• স্বাধীনতার পর প্রথমবার, দেশে পুরুষদের থেকে বেশি মহিলাদের সংখ্যা
    এই সময় | ২৬ নভেম্বর ২০২১
  • এই সময় ডিজিটাল ডেস্ক: স্বাধীনতার পর এই প্রথম। এতদিন পর্যন্ত সমীক্ষা হলে সবসময় পুরুষদের সংখ্যা নারীদের ছাপিয়ে যেত। কিন্তু, এ যেন ব্যতিক্রমী একটি দৃশ্য। এবার পুরুষদের সংখ্যার থেকে বেশি নারীদের সংখ্যা।

    বুধবার প্রকাশিত রয়েছে জাতীয় পরিবার ও স্বাস্থ্য সমীক্ষা। সেখানেই পুরুষ এবং নারীর অনুপাত ১০০০:১০২০। অর্থাৎ পুরুষদের থেকে মহিলাদের সংখ্যা বেশি। ২০১৫-১৬ সার্ভেতে এই সংখ্যাটা ছিল ১০০০ জন পুরুষ পিছু মহিলার সংখ্যা ৯৯১ জন। এই রিপোর্ট প্রকাশিত করে কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রকের তরফে জানানো হয়েছে, 'এই ফলাফলের পর বলা যায় উন্নত দেশের তালিকায় এবার নাম লেখাতে চলেছে ভারত।' NFHS-5-এর রিপোর্ট অনুযায়ী, বেশিরভাগ রাজ্য এবং কেন্দ্র শাসিত অঞ্চলগুলিতে মহিলাদের সংখ্যা পুরুষদের থেকে বেশি। যেই রাজ্যগুলিতে মহিলাদের সংখ্যা পুরুষদের থেকে বেশি সেগুলি হল- গুজরাট, মহারাষ্ট্র, অরুনাচল প্রদেশ, হরিয়ানা, মধ্যপ্রদেশ, পঞ্জাব, চন্ডিগড়, দিল্লি, কেন্দ্র শাসিত অঞ্চল জম্মু কাশ্মীর। প্রায় সমস্ত রাজ্যেই মহিলাদের সংখ্যা বেড়েছে।

    উল্লেখ্য, এই সমীক্ষায় জন্মহার, পরিবার কল্যাণ, পুষ্টি এবং স্বাস্থ্য নিয়ে পর্যালোচনা করা হয়েছে। রাজ্য এবং কেন্দ্র শাসিত অঞ্চলে এই সমীক্ষাটি করা হয়। সমীক্ষায় দেখা গিয়েছে, অবশেষে ভারতের জনসংখ্যা স্থিতিশীল হওয়ার পথে। কারণ বেশিরভাগ রাজ্য এবং কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে মাতা-পিতারা বেশিরভাগ ক্ষেত্রে সর্বাধিক ২ জন সন্তান গ্রহণ করছেন। তবে কিছু রাজ্যের Total Fertility Rate (TFR) ২ এর বেশি। এই রাজ্যগুলি হল- বিহার, মেঘালয়, মণিপুর, ঝাড়খণ্ড, উত্তরপ্রদেশ।

    প্রসঙ্গত, ভারতের জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণের জন্য পদক্ষেপ নেওয়ার কথা জানান দিয়েছিলেন বিশেষজ্ঞরা। এমনকী, ২০৪০-২০৫০ সালের মধ্যে ভারতের জনসংখ্যা ১.৬ বিলিয়ন থেকে ১.৮ বিলিয়ন হতে পারে বলে জানা যাচ্ছে সমীক্ষায় । ২০৩১ সালের মধ্যে বিশ্বের জনবহুল দেশের নিরিখে চিনকেও টপকে যাবে ভারত আশঙ্কা করা হচ্ছিল এমনটাই। NFHS-5 সার্ভেটি করা হয়েছে দেশের ৭০৭টি জেলায় (২০১৭ মার্চের নিরিখে)। ২০২০ সালের ডিসেম্বর মাসে এই সমীক্ষার প্রথম দফার রিপোর্ট পেশ হয়েছিল।

    জাতীয় পরিবার এবং স্বাস্থ্য সমীক্ষার রিপোর্ট বলছে, দেশের ৮৮.৬ শতাংশ শিশুই জন্ম নেয় স্বাস্থ্য কেন্দ্রে। দেশের ৭৮ শতাংশ মায়েরা সন্তানের জন্ম দেওয়ার পর স্বাস্থ্য কর্মীদের থেকে 'কেয়ার' পান। আগে এই হার ছিল ৬৫ শতাংশের কম। এদিকে মহিলাদের সংখ্যা বৃদ্ধি একটি ইতিবাচক দিক বলে মনে করছে অভিজ্ঞ মহল।
  • Link to this news (এই সময়)