• লিফ্‌ট ঘিরে বিতর্ক এ বার এনআরএস হাসপাতালে! কর্মবিরতিতে চালকেরা, দ্রুত বৈঠক করে আশ্বাস কর্তৃপক্ষের
    আনন্দবাজার | ২৮ মার্চ ২০২৬
  • লিফ্‌ট-বিভ্রাট এ বার এনআরএস হাসপাতালে। ঘটনাচক্রে, আরজিকরের পরে লিফ্‌টে আটকে মৃত্যুর ঘটনার ঠিক এক সপ্তাহের মাথাতেই। তবে যান্ত্রিক ত্রুটি নয়, শুক্রবার লিফ্‌টচালকদের কর্মবিরতির জেরে সৃষ্টি হল অচলাবস্থা।

    বেতনবৃদ্ধি, নির্দিষ্ট শিফ্‌টে ডিউটি-সহ একাধিক দাবিতে শুক্রবার সকাল থেকে কর্মবিরতি শুরু করেন এনআরএসের লিফ্‌টম্যানেরা। তাঁরা সরাসরি হাসপাতালের কর্মী নন। একটি বেসরকারি সংস্থার মাধ্যমে তাঁদের কাজে নিয়োগ করা হয়েছিল হাসপাতালে। লিফ্‌ট বন্ধ হওয়ায় এনআরএসে পরিষেবার সমস্যা দেখা দেয়। পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝে দুপুরেই হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ পূর্ত বিভাগ, সংশ্লিষ্ট বেসরকারি সংস্থা এবং আন্দোলনকারী লিফ্‌টচালকদের সঙ্গে বৈঠক করেন। ‘আংশিক দাবিপূরণের’ আশ্বাসের পর বিকেলে উঠে যায় কর্মবিরতি।

    আন্দোলনকারী লিফ্‌টচালকদের একাংশ জানাচ্ছেন, বর্তমানে দৈনিক আট ঘণ্টা কাজের জন্য মাসিক ১০ হাজার টাকারও কম বেতন পান তাঁরা। ফলে বাড়তি অর্থের প্রয়োজনে ‘ডাবল শিফ্‌টে’ কাজ করতে বাধ্য হন অনেকেই। অত্যধিক পরিশ্রমের কারণে কাজে গাফিলতি হয়ে যাচ্ছে অনেক ক্ষেত্রেই। এই পরিস্থিতিতে বিধি মেনে মাসিক ন্যূনতম ১৩,৭০০ টাকা বেতনের দাবি তুলেছেন তাঁরা। দাবি পুরোপুরি না মানলেও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এবং সংশ্লিষ্ট বেসরকারি সংস্থার তরফে লিফ্‌টচালকদের বেতন কিছুটা বাড়ানোর প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। সেই সঙ্গে বৈঠকে স্থির হয়েছে, আপাতত পুরনো শিফ্‌টে কাজ হবে।

    প্রসঙ্গত, গত শুক্রবার ভোরে আরজি কর হাসপাতালেন ট্রমা কেয়ারভবনের লিফ্‌টে আটকে মৃত্যু হয়েছিল দমদমের বাসিন্দা অরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের। অভিযোগ, স্ত্রী,সন্তানকে নিয়ে লিফ্‌টে আটকে পড়েছিলেন তিনি। নির্দিষ্ট তলায় লিফ্‌ট থামে নি। প্রথমে উপরে উঠে নিজে থেকেই লিফ্‌টটি নীচে নেমেছিল। নামতে নামতে পৌঁছে গিয়েছিল একেবারে বেসমেন্টে। মৃতের স্ত্রীর বয়ান অনুযায়ী, বেসমেন্টে কয়েক সেকেন্ডের জন্য লিফ্‌টের দরজা খোলে। সন্তানকে নিয়ে তিনি বেরিয়ে পড়লেও দরজায় আটকে পড়েন অরূপ। তার পর লিফ্‌ট উপরে উঠতে শুরু করে। দরজা এবং সিমেন্টের দেওয়ালের মাঝে পড়ে থেঁতলে মৃত্যু হয় অরূপের। অভিযোগ, দীর্ঘ ক্ষণ বেসমেন্টে লিফ্‌টের সামনের দরজার তালা খোলা যায় নি। চূড়ান্ত অব্যবস্থার অভিযোগ তোলে অরূপের পরিবার। এই ঘটনায় অনিচ্ছাকৃত খুনের মামলা রুজু করে তদন্ত করছে কলকাতা পুলিশ। গ্রেফতার করা হয়েছে তিন লিফ্‌টম্যান-সহ পাঁচ জনকে। এর পর বুধবার দুপুরে আরজি করের অ্যাকাডেমি বিল্ডিংয়ের একটি লিফ্‌ট কয়েক মিনিটের জন্য আটকে গিয়েছিল। সেইসময় লিফ্‌টম্যানও ভিতরে ছিলেন। নির্দিষ্ট তলায় পৌঁছে গেলেও লিফ্‌টের দরজা খুলছিল না। অভিযোগ, মঙ্গলবারেও দু’টি তলার মাঝে ওই লিফ্‌টটি আটকে গিয়েছিল। দুই ক্ষেত্রেই হাসপাতালের কর্মী-সহ বেশ কয়েক জন লিফ্‌টের ভিতরে ছিলেন।
  • Link to this news (আনন্দবাজার)