• নামে গ্রেফতারি পরোয়ানা, চর্চায় মোফাক্কেরুল
    আনন্দবাজার | ০৩ এপ্রিল ২০২৬
  • বুধবার রাত সাড়ে ১২টা। মালদহের সুজাপুর হাসপাতাল মোড়ের অবরোধস্থল। প্রায় ১৬ ঘণ্টা অবরোধের পরে, তখনও জাতীয় সড়ক থেকে সরেনি জনতা। তারই মধ্যে ছোট যাত্রিবাহী গাড়ির মাথায় দাঁড়িয়ে হ্যান্ডমাইক হাতে তিনি আন্দোলনকারীদের সঙ্গে কথা বলতে শুরু করলেন। একটু পরে উঠল অবরোধ। পরে, উস্কানিমূলক মন্তব্য করা, প্রশাসনকে হুমকি দেওয়ার অভিযোগে তাঁর নামে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হতে গৌড়বঙ্গে আলোচনার কেন্দ্রে মোফাক্কেরুল ইসলাম।

    পাঁচ বছর আগে বিধানসভা ভোটে উত্তর দিনাজপুরের ইটাহারে এমআইএম (মিম)-এর প্রার্থী হন এই আইনজীবী। ভোট পেয়েছিলেন ৮৩১টি। বুধবারের অবরোধ-পর্বের পরে পুলিশ-প্রশাসন বা কমিশনের নজর তাঁর দিকে। সে দিন সকাল থেকে মালদহে কলকাতা-শিলিগুড়ি ১২ নম্বর জাতীয় সড়ক অবরোধ করে কালিয়াচকের একাধিক জায়গায় বিক্ষোভ হয়। স্থানীয় সূত্রের খবর, ভোটার তালিকায় নাম না ওঠায় সুজাপুর এবং মোথাবাড়ি এলাকার বাসিন্দাদের ক্ষোভকে কাজে লাগাতে এমআইএমের স্থানীয় কিছু নেতা মোফাক্কেরুলকে সামনের সারিতে নিয়ে আসেন। এমআইএমের মালদহের সভাপতি মতিউর রহমান অবশ্য বলেন, ‘‘ওই আইনজীবী ঘটনাস্থলে ছিলেন বলে জেনেছি। আমরা হিংসায় বিশ্বাস করি না।’’ ঘটনাচক্রে, বুধবারই লাগোয়া জেলা মুর্শিদাবাদের নওদায় সভা করে গিয়েছেন এমআইএম চেয়ারম্যান আসাদউদ্দিন ওয়েইসি।

    সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে জাতীয় নির্বাচন কমিশন মোফাক্কেরুলের নামে বৃহস্পতিবার গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছে। এর পর থেকে পুলিশ তাঁকে বিভিন্ন জায়গায় খুঁজছে। এ দিন মোফাক্কেরুলকে একাধিক বার ফোন করা হলেও ধরেননি। জবাব দেননি মোবাইল-বার্তার।

    ইটাহারের পোরসা হাটখোলার বাসিন্দা চল্লিশোর্ধ্ব মোফাক্কেরুল এক সময়ে রায়গঞ্জ জেলা আদালতের আইনজীবী ছিলেন। পরে কলকাতা হাই কোর্টেও মামলা করতেন। হাই কোর্টের কাছে তাঁর চেম্বার। স্ত্রী-সন্তানদের নিয়ে কলকাতায় থাকেন। ২০২১ সালে বিধানসভা ভোটের আগে তিনি এমআইএমে যোগ দেন। সে বার তাঁর সমর্থনে ইটাহারে জনসভাও করেছিলেন ওয়েইসি।

    মোফাক্কেরুল বুধবার মালদহে থাকলেও, ইটাহারে তাঁর পরিবারের লোকেরা তা জানেন না বলে দাবি। বৃহস্পতিবার দুপুরে ইটাহারের বাড়িতে তাঁর দেখাও মেলেনি। তাঁর মা ফতেমা বিবির দাবি, পাঁচ মাস আগে এক রাতের জন্য ইটাহারের বাড়িতে এসেছিলেন মোফাক্কেরুল। ফতেমা বলেন, ‘‘বাড়িতে খুব কম আসে। হাই কোর্টে ওকালতি করে। বুধবার মালদহে কী করছিল, জানা নেই। তবে ও সাধারণ মানুষের পাশে থাকে।’’ ইটাহারের বাড়িতে মোফাক্কেরুলের বাবা, মা ও তাঁদের ছোট ছেলে ও পূত্রবধূ থাকেন। তাঁদের পড়শি তথা চিলিমপুর প্রাথমিক স্কুলের শিক্ষক আরজাউল হক বলেন, ‘‘ও খুব কম বাড়িতে আসে। দু’-এক দিনের বেশি থাকে না।’’

    সমাজমাধ্যমে মোফাক্কেরুলের ভিডিয়ো দিয়ে বিজেপির ‘বি-টিম’ এবং ‘সি-টিম’ হয়ে আইএসএফ এবং এমআইএম কাজ করছে বলে অভিযোগ করেছে তৃণমূল। উত্তর মালদহের বিজেপি সাংসদ খগেন মুর্মু বলেন, ‘‘বিজেপির টিম নেই। নিজেদের দোষ ঢাকতে চাইছে তৃণমূল।’’
  • Link to this news (আনন্দবাজার)