• কলকাতায় স্বাভাবিকের চেয়ে ১১ ডিগ্রি নামল পারদ! এখনও সতর্কতা দক্ষিণের তিন জেলায়, বৃষ্টি আর কত দিন
    আনন্দবাজার | ২৩ মার্চ ২০২৬
  • চৈত্রের ঘূর্ণাবর্তে দক্ষিবঙ্গের
    বিস্তীর্ণ অংশে ঝড়বৃষ্টি হয়েছে। কলকাতাও ভিজেছে পর পর দু’দিন। তার প্রভাবে এক
    ধাক্কায় শহরের পারদ নেমে গেল ১১ ডিগ্রি! রবিবার সকালে কলকাতার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা
    ছিল ১৯.৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস, স্বাভাবিকের চেয়ে ৪.৪ ডিগ্রি কম। শনিবার দিনের সর্বোচ্চ
    তাপমাত্রা ছিল ২৩.২ ডিগ্রি সেলসিয়াস, স্বাভাবিকের চেয়ে তা ১১ ডিগ্রি কম! শুক্রবারও শহরের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা উঠেছিল ৩০ ডিগ্রি পর্যন্ত। দিনভর
    আকাশ আংশিক মেঘলা থাকবে বলে জানিয়েছে আলিপুর আবহাওয়া দফতর। সকাল থেকেই হালকা শীতের আমেজ ফিরেছে শহরে।

    দক্ষিণবঙ্গে দুর্যোগ অনেকটাই কমেছে।
    রবিবার শুধু পূর্ব মেদিনীপুর, পশ্চিম মেদিনীপুর এবং ঝাড়গ্রাম ছাড়া আর কোথাও
    সতর্কতা জারি করা হয়নি। এই তিন জেলায় বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বিক্ষিপ্ত বৃষ্টি হতে পারে।
    সঙ্গে ঘণ্টায় ৩০ থেকে ৪০ কিলোমিটার বেগে বইতে পারে ঝোড়ো হাওয়া। দক্ষিণের বাকি
    জেলাগুলিতেও বিক্ষিপ্ত বৃষ্টি চলবে। তবে আলাদা করে কোথাও আর সতর্কতা জারি করা হয়নি।
    কলকাতায় বিক্ষিপ্ত ভাবে হালকা বৃষ্টি হতে পারে রবিবার। তার পর আবার সেই সম্ভাবনা
    রয়েছে সপ্তাহের শেষে শুক্রবার এবং শনিবার।

    উত্তরবঙ্গেও ঝড়বৃষ্টির দাপট আগের
    চেয়ে কম। তবে এখনও সতর্কতা জারি রয়েছে। দার্লিজিং, জলপাইগুড়ি, কালিম্পং,
    আলিপুরদুয়ারে বুধবার পর্যন্ত বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টি এবং ঘণ্টায় ৪০ থেকে ৫০ কিলোমিটার
    বেগে ঝোড়ো হাওয়ার সতর্কতা রয়েছে। কোচবিহারে ঝড়বৃষ্টি চলতে পারে মঙ্গলবার পর্যন্ত।
    এ ছাড়া, মঙ্গলবার উত্তর দিনাজপুরেও সতর্কতা রয়েছে। আপাতত উত্তরবঙ্গের কোথাও ভারী
    বৃষ্টির সম্ভাবনা নেই। বিক্ষিপ্ত বৃষ্টি চলতে পারে সারা সপ্তাহ জুড়েই।

    হাওয়া অফিস জানিয়েছে, আগামী ২৪
    ঘণ্টায় উত্তর ও দক্ষিণবঙ্গের জেলাগুলিতে তাপমাত্রা তিন থেকে পাঁচ ডিগ্রি কমতে পারে।
    তার পরের তিন দিনে ধীরে ধীরে আবার তিন থেকে চার ডিগ্রি চড়বে পারদ। ঘূর্ণাবর্ত এবং
    অক্ষরেখার প্রভাবে ওড়িশা সংলগ্ন বঙ্গোপসাগর এখনও কিছুটা উত্তাল রয়েছে। মৎস্যজীবীদের
    রবিবারও সমুদ্রে যেতে নিষেধ করা হয়েছে। মনে করা হচ্ছে, রবিবারের পর থেকে সমুদ্রের
    পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে।

    উত্তর-পশ্চিম মধ্যপ্রদেশ এবং
    সংলগ্ন দক্ষিণ উত্তরপ্রদেশের উপর ঘূর্ণাবর্ত রয়েছে। সেখান থেকে একটি অক্ষরেখা
    মধ্যপ্রদেশ, উত্তরপ্রদেশ হয়ে নাগাল্যান্ড পর্যন্ত বিস্তৃত। তা গিয়েছে
    ঝাড়খণ্ড, গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গ এবং দক্ষিণ অসমের উপর দিয়ে। সমুদ্রপৃষ্ঠ
    থেকে অক্ষরেখাটির উচ্চতা ০.৯ কিলোমিটার। এর প্রভাবেই বঙ্গোপসাগর থেকে প্রচুর
    পরিমাণে জলীয় বাষ্প স্থলভাগে ঢুকছে। তাই রাজ্য জুড়ে বৃষ্টির অনুকূল পরিস্থিতি।

    শনিবার সকালের দিকে কলকাতায় বৃষ্টি হয়েছে। সন্ধ্যার পর থেকে হুগলি, হাওড়া-সহ শহরতলির বিস্তীর্ণ অংশ ভিজেছে। হলদিয়ায় ১২.৪ মিলিমিটার, দিঘায় ২১.২ মিলিমিটার, মালদহে ২৩.৮ মিলিমিটার, দার্জিলিঙে ১৯.২ মিলিমিটার, জলপাইগুড়িতে ২৩.৮ মিলিমিটার, রায়গঞ্জে ২৪.২ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে।
  • Link to this news (আনন্দবাজার)