• বাঙালি বিজ্ঞানীর তৈরি শ্যাডো ক্যামেরায় প্রথম চাঁদের ‘আঁধার’ অংশ দেখবে পৃথিবী
    বর্তমান | ২৬ নভেম্বর ২০২১
  • রাহুল দত্ত, কলকাতা: ‘চাঁদের আঁধার’। চাঁদে পা রাখার ৫২ বছর পরও বিজ্ঞানীদের কাছে অন্যতম আলোচ্য। কারণ, পৃথিবীর উপগ্রহের এই ‘অন্ধকারাচ্ছন্ন’ অংশে কী রয়েছে তা এখনও অজানা জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের কাছে। সেই অন্ধকারে আলোর দিশা দেখাতে চলেছে শ্যাডো ক্যামেরা। নেপথ্যে অ্যারিজোনা স্টেট ইউনিভার্সিটির বাঙালি বিজ্ঞানী প্রসূণ মহান্তি। তাঁর তত্ত্বাবধানে তৈরি এই ক্যামেরা কেপ ক্যানাভেরাল থেকে স্পেস-এক্সের ফ্যালকন-৯ রকেটে চড়ে পাড়ি দেবে চাঁদের ‘আঁধার’ দেশে। আগামী বছর আগস্ট মাসে।

    দক্ষিণ কোরিয়ার মহাকাশ গবেষণা কেন্দ্র ‘কোরিয়ান অ্যারোস্পেস রিসার্চ ইনস্টিটিউট’ (কেএআরআই) এই প্রথম কোনও মহাকাশযান পাঠাতে চলেছে। তাতে সওয়ার হয়েই ইতিহাস গড়বে বাঙালি বিজ্ঞানীর শ্যাডো ক্যামেরা। উৎক্ষেপণের পর এটিকে চাঁদের কক্ষপথে স্থাপন করা হবে। এক বছর ধরে চন্দ্রপৃষ্ঠের ১০০ কিলোমিটার উপর থেকে আঁধার এলাকার ছবি তুলবে তা। প্রসূণবাবু বলেন, ‘চাঁদের এই ছায়া ভরা এলাকায় কী রয়েছে, সে সম্পর্কে বিজ্ঞানীদের কাছে এখনও স্পষ্ট কোনও ধারণা নেই। সেখানকার খনিজ বস্তু থেকে শুরু করে আবহাওয়া—সব কিছু বুঝতেই সহযোগিতা করবে এই ক্যামেরা।’

    বিভিন্ন গ্রহ-নক্ষত্র থেকে খনিজ সম্পদ আরোহণের পরিকল্পনা ইতিমধ্যে শুরু করে দিয়েছে বিভিন্ন দেশ। আর জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের কথায়, চাঁদের এই আঁধারে লুকিয়ে রয়েছে বহু মূল্যবান রসদ। কিন্তু সেগুলি ঠিক কী, তা স্পষ্ট নয়। তাই আরও বিস্তারিত গবেষণার জন্য ২০১৭ সালে এই ক্যামেরা তৈরির কাজ শুরু হয়। নেতৃত্বে ছিলেন বিজ্ঞানী মার্ক রবিনসন। প্রসূণবাবুর অভিমত, ‘শ্যাডো ক্যামেরার সাহায্যে যদি ওখানে মূল্যবান খনিজের সন্ধান মেলে, তবে এই সংক্রান্ত গবেষণা অন্য মাত্রায় পৌঁছে যাবে। একইসঙ্গে ভবিষ্যতে চাঁদের এই অংশে নভশ্চররা যদি কোনওদিন নামতে পারেন, তবে সেই অভিযানে সহায়তা করবে তার তোলা ছবি।’

    ইতিমধ্যে এই ক্যামেরার সবরকম পরীক্ষা-নিরীক্ষার কাজ শেষ হয়ে গিয়েছে। প্রসূণবাবু বলেন, ‘বর্তমানে সেটি কোরিয়াতে। কোরিয়ান পাথফাইন্ডার লুনার অরবিটার (কেপিএলও) নামক কৃত্রিম উপগ্রহে স্থাপন করা হবে।’ ওই কৃত্রিম উপগ্রহে এই ক্যামেরা ছাড়াও আরও চারটি যন্ত্র থাকবে। চাঁদ সম্পর্কিত বিভিন্ন তথ্য গবেষণা করবে। সব তথ্য বিশ্লেষণ করে যা আলো ফেলবে চাঁদের অন্ধকার দিকে।
  • Link to this news (বর্তমান)