ভোটের মনোনয়ন-পর্ব শুরু হতে না হতেই ঝরল রক্ত। পূর্ব মেদিনীপুরের নন্দীগ্রামে এক প্রবীণ তৃণমূল কর্মীর মারধরে মৃত্যুর অভিযোগ ঘিরে শুরু হয়েছে চাপান-উতোর। তৃণমূল ও বিজেপি প্রার্থীদের মনোনয়ন ঘিরে উত্তেজনা দেখা দেয় অন্য জেলাতেও।
নন্দীগ্রামে মৃত শক্তি দাস ওরফে ফড়িং (৬৫) ভেকুটিয়ার বাসিন্দা। তৃণমূলের অভিযোগ, বৃহস্পতিবার সকালে দলীয় প্রার্থী পবিত্র করের মনোনয়নের সমর্থনে যাওয়ার পথে শক্তিকে বাঁশ দিয়ে মারধর করে বিজেপির লোকজন। পরে, নন্দীগ্রাম সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে তাঁর মৃত্যু হয়।
বুধবার রাতেও বিজেপির লোকজন বাড়ি গিয়ে শক্তিকে হুমকি দিয়েছে দাবি করে তৃণমূলের জেলা কর্মাধ্যক্ষ শেখ শামসুল ইসলাম বলেন, ‘‘ফড়িংকে খুন করা হয়েছে।’’ তৃণমূলের মুখপাত্র তথা বেলেঘাটার প্রার্থী কুণাল ঘোষেরও অভিযোগ, ‘‘অমিত শাহ যে দিন কলকাতায়, সে দিনই পরিকল্পনামাফিক নন্দীগ্রামে আমাদের কর্মীকে পিটিয়ে খুন করা হয়েছে।’’ শক্তির ছেলে শুকদেবের অবশ্য দাবি, ‘‘আমার সঙ্গে বাবার অশান্তি চলছিল। বাবা বিষপান করেন।’’ বিজেপির জেলা (তমলুক) সাধারণ সম্পাদক মেঘনাদ পালের বক্তব্য, ‘‘পারিবারিক কারণে উনি আত্মঘাতী হন।’’ লিখিত অভিযোগ হয়নি। পুলিশ অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলা করে দেহ ময়না-তদন্তে পাঠিয়েছে।
তৃণমূল-বিজেপির মনোনয়ন জমা দেওয়া ঘিরে এ দিন উত্তেজনা ছড়ায় বীরভূমের বোলপুর ও সিউড়ি শহরে। দুর্গাপুরে মহকুমাশাসকের দফতরে বিজেপি এবং তৃণমূলের প্রার্থীরা মনোনয়ন দিতে গেলে, বাইরে দু’দলের কর্মীরা স্লোগান-পাল্টা স্লোগান দেন। পুলিশ সামাল দিতে গেলে বিক্ষোভ হয়। বহরমপুরে কংগ্রেসের অধীররঞ্জন চৌধুরী মনোনয়ন দিতে গেলে, স্লোগান দেন তৃণমূল কর্মী-সমর্থকেরা। পুলিশ পরিস্থিতি সামলেছে।