• রায়দিঘির ঘোষণার ওজন বুঝে শাহকে দিয়ে ভোটের ‘সঙ্কল্পপত্র’ প্রকাশ করাতে তৎপর বিজেপি, আনুষ্ঠানিক উন্মোচন ২৮ মার্চ
    আনন্দবাজার | ২৩ মার্চ ২০২৬
  • নির্বাচনের আগে ‘পরিবর্তন যাত্রা’ হয়েছে। ব্রিগেড সমাবেশও হয়েছে। ভোটের পশ্চিমবঙ্গে নজর কাড়তে এ বার তৃতীয় বড় কর্মসূচি বিজেপির। ‘সঙ্কল্পপত্র’ (ইস্তাহার) প্রকাশ। তা প্রকাশ করতে চলেছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। দিল্লি থেকে নয়, কলকাতায় এসেই। প্রাথমিক ভাবে তেমনই পরিকল্পনা করা হয়েছে। কর্মসূচির কথা এখনও আনুষ্ঠানিক ভাবে ঘোষণা না-করলেও দলের ভাষ্যনির্মাণ বিভাগকে ব্যবহার করে ‘শাহি’ কর্মসূচির বিষয়ে আগ্রহ বাড়িয়ে তোলার চেষ্টা শুরু করে দিয়েছে বিজেপি।

    গত শুক্রবার প্রকাশিত হয়েছে রাজ্যের শাসকদল তৃণমূলের নির্বাচনী ইস্তাহার। তবে যে দিন ইস্তাহার প্রকাশিত হয়েছিল, সে দিন সকালের আগে তা নিয়ে তৃণমূলের তরফে বিশেষ উচ্চবাচ্য ছিল না। সকালে ঘোষণা করে বিকেলে ইস্তাহারের আনুষ্ঠানিক প্রকাশ করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বিজেপি সে পথে হাঁটছে না। ইস্তাহার প্রকাশকে ‘নজরকাড়া কর্মসূচি’ করে তুলতে চাইছে তারা। ইস্তাহারে যে সব ঘোষণা বা প্রতিশ্রুতি থাকবে, প্রথম দিন থেকেই যাতে সেগুলি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়ে যায়, তার জন্য কর্মসূচির ওজন বাড়ানোর তোড়জোড় শুরু হয়েছে। সেই লক্ষ্যেই শাহকে দিয়ে ইস্তাহার প্রকাশের ভাবনা।

    বিজেপি সূত্রের খবর, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর পশ্চিমবঙ্গ সফরসূচি এখনও চূড়ান্ত হয়নি। তেমন হলে শাহের মন্ত্রকের তরফ থেকে লিখিত ভাবে তা রাজ্য বিজেপি-কে জানানো হবে। তবে প্রাথমিক ভাবে স্থির হয়েছে, ২৭ এবং ২৮ মার্চ (আগামী শুক্র এবং শনিবার) পশ্চিমবঙ্গ সফরে থাকবেন শাহ। ২৮ তারিখ, শনিবার বিজেপির রাজ্য নেতৃত্বকে সঙ্গে নিয়ে তিনি ইস্তাহার প্রকাশ করবেন।

    এ বারের নির্বাচনে বিজেপি কী ধরনের প্রতি‌শ্রুতি সামনে রেখে এগোতে চায়, তার আভাস শাহ সপ্তাহতিনেক আগে দিয়েছিলেন। ‘পরিবর্তন যাত্রা’র উদ্বোধন করতে দক্ষিণ ২৪ পরগনার রায়দিঘিতে গত ২ মার্চ শাহ যে জনসভা করেছিলেন, সেখান থেকে একগুচ্ছ প্রতিশ্রুতি শুনিয়েছিলেন তিনি। পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতায় আসার ৪৫ দিনের মধ্যে রাজ্য সরকারের কর্মীদের জন্য সপ্তম বেতন কমিশন কার্যকর করে দেওয়া, সমস্ত শূন্য সরকারি পদে ছ’মাসের মধ্যে নিয়োগ, বিলুপ্ত সরকারি পদগুলি ফিরিয়ে আনা এবং সরকারি চাকরির জন্য আবেদনের ক্ষেত্রে বয়সের ঊর্ধ্বসীমায় পাঁচ বছর ছাড় দেওয়ার মতো ঘোষণা রায়দিঘির মঞ্চ থেকে করেছিলেন শাহ। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সে সব ঘোষণা নিয়ে সে দিন থেকেই নানা মহলে আলোচনা শুরু হয়েছিল। বিজেপি-ও বুঝে যায়, নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি শাহকে দিয়ে ঘোষণা করালে তার ‘ওজন’ বাড়বে। তাই পূর্ণাঙ্গ ‘সঙ্কল্পপত্র’ প্রকাশের ক্ষেত্রেও শাহকেই সামনে রাখার কথা ভাবা হয়েছে।

