নদিয়ার কৃষ্ণনগরে বৃহস্পতিবাররাতে জাতীয় সড়ক সংলগ্ন এলাকায় এক শিশুকন্যাকে ফেলে রেখে যাওয়ার অভিযোগ উঠল। ঝোপের মধ্যে পড়ে থাকা শিশুটিকে সারা রাত আগলে রাখল একদল রাস্তার কুকুর।পরে ওই শিশুকে উদ্ধার করেন এক টোটোচালক। বর্তমানে শিশুটির ঠাঁই হয়েছে সরকারিহোমে। তার পরিচয় জানার চেষ্টা চালাচ্ছে পুলিশ।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানাগিয়েছে, বৃহস্পতিবার রাত ১০টা নাগাদ কৃষ্ণনগরের এক টোটোচালক নবদ্বীপে যাত্রীনামিয়ে ফিরছিলেন। জাতীয় সড়কের ধারে একটি বিলাসবহুল হোটেলের পাশে ফাঁকা জায়গায় টোটোদাঁড় করাতেই তাঁর কানে আসে বেশ কিছু কুকুরের অস্বাভাবিক চিৎকার ও কান্নার শব্দ।উৎসুক হয়ে এগিয়ে যেতেই তিনি দেখেন, একটি ঝোপের সামনে কয়েকটি কুকুর অদ্ভুত আচরণ করছে। অদ্ভুতভঙ্গিতে তারা ঝোপের ভিতরে ঢুকছেএবং বেরিয়ে এসে ডাকাডাকি করছে। আর একটু কাছে যেতেই ভেসে আসছে শিশুর কান্নার শব্দ। সাহস করে ভিতরেঢুকে ওই টোটোচালক দেখেন, অন্ধকারে ঝোপের মধ্যে পড়ে কাঁদছে এক শিশুকন্যা। তাকে ঘিরেরয়েছে চারটি কুকুর।
তৎক্ষণাৎ শিশুটিকে উদ্ধার করেনিজের বাড়িতে নিয়ে যান ওই চালক। প্রতিবেশীদের মাধ্যমে খবর দেন কৃষ্ণনগরকোতোয়ালি থানায়। উদ্ধারকারীর পরিবারের লোকজন শুক্রবার রাতে শিশুটিকে নিয়ে থানায়পৌঁছোন। উদ্ধারকারীর বৌদি মিনু ভৌমিক বলেন,‘‘কী ভাবে এক জন মা-বাবা এমনফুলের মতো শিশুকে রাস্তায় ফেলে যেতে পারে,তা ভেবেই আমরা শিউরে উঠছি। কুকুরগুলি নাআগলে রাখলে হয়তো বড় কোনও বিপদ ঘটে যেত। আমরা বাচ্চাটিকে নিরাপদে থানায় পৌঁছেদিয়েছি।’’
কৃষ্ণনগর পুলিশ সূত্রে জানানোহয়েছে, শিশুটিকে আপাতত চাইল্ড লাইনের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। আইনি প্রক্রিয়ামেনে তাকে বর্তমানে একটি সরকারি হোমে রাখা হয়েছে। কৃষ্ণনগর পুলিশ জেলার ডিএসপিশিল্পী পাল জানিয়েছেন, শিশুটিকে উদ্ধার করে নারী ও শিশু সুরক্ষা দফতরের অধীনেহস্তান্তর করা হয়েছে। কে বা কারা এই শিশুকে ফেলে গেল, তা জানতে তদন্তশুরু করেছে পুলিশ। ওই এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখে অভিযুক্তদের শনাক্ত করারচেষ্টা চলছে। আপাতত হোমে চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণে সুস্থ রয়েছে ওই শিশু।