• উপস্থিত শুধুই হলমালিকেরা, আসেননি কোনও প্রযোজক! হল বন্ধ নিয়ে কোনও সমাধান কি হল?
    আনন্দবাজার | ১১ মার্চ ২০২৬
  • ভাল বাংলা ছবির অভাবে বন্ধ শহরের একাধিক সিনেমাহল। সমাধান খুঁজতে প্রযোজক, পরিবেশক আর হলমালিকদের নিয়ে বুধবার ইমপা-র অফিসে বৈঠক ডেকেছিলেন স্ক্রিনিং কমিটির সভাপতি পিয়া সেনগুপ্ত। বৈঠকে উপস্থিত হলমালিক এবং পরিবেশকেরা। এই তালিকায় ছিলেন বিনোদিনী সিনেমাহলের মালিক (সাবেক স্টার থিয়েটার) জয়দীপ মুখোপাধ্যায়, নবীনা সিনেমাহলের মালিক নবীন চৌখানি, পরিবেশক এবং হলমালিক পঙ্কজ লাডিয়া, শতদীপ সাহা, মিনার-বিজলি-ছবিঘরের ম্যানেজার চিরঞ্জিৎ সাহা, হলমালিক সন্দীপ সেন, পরিবেশক বাবলু ডামানি। দু’একজন ছাড়া এরা প্রায় প্রত্যকেই স্ক্রিনিং কমিটির সদস্য। এ ছাড়া, উপস্থিত ছিলেন কমিটির অন্যতম সদস্য এবং ফেডারেশনের সভাপতি স্বরূপ বিশ্বাস। কিন্তু এ দিন দেখা যায়নি কোনও প্রযোজককেই!

    সম্প্রতি হলমালিকদের অভিযোগ, দুঃসময়ে তাঁদের পাশে নেই হিন্দি ছবির পরিবেশকেরাও। এ বার কি বাংলা ছবির প্রযোজকেরাও সরে গেলেন হলমালিকের পাশ থেকে? বুধবারের বৈঠক তেমনই প্রশ্ন তুলে দিল! যদিও পিয়া এবং স্বরূপের দাবি, এ দিনের বৈঠক মূলত হলমালিক এবং পরিবেশকদের নিয়েই।

    বাংলা ছবির মুক্তি উৎসবমুখী। সেই সময়ে বড় বাজেটের হিন্দি ছবির সঙ্গে পাল্লা দিয়ে মুক্তি পায় একাধিক বড় বাজেটের বাংলা ছবিও। রাজ্য সরকারের গত বছরের নির্দেশিকা অনুযায়ী, সিনেমাহলে আগে জায়গা দিতে হবে বাংলা ছবিকে। প্রত্যেক দিন একটি করে প্রাইম টাইম শো-ও দিতে হবে। উৎসবের সময়ে এই নির্দেশ পালন করতে গিয়‌ে স্বাভাবিক ভাবেই হিন্দি ছবির পরিবেশকদের বিরাগভাজন হয়েছেন হলমালিক‌েরা।

    এ দিনের বৈঠকে সে কথাই আরও এক বার মনে করিয়ে দেন পিয়া এবং স্বরূপ। প্রথম সারির প্রযোজকদের প্রতি তাঁদের বক্তব্য, “সারা বছর ধরে ছবিমুক্তি পেলে সিনেমাহল বন্ধ রাখত হয় না হলমালিকদের। উৎসবে একটি বা দু’টি বাংলা ছবি মুক্তি পেলে সব ভাষার ছবিই মুক্তি দিতে পারেন হলমালিকেরা। অন্য ভাষার ছবির পরিবেশকদের সঙ্গেও সুসম্পর্ক বজায় থাকে।” তাঁদের আরও যুক্তি, সারা বছর সব ভাষার ছবি দেখানো হলে হলমালিকদের ব্যবসায় ভাটা পড়ে না।

