• হোম স্টে, কটেজের বুকিং শেষ, বড়দিনে ‘হাউসফুল’ হওয়ার অপেক্ষায় ঝাড়গ্রাম, ব্যবসায়ীদের মুখে হাসি 
    বর্তমান | ২৬ নভেম্বর ২০২১
  • সংবাদদাতা, ঝাড়গ্রাম: শীতের মরশুমে পাহাড় ও জঙ্গলের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করতে পর্যটকদের ঢল নামতে চলেছে ঝাড়গ্রামে। আগামী ২৫ ডিসেম্বর বড়দিন উপলক্ষে জেলা সমস্ত সরকারি কটেজ ও বেসরকারি হোম স্টেগুলির অধিকাংশই বুকিং হয়ে গিয়েছে। এমনকী আগামী জানুয়ারি মাসের জন্য এখন থেকেই অতিথিনিবাসগুলির  বুকিং শুরু হয়ে গিয়েছে বলে জানা গিয়েছে। ঝাড়গ্রামে পর্যটকদের ভিড় বাড়তে থাকায় নতুনভাবে জেলার বিভিন্ন প্রান্তে বেশ কয়েকটি হোম স্টে নির্মাণের কাজ জোরকদমে শুরু হয়েছে বলে পর্যটন বিভাগ সূত্রে জানা গিয়েছে। পর্যটকদের থাকার জন্য আগে থেকেই সরকারি বননিগমের বাঁদরভোলা, লোধাশুলি ও হাতিবাড়ি এই তিনটি জায়গাতে পর্যটকদের থাকার ব্যবস্থা রয়েছে। এই তিনটি জায়গাতে মোটা ১৬টি কক্ষ রয়েছে। জেলার বিভিন্ন প্রান্তে ২০টিরও বেশি হোম স্টে রয়েছে। এদের মধ্যে বেশিরভাগ হোম স্টেগুলি রয়েছে বেলপাহাড়ীর কাঁকড়াঝোড় এলাকায়। এছাড়াও বাঁশতলা সহ জেলার বিভিন্ন জঙ্গল অধ্যুষিত জায়গায় পর্যটকদের জন্য তৈরি হয়েছে ক্যাম্পিং স্টে। এছাড়াও পর্যটকদের থাকার জন্য ঝাড়গ্রাম শহরের বিভিন্ন অতিথিশালা, রাজবাড়ি টুরিস্ট কম্প্লেক্স ও বেসরকারি অতিথিশালা রয়েছে। এই সমস্ত জায়গায় বুকিং প্রায় শেষের মুখে বলে জানান ঝাড়গ্রাম ট্যুরিজিম ফাউন্ডার তথা বেঙ্গল ট্রাভেল এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের গভর্নিং বডির সদস্য সুমিত দত্ত। ছাড়াও পর্যটকদের থাকার জন্য ফুলবাড়িয়া গ্রামে গড়ে উঠেছে ‘কুটুমবাড়ি’। সেই সঙ্গে নকাট গ্রামে চেতনা ইকো ভিলেজ হোম স্টে নির্মাণের কাজ জোরকদমে শুরু হয়েছে। এর আগে মূলত কলকাতা লাগোয়া জেলাগুলি থেকেই পর্যটকরা ঝাড়গ্রামের আসতেন। সম্প্রতিকালে দুই বর্ধমান, মুর্শিদাবাদ সহ দক্ষিণবঙ্গের সমস্ত জেলা ও ঝাড়খণ্ডের জামশেদপুর থেকেও প্রতিবছর ঝাড়গ্রামে পর্যটকরা ভিড় জমাচ্ছেন। সরকারি ওয়েবসাইটে ঝাড়গ্রামের সাবিত্রী মন্দির, রাজবাড়ি, বেলপাহাড়ীর ঘাঘরা, কাঁকড়াঝোড়, গাড়রাসিনি, খাঁদারানি, লালজলের মানব গুহা, চিল্কিগড় সহ সমস্ত পর্যটন কেন্দ্রগুলির তথ্য সহজেই পর্যটকরা দেখে নিতে পারছেন। সেই সাথে বেলপাহাড়ীর হোম স্টে থেকে সহজেই পর্যটকরা ঝাড়খণ্ডের সিদ্ধেশ্বরী পাহাড়, রঙ্কিনী মন্দির, গালুডি জলাধার, বাঁকুড়ার ঝিলিমিলি সহ অন্যান্য পর্যটন স্থলগুলি সহজেই দেখে আসতে পারেন। এছাড়াও পর্যটকদের জন্য ঝাড়গ্রাম জেলায় বেশ কয়েকটি ইকোপার্ক তৈরি হয়েছে। সাজিয়ে তোলা হয়েছে জঙ্গলমহল জুলজিক্যাল পার্কটিকে। থাকার জায়গার অভাবে যাতে পর্যটকদের ফিরে যেতে না হয় তা নিশ্চিত করতে আগামী বছরের মধ্যে আরও দশটি হোম স্টে নির্মাণের তোড়জোড় শুরু হয়েছে বলে পর্যটন বিভাগ সূত্রে জানা গিয়েছে। সুমিতবাবু আরও বলেন, জঙ্গলমহলের জেলাগুলির মধ্যে কলকাতা শহর থেকে ঝাড়গ্রামের দূরত্ব ১৭০ কিলোমিটার। পর্যটকরা সহজেই ব্যক্তিগত গাড়ি ও ট্রেনের মাধ্যমে দুই থেকে আড়াই ঘণ্টার মধ্যে এখানে চলে আসতে পারেন। এখন তো পর্যটকরা তিন থেকে চাররাত্রি ঝাড়গ্রামে থেকে যাচ্ছেন। সেই ভিড় ক্রমশ বাড়ছে। বড়দিনের জন্য সমস্ত হোম স্টে ও থাকার জায়গাগুলির বুকিং প্রায় শেষের মুখে। আগামী জানুয়ারি মাসের জন্য বুকিং শুরু হয়ে গিয়েছে। পর্যটকরা যাতে থাকার জায়গার অভাবে ফিরে না যান সে জন্য জেলার বিভিন্ন জায়গায় আরও দশটি হোম স্টে নির্মাণের কাজ জোরকদমে শুরু করা হয়েছে। 
  • Link to this news (বর্তমান)