন্য নানা পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। ডেঙ্গু প্রতিরোধে ব্লক প্রশাসনের সহযোগিতায় গ্রামীণ সম্পদ কর্মীদের কাজে লাগানো হয়েছে। হবিবপুর ব্লকে তাঁরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে মানুষকে সচেতন করছেন। জমা জল পরিষ্কার করছেন। এর ফলে আদিবাসী অধ্যুষিত এলাকার বাসিন্দাদের সঙ্গে মানুষদের ভালো জনসংযোগ গড়ে উঠছে।
  • Link to this news (বর্তমান)