• ‘ডবল ইঞ্জিনের বাস্তবতা বালুরঘাটের মানুষ সবচেয়ে ভাল জানেন’! সভায় স্থানীয় সাংসদ সুকান্তকে কটাক্ষ অভিষেকের
    আনন্দবাজার | ০১ এপ্রিল ২০২৬
  • ‘ডবল ইঞ্জিন’ সরকারের বাস্তবতা সবচেয়ে ভাল বোঝেন বালুরঘাটের মানুষ জনই।সেখানে মঙ্গলবার প্রচারে গিয়ে এ ভাবেই বালুরঘাটের সাংসদ তথা কেন্দ্রীয় মন্ত্রীসুকান্ত মজুমদারকে কটাক্ষ করলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেকবন্দ্যোপাধ্যায়। দাবি করলেন, স্থানীয় মানুষজনের জন্য কিছুই করেননি কেন্দ্রীয় মন্ত্রী।এর পরে মুদ্রাস্ফীতি, রান্নার গ্যাসের দাম বৃদ্ধি থেকে এসআইআর— বিভিন্ন বিষয়েবিজেপির দিকে আঙুল তোলেন তিনি। সেই সঙ্গে তুলে ধরেন রাজ্য সরকারের কাজের খতিয়ান।

    মঙ্গলবার বালুরঘাটে তৃণমূলেরপ্রার্থী অর্পিতা ঘোষের হয়ে প্রচার করেন অভিষেক। সেই প্রচারসভায় তিনি কটাক্ষ করেনবালুরঘাটের সাংসদ সুকান্তকে। তাঁর কথায়,‘‘তারা ডবল ইঞ্জিন সরকারের কথা বলে, কিন্তু এই ডবলইঞ্জিনের বাস্তবতা বালুরঘাটের মানুষের সবচেয়ে ভাল জানা রয়েছে। গত সাত বছর ধরেবালুরঘাটে বিজেপির সাংসদ রয়েছেন যিনি,তিনি কেন্দ্রীয় মন্ত্রীও। তা সত্ত্বেওতিনি বালুরঘাটের মানুষের জন্য কোনও অতিরিক্ত উন্নয়নমূলক প্রকল্প আনতে পারেননি— না তিনি, না অন্য কোনওবিজেপি নেতা।’’

    এর পরেই অভিষেক জানান, তিনি নিজেররিপোর্ট কার্ড নিয়ে এসেছেন। বিজেপি-ও তা-ই করুক। তাঁর কথায়, ‘‘যখন তারাপ্রচারে আসবে, তাদের কাছে রিপোর্ট কার্ড চাইবেন। সুকান্ত মজুমদার এবং অন্যান্য বিজেপিনেতাদের বলুন, তাদের রিপোর্ট কার্ড আনতে। আর আমরা আমাদেরটা আনব। কে মানুষের জন্য কীকরেছে, তা আমরা দেখিয়ে দেব।’’ অভিষেক আরও বলেন,‘‘আমাদের অধীনে মানুষ অনেক প্রকল্পের সুবিধাপেয়েছেন, বিজেপি গত ১২ বছর ধরে ক্ষমতায় রয়েছে এবং মুদ্রাস্ফীতি ঘটানো ছাড়ামানুষের জন্য কিছুই করেনি।’’

    এর পরে একে একে তৃণমূল সরকারেরকাজের খতিয়ান তুলে ধরেন অভিষেক। তিনি বলেন,‘‘দীর্ঘ দিন ধরে এখানকার মানুষ একটিকেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের দাবি জানিয়ে আসছেন, কিন্তু বিজেপি সেই দাবি পূরণকরেনি। জাতীয় সড়ক সম্প্রসারণ-সহ মানুষের দাবির বিষয়ে সুকান্ত মজুমদার সংসদে একবারও সোচ্চার হননি। এই কারণেই আমরা তাদের বাংলা বিরোধী, দিল্লির চাকরবলি।’’ তিনি আরও জানান, রাজ্যে বিজেপি জিতলে প্রতিটি সিদ্ধান্তের জন্য তাদেরদিল্লির নেতাদের অনুমতি নিতে হবে। লক্ষ্মীর ভান্ডার প্রসঙ্গেও বিজেপি-কে আক্রমণকরেন অভিষেক। তিনি বলেন, ‘‘সুকান্ত মজুমদার দাবি করেন, তাঁরা ক্ষমতায় এলে লক্ষ্মীরভান্ডারের টাকা বাড়িয়ে দেবেন। অসম, ত্রিপুরা, গুজরাত, রাজস্থান এবং মধ্যপ্রদেশ-সহ ১৫টি রাজ্যে বিজেপি শাসন করছে।আমি তাদের চ্যালেঞ্জ করছি, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতো অন্তত একটি বিজেপি-শাসিত রাজ্যেসকল মহিলার জন্য একই ধরনের প্রকল্প চালু করে দেখাক। তারা যদি পারে, আমি আর কখনওএখানে ভোট চাইতে আসব না।’’

    অভিষেক কটাক্ষ করেন, বিজেপি আদতেপশ্চিমবঙ্গে বিহার এবং উত্তরপ্রদেশ থেকে ভোটার প্রবেশ করাচ্ছে। তাদের উদ্দেশ্য ‘সংস্কৃতি ওঐতিহ্য ধ্বংস’ করা। রাজ্যের ২ লক্ষ কোটি টাকা ‘পাওনা’ মিটিয়ে দেওয়ার দাবিও তোলেন তিনি। অভিষেক মনে করিয়ে দেন, ধূপগুড়িকেমহকুমা করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল তৃণমূল সরকার। তা পূরণ করা হয়েছে। তার পরেই তিনিবলেন, ‘‘বালুরঘাট থেকে অর্পিতা ঘোষ জিতলে আমরা স্থানীয় হাসপাতালটিকে মেডিক্যালকলেজে উন্নীত করার বিষয়ে অগ্রাধিকার দেব।’’পাশাপাশি তিনি আরও বলেন, ‘‘এখানে একটিহিমঘরের চাহিদা রয়েছে। রাজ্য বাজেটে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ঘোষণা করেছেন যে, রাজ্য জুড়ে৫০টি হিমঘর স্থাপন করা হবে। আমরা চতুর্থ বার ক্ষমতায় ফিরলে নিশ্চিত করব, এই জেলায়অন্তত দু’টি হিমঘর যাতে তৈরি হয়।’’
  • Link to this news (আনন্দবাজার)