• কলকাতা পুরভোট ১৯শেই, গণনা ২১
    বর্তমান | ২৬ নভেম্বর ২০২১
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: সব জল্পনা এবং চাপানউতোরের অবসান। ১৯ ডিসেম্বরই ভোটগ্রহণ হতে চলেছে কলকাতা পুরসভার ১৪৪টি ওয়ার্ডে। এই মর্মে বৃহস্পতিবার বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে রাজ্য নির্বাচন কমিশন। তার আগে রাজ্য সরকারে পক্ষ থেকে কমিশনকে চিঠি দিয়ে ১৯ ডিসেম্বর ভোটের কথা জানিয়ে দেওয়া হয়। তারপরই বিজ্ঞপ্তি জারি করে কমিশন। এই বিজ্ঞপ্তির সঙ্গে সঙ্গেই কলকাতা পুর এলাকায় নির্বাচনী আদর্শ আচরণবিধি কার্যকর হয়ে গিয়েছে। রাজভবনের জটিলতার কারণে হাওড়ার পুরসভার ভোটের ঘোষণা করা যায়নি। এদিন রাজ্য নির্বাচন কমিশনার সৌরভ দাস সাংবাদিক বৈঠকে জানান, বৃহস্পতিবার থেকেই মনোনয়ন পর্ব শুরু হচ্ছে। মনোনয়ন জমার শেষ দিন ১ ডিসেম্বর। জমা দেওয়ার সময়, বেলা ১১টা থেকে ৩টে। রবিবার মনোনয়ন হবে না। ২ ডিসেম্বর জমা পড়া মনোনয়নপত্র স্ক্রুটিনি হবে। প্রত্যাহারের শেষ দিন ৪ ডিসেম্বর। ১৯ ডিসেম্বর হবে ভোটগ্রহণ। ভোটের সময় সকাল ৭টা থেকে বিকেল ৫টা। এবারও ভোট হবে ইভিএমে। যদি কোনও পুননির্বাচন করতে হয়, তার জন্য ২০ ডিসেম্বর দিনটি ধার্য থাকছে। আর ২১ ডিসেম্বর হবে ভোট গণনা। ২২ ডিসেম্বরের মধ্যে ভোটপ্রক্রিয়া শেষ হয়ে যাবে। রাজ্য নির্বাচন কমিশনারের ঘোষণার পরই এই ইস্যুতে প্রশ্ন তুলে হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন বিজেপির আইনজীবী। এক ঘণ্টার মধ্যে তাঁর আবেদন শোনার সময় দেন প্রধান বিচারপতি। কিন্তু রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়, কলকাতা পুরসভার ভোটের বিজ্ঞপ্তি জারি হয়ে গিয়েছে। আগামী ৩০ এপ্রিলের মধ্যে রাজ্যের সব পুরসভার ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়া শেষ হয়ে যাবে। প্রধান বিচারপতি বিজেপির আইনজীবীকে তাঁর আবেদন লিখিত আকারে পেশ করতে বলেন। আগামী সোমবারই তার শুনানি হবে। রাজ্য নির্বাচন কমিশনার বলেন, আমরা ২৪ নভেম্বর পর্যন্ত অপেক্ষা করেছি। তারপরেই রাজ্য মিউনিসিপাল অ্যাক্টের ৮ নম্বর ধারা এবং কনডাক্ট অব স্টেট মিউনিসিপাল কমিশন অ্যাক্টের ৩৭ নম্বর ধারা অনুযায়ী বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়েছে। তবে করোনা সংক্রমণের বিষয়ে বাড়তি সতর্কতা আসন্ন পুরভোটে নেওয়া হচ্ছে। প্রচারের সময় থাকছে সকাল ১০টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা। বাড়ি বাড়ি গিয়ে প্রচারের সময় প্রার্থীর সঙ্গে মাত্র পাঁচজন থাকতে পারবেন। কোনও বাইক র‌্যালি বা বড় সভা করা যাবে না। প্রচার শেষ হবে ভোটের তিন দিন আগে। যে ভোটাররা ভ্যাকসিন পাননি, তাঁদের অন্তত একটি ডোজ ১৯ ডিসেম্বরের আগে সেরে নেওয়ার জন্য স্বাস্থ্যদপ্তরকে নির্দেশ দিয়েছেন রাজ্য নির্বাচন কমিশনার।কমিশনের এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন পুরসভার প্রশাসকমণ্ডলীর প্রধান ফিরহাদ হাকিম। তিনি বলেন, অনেকদিন ভোট বকেয়া ছিল। আমি এতদিন চালিয়েছি। মানুষ তার নির্বাচিত প্রতিনিধি পাবেন। যারা মানুষকে ভয় পায়, তারা আদালতে যায়। বিজেপি কনফিডেন্স হারিয়ে ভোট না করানোর জন্য কোর্টে যাচ্ছে। 
  • Link to this news (বর্তমান)