    কিন্তু যাঁদের প্রতি স্ক্রিনিং কমিটির এই বক্তব্য, বাংলা ছবির সেই প্রযোজক‌েরা কোথায়? তাঁরা অনুমতি না দিলে হলমালিকেরা কী করে ছবি দেখাবেন? আনন্দবাজার ডট কম প্রশ্ন করেছিল পিয়াকে। পিয়া জবাবে বলেন, “আচমকা বৈঠক ডাকা হয়। প্রযোজকদের একদম শেষ মুহূর্তে জানানো হয়। নিসপাল সিংহ রানে বা শ্রীকান্ত মোহতা শহরের বাইরে। তাঁরা জানিয়েছেন আসতে পারবেন না। বাকি প্রযোজকেরা কিছু জানাননি আমাদের।” এ দিকে, ছবির অভাবে সিনেমাহল খোলা রাখতে পারছেন না বলে যখন দাবি হলমালিকদের, তখন টালিগঞ্জের অন্দরে গুঞ্জন, প্রতি বছরেই ইদের আগে ছবিমুক্তি কম হয়। সেই সময়ে হলমালিকেরা হল বন্ধ রেখে সিনেমাহলের রক্ষণাবেক্ষণের কাজ করেন।

    এ বারেও সেটাই হয়েছে। বিনোদিনী সিনেমাহলের বাইরে রক্ষণাবেক্ষণের নোটিস ঝুলেছে। প্রিয়া সিনেমাহলের বাইরে রঙের প্রলেপ পড়েছে। নবীনা সিনেমাহলের মালিক নবীন আনন্দবাজার ডট কম-কে সরাসরি জানিয়েছিলেন, তিনি হলের রক্ষণাবেক্ষণের কাজের জন্য হল বন্ধ রেখেছেন। তা হলে সত্যি কোনটি? ছবি না থাকায় হল বন্ধ? না কি রক্ষণাবেক্ষণের জন্য? এ দিন প্রশ্ন করা হয় উপস্থিত হলমালিকদের উদ্দেশে। বিনোদিনী সিনেমাহলের মালিক জয়দীপ বলেন, “আমি বলব, হল বন্ধ রাখার কারণ দুটোই। দর্শকের অভাবে হল খোলা রাখতে পারিনি। তাই সেই সময়ে রক্ষণাবেক্ষণের কাজ সেরেছি।”

    পাশাপাশি, আরও একটি বিষয় উঠে আসে এ দিন। স্ক্রিনিং কমিটি আগামী ছ’মাসের সিনে ক্যালেন্ডার তৈরি করলেও দেব এন্টারটেনমেন্ট ভেঞ্চার এবং নন্দী মুভিজ় আলাদা করে তাদের বছরের সিনে ক্যালেন্ডার প্রকাশ করেছে। এই পদক্ষেপ কি স্ক্রিনিং কমিটির গুরুত্বকে খর্ব করা? প্রশ্নের জবাবে পিয়া বলেন, “আমরা জুন মাস পর্যন্ত ক্যালেন্ডার ঘোষণা করেছি। জুন মাসে বাকি ছ’মাসের ক্যালেন্ডার ঘোষণা করব। এর বাইরে কে কী করছেন, সেটা নিয়ে স্ক্রিনিং কমিটির কিছু বলার নেই।”

    প্রসঙ্গত, এ দিনের বৈঠকে সমাজমাধ্যমে প্রযোজক রানা সরকারের একটি বার্তাকে ধিক্কার জানায় কমিটি। রানা তাঁর বার্তায় লিখেছিলেন, “রাজ্য সরকারের নোটিফিকেশনকে দোষারোপ করা উদ্দেশ্যমূলক। হল বন্ধ রাখা কারও ব্যক্তিগত ব্যবসায়িক সিদ্ধান্ত হতেই পারে, তার জন্য বাংলা সিনেমাকে দোষারোপ করা অর্থহীন। এর পিছনে কে আছে? ভোটের আগে রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র?” পিয়ার আক্ষেপ, “যাঁরা ছবির অভাবে সিনেমাহল খোলা রাখত‌ে পারছেন না, তাঁরা তো এমনিতেই আধমরা। এই পরিস্থিতিতে তাঁরা কী রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রে শামিল হবেন?”
  • Link to this news (আনন্দবাজার)