ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধনের প্রক্রিয়া (এসআইআর) শুরুর আগে থেকেই অনুপ্রবেশ-প্রশ্নে পরস্পরের বিরুদ্ধে সুর চড়িয়েছে বিজেপি ও তৃণমূল কংগ্রেস। এই আবহে খোদ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে ‘সব চেয়ে বড় অনুপ্রবেশকারী’ বলেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এ বার কেন্দ্রের শাসক দল বিজেপিকেই অনুপ্রবেশকারী বলে সেই প্রচার-ভাষ্য আরও চড়া দাগে নিয়ে গেলেন মমতা। অনুপ্রবেশ এবং হিন্দুদের নাম বাদ দেওয়ার অভিযোগ তুলে পাল্টা তৃণমূলের বিরুদ্ধে সরব হয়েছে বিজেপি-ও।
নির্বাচনী প্রচার উপলক্ষে মুখ্যমন্ত্রী বুধবার বীরভূমের নানুর, মুর্শিদাবাদের বড়ঞা ও নবগ্রাম থেকে বিজেপি ও নির্বাচন কমিশনকে আক্রমণ করেছেন। তিনি বলেছেন, “বিজেপি দলটাই তো অনুপ্রবেশকারী, যাদের দেশ সম্পর্কে কোনও ধারণা নেই। কাকে বলছো অনুপ্রবেশকারী? অনুপ্রবেশ হলে, তার দায় তোমাদের। সীমান্ত নিরাপত্তা তোমার হাতে। চুপিচুপি করে ঢোকাও। আর ‘ছুপা রুস্তমে’র মতো খেলো!”
আসানসোলে বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য পাল্টা বলেছেন, “তৃণমূলের একমাত্র উদ্দেশ্য, বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারী, মৃতদের নাম ভোটার তালিকায় রাখা। এই ভাবে চললে আমরা নির্বাচন করার পক্ষে থাকব না! আন্দোলনে নামতে হবে।’’
রাজ্যে ‘উকুন বাছার মতো বেছে নাম বাদ’ এবং ‘বহিরাগত’ নাম ঢোকানোর অভিযোগ তুলে বিজেপিকে ফের নিশানা করেছেন মমতা। আর এই সূত্রেই এসআইআর-মামলায় এ দিন সুপ্রিম কোর্টের পর্যবেক্ষণকে ‘স্যালুট, প্রণাম’ জানিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য, “পদ্ম ফুলের বস্তা দিয়ে ফর্ম-৬ জমা করিয়ে নাম ঢোকাচ্ছিল। সুপ্রিম কোর্ট বলে দিয়েছে, হবে না। আমি খুশি। সুপ্রিম কোর্ট ভাল রায় দিয়েছে।’’ মুসলিমদের পাশাপাশি হিন্দু, তফসিলি, মতুয়া, রাজবংশী, মহিলাদের নাম কাটা হয়েছে বলে এ দিনও অভিযোগ তুলে বড়ঞার সভা থেকে মমতার আহ্বান, “মুর্শিদাবাদের মা-বোনেরা এত শান্ত হলে কী করে হবে? আপনাদের এত নাম কাটছে।” মুর্শিদাবাদ, মালদহ, উত্তর দিনাজপুর, নদিয়া, দুই ২৪ পরগনার পাশাপাশি তাঁর নির্বাচনী কেন্দ্র ভবানীপুরেও ৪০ হাজার নাম কাটা হয়েছে বলে স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন মমতা। এই পরিস্থিতিতে ট্রাইবুনালে আবেদনের জন্য দলীয় সহায়তা, যাবতীয় খরচ তাঁরাই দেবেন বলে ফের জানিয়েছেন মমতা। তাঁর নিজের বাড়িতেও দু’-এক জনের নাম বাদ গিয়েছিল, যাঁদের নাম পরে ভোটার তালিকায় উঠেছে বলে জানিয়েছেন তিনি।
যদিও তৃণমূলই হিন্দু ভোটারদের নাম বাদ দিতে ফর্ম-৭ জমা দিয়েছে বলে অভিযোগ তুলেছেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক। তাঁর বক্তব্য, “তৃণমূল বেছে বেছে যে বুথে বিজেপি লিড পায়, গোটা উত্তর ২৪ পরগনা, হাওড়া, কলকাতা, দক্ষিণ ২৪ পরগনা, বড়বাজারের একাংশে হিন্দু, উদ্বাস্তু ভোটারদের নাম বাদ দিয়েছে। বেছে বেছে মতুয়া ভোটারদের নাম কেটেছে তৃণমূল।”
কমিশনের প্রশাসনিক রদবদলে ‘ভাগাভাগি’র অভিযোগেও শাণ দিয়েছেন মমতা। ডায়মন্ড হারবারে এক এইআরও-র অস্বাভাবিক মৃত্যুর ঘটনাকে সামনে রেখে মমতার দাবি, “২২৫ জনের বেশি মানুষ মারা গিয়েছেন।” পাশাপাশি, দলীয় প্রার্থীদের মনোনয়ন-সতর্কতার কথা বলে মমতার পরামর্শ, “কমিশন যাঁদের নিয়োগ করেছেন, আপনাদের মনোনয়ন বাতিলে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।”