• বিজ্ঞাপন দেখে পরিচারিকা সেজে ঢুকেছিল ঘরেখাবারে মাদক মিশিয়ে সর্বস্ব লুট
    বর্তমান | ২৬ নভেম্বর ২০২১
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, বর্ধমান: অসহায় বৃদ্ধ দম্পতির বাড়িতে কাজের জন্য পরিচারিকা দরকার। বিজ্ঞাপন দেখে বাড়িতে আসে সত্তর বছরের বৃদ্ধা। সঙ্গে ছিল অল্পবয়সি এক মহিলা। কাজের কথাবার্তা পাকা করার পর রাতে খাবার দেওয়ার সময়, খাবারের সঙ্গে মিশিয়ে দেয় বিশেষ ট্যাবলেট। রাতের খাবার খেয়ে বাড়ির কর্তা ও কর্ত্রী জ্ঞান হারান। সেই সুযোগে সোনার গয়না ও শাড়ি লুট করে চম্পট দেয় পরিচারিকা সেজে আসা দুই মহিলা। অবশেষে বুধবার রাতে কল্যাণীর গয়েসপুর থেকে বৃদ্ধা নীলু দাস বৈরাগ্যকে গ্রেপ্তার করল পুলিস। এদিন ধৃতকে বর্ধমান আদালতে তোলা হয়। ধৃতের টিআই প্যারেড করানোর জন্য আবেদন জানানো হয়। আবেদন মঞ্জুর করেছেন ভারপ্রাপ্ত সিজিএম। গৃহকাজে নিপুণা পরিচারিকা চাই! ৭ নভেম্বর এই মর্মে সংবাদপত্রে বিজ্ঞাপন দিয়ে প্রায় সর্বস্ব খুইয়েছিলেন মেমারির সাতগেছিয়া বাজার উচ্চ বিদ্যালয়ের এক শিক্ষিকা। শিক্ষিকার বাড়ি সাতগেছিয়া গ্রামের ষষ্ঠীতলায়। ওই বিজ্ঞাপন দেখে গত ১১ নভেম্বর কল্যাণী থেকে দুই মহিলা আসে শিক্ষিকার বাড়িতে। তখন অপর এক পরিচারিকা তাঁর বাড়িতে ছিলেন। তিনি রাতের খাবার রান্না করে চলে যান। রাতের খাবার পরিবেশনের সময় ওই মহিলারা খাবারের সঙ্গে ট্যাবলেট মিশিয়ে বাড়ির কর্তা ও গিন্নিকে অজ্ঞান করে দেয়। মহিলার গলায় সোনার হার ও কানের দুল ছিল, সেগুলি খুলে নেয় তারা। তারপর আলমারি খুলে বেশ কিছু দামি শাড়ি ও অন্যান্য সামগ্রী নিয়ে চম্পট দেয়। পরদিন সকালে বাড়িতে বাসন মাজার জন্য কাজের মহিলা এসে দেখেন, বাড়ির দরজা খোলা। শিক্ষিকা ও তাঁর স্বামী অচৈতন্য হয়ে পড়ে আছেন। বাড়ির বিভিন্ন জিনিসপত্র ও আলমারি লণ্ডভণ্ড। স্থানীয় বাসিন্দাদের ডেকে তাঁদের প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে যান। অবস্থার অবনতি হওয়ায় তারপর তাঁদের বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। অবস্থার উন্নতি না হওয়ায় পরদিন হুগলির ধনেখালির একটি নার্সিংহোমে নিয়ে যান শিক্ষিকার আত্মীয়। টানা তিনদিন অচৈতন্য থাকার পর মহিলা কিছুটা সুস্থ হন। তারপর তিনি বাড়ি ফিরে লুট হওয়া সামগ্রীর তালিকা তৈরি করে মেমারি থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। 

    অভিনব কায়দায় এই লুটের ঘটনায় কার্যত তাজ্জব মেমারিবাসী। ঘটনার অভিযোগ পেয়ে পুলিস তদন্ত শুরু করে। শিক্ষিকার মোবাইলের কল ডিটেলস খতিয়ে দেখা হয়। বিজ্ঞাপন দেখে ফোন করা নম্বরটির ডিটেলস সংগ্রহ করে পুলিস জানতে পারে, কল্যাণী থেকে ফোনটি এসেছিল। ফোনের সূত্র ধরেই গয়েসপুর থেকে পাকড়াও করা হয় সত্তর বছরের বৃদ্ধাকে। পুলিসি জিজ্ঞাসাবাদের পর ধৃত মহিলা স্বীকার করেছে, লুটের ঘটনায় সে জড়িত। তার কাছ থেকে চারটি শাড়িও উদ্ধার করেছে পুলিস। তবে সোনার গয়না অপর অভিযুক্তর কাছে আছে বলেই জানিয়েছে সে। এসডিপিও (সদর দক্ষিণ) আমিনুল ইসলাম খান বলেন, ধৃতকে জিজ্ঞাসাবাদের পর লুটের কথা স্বীকার করেছে। ওই শিক্ষিকা সুস্থ হওয়ার পরেই অভিযোগ জানিয়েছেন। সেই অভিযোগের ভিত্তিতে মোবাইলের সূত্র ধরে কল্যাণী থেকে ধৃতকে পাকড়াও করা হয়েছে। অপর অভিযুক্তর খোঁজে তল্লাশি চলছে।
  • Link to this news (বর্তমান)