    রায়দিঘি থেকে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী যে সব প্রতিশ্রুতি শুনিয়েছিলেন, সেগুলি যে বিজেপির ইস্তাহারে থাকছে, তা বলা বাহুল্য। পাশাপাশিই ‘লক্ষ্মীর ভান্ডার’ (বিজেপির ভাষায় ‘অন্নপূর্ণা ভান্ডার’) বা ‘যুবসাথী’ গোছের প্রকল্প নিয়ে বিজেপি কী ভাবছে, সে সবও ইস্তেহার আনুষ্ঠানিক ভাবে জানিয়ে দেওয়া হবে। রাজ্যের অর্থনৈতিক উন্নয়ন, পরিকাঠামো উন্নয়ন, লগ্নি, কর্মসংস্থান বৃদ্ধি, কেন্দ্রীয় সাহায্য সংক্রান্ত নানা ঘোষণা বিজেপির ‘সঙ্কল্পপত্রে’ থাকার সম্ভাবনা। কেন্দ্রীয় সরকারের যে সব সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্প পশ্চিমবঙ্গে চালু হয়নি, সেগুলি নিয়েও নির্দিষ্ট ঘোষণা থাকতে পারে। গত কয়েক মাস ধরে গোটা রাজ্য এবং নানা পেশা ও শ্রেণির লোকজনের কাছ থেকে বিজেপি যে সব ‘পরামর্শ’ সংগ্রহ করেছে, তার প্রতিফলনও ইস্তাহারে থাকবে।

    পশ্চিমবঙ্গ বিজেপি গত কয়েক মাস ধরেই নির্বাচনী ইস্তাহার তৈরিকে একটি উল্লেখযোগ্য কর্মসূচিতে পরিণত করার চেষ্টায় ছিল। দলের রাজ্য দফতরের পাশাপাশি জেলায় জেলায় ‘ড্রপবক্স’ বসিয়ে জনসাধারণের কাছ থেকে পরামর্শ চেয়েছিল তারা। বিজেপির মন্ত্রী, সাংসদ, বিধায়ক, নেতারা বিভিন্ন ক্ষেত্রের বিশিষ্টদের বাড়ি গিয়ে গিয়ে তাঁদের পরামর্শও চেয়েছিলেন। রাজ্য বিজেপির ‘সঙ্কল্পপত্র’ কমিটির চেয়ারম্যান তাপস রায়ের কথায়, ‘‘রাজ্যের প্রতিটি প্রান্তে সব ধরনের মানুষের কাছে গিয়ে আমরা পরামর্শ সংগ্রহ করেছি। প্রতিটি পরামর্শ দেখে ঝাড়াই-বাছাই করে আমরা সেরা সঙ্কল্পপত্র তৈরি করার চেষ্টা করেছি। কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব তাতে কিছু সংযোজন-বিয়োজন হয়তো করতে পারেন। তবে অমিত শাহের হাত দিয়ে সঙ্কল্পপত্রের উন্মোচন হবে, এর চেয়ে ভাল খবর কিছু হতেই পারে না।’’ তৃণমূলের ইস্তাহারকে ‘ভাঁওতা’ আখ্যা দিয়ে তাপস বলেন, ‘‘সাধারণ মানুষ সব সময়ে আগের বারের আর পরের বারের ইস্তাহার মিলিয়ে দেখেন না। মিলিয়ে দেখলে বুঝতে পারবেন যে, তৃণমূল ২০১১ সালে যা বলেছিল, ২০১৬ সালে বা ২০২১ সালেও সেই একই কথা ইস্তাহারে লিখেছিল। ২০২৬ সালে এসেও সেই একই ইস্তাহার!’’
  • Link to this news (আনন্দবাজার)