ভোটারদের চিহ্নিত করার নির্দেশ দিচ্ছেন বিএসএফের ডিজি! অভিযোগ মহুয়ার, প্রশ্ন আধা সামরিক বাহিনীর শীর্ষ পদে আইপিএস বসানো নিয়েও
আনন্দবাজার | ০৫ এপ্রিল ২০২৬
ভোটারদের চিহ্নিত করার জন্য নির্দেশ দিচ্ছেন সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)-র ডিজি প্রবীণ কুমার। এমনই অভিযোগ তুললেন কৃষ্ণনগরের তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্র। তাঁর দাবি, কমিশনের নিয়ম ভেঙে এক্তিয়ার বহির্ভূত ভাবে বিএসএফ-কে এই নির্দেশ দিয়েছেন বাহিনীর প্রধান। মহুয়ার বক্তব্য, ভোটারদের চিহ্নিত করার কাজ বিএসএফের নয়। এর জন্য নির্বাচন আধিকারিক (পোলিং অফিসার) রয়েছেন।
সম্প্রতি সংসদের উভয় কক্ষে পাশ হয়েছে কেন্দ্রীয় আধাসেনা বাহিনী (সিএপিএফ) সংক্রান্ত বিল। এই বিলে বাহিনীর শীর্ষ পদে ‘ডেপুটেশন’-এ আসা আইপিএস অফিসারদের নিয়োগের কথা বলা হয়েছে। তৃণমূল শুরু থেকেই এই বিলের বিরোধিতা করে আসছে। সেই কথাই স্মরণ করিয়ে দিয়ে বিএসএফের ডিজি প্রবীণ কুমারের প্রসঙ্গ টেনেছেন মহুয়া। দু’মাস আগেই, গত জানুয়ারিতে বিএসএফের ডিজি নিয়োগ করা হয় ওই আইপিএস অফিসারকে। মহুয়ার খোঁচা, প্রবীণকে প্যারাশুটে করে এনে বসিয়ে দেওয়া হয়েছে বাহিনীর শীর্ষ পদে।
তৃণমূল সাংসদের অভিযোগ, প্রত্যেক ভোটকেন্দ্রে ভোটারদের চিহ্নিত করার জন্য এক জন পুরুষ এবং এক জন মহিলা বিএসএফ জওয়ানকে মোতায়েন করার নির্দেশ দিয়েছেন প্রবীণ। এ ছাড়া প্রতিটি বুথে বসানো ক্যামেরার ফিডে নজর রাখার জন্যও দু’জন জওয়ানকে মোতায়েনের নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। সাংসদের বক্তব্য, এই দু’টির মধ্যে কোনওটিই বিএসএফের কাজ নয়। এর জন্য কমিশন নিযুক্ত আধিকারিক রয়েছেন। এমন নির্দেশ দিয়ে বিএসএফের ডিজি কমিশনের নিয়ম ভেঙেছেন বলে অভিযোগ মহুয়ার।
লোকসভাতেও গত বৃহস্পতিবার সিএপিএফ বিলের বিরোধিতা করেছেন মহুয়া। আইপিএসদের আধাসেনা বাহিনীর শীর্ষ পদে বসিয়ে কেন্দ্র আসলে বিরোধীদের চাপে ফেলতে চাইছে বলে লোকসভায় অভিযোগ তোলেন মহুয়া। তিনি বলেন, “সিএপিএফ-এ আইপিএস অফিসারদের ডেপুটেশনকে আসলে ভোটের সময়ে বিরোধী দলগুলির বিরুদ্ধে অস্ত্র হিসাবে ব্যবহার করা হয়।” এ প্রসঙ্গে পশ্চিমবঙ্গের পরিস্থিতির কথাও উল্লেখ করেন তিনি। লোকসভায় সে দিন মহুয়া বলেন, “পশ্চিমবঙ্গ ক্যাডারের সব আইপিএসদের সরিয়ে দেওয়া হল। আপনারা (কেন্দ্র) বলছেন, তাঁরা তৃণমূলের এজেন্ট। কিন্তু আপনারা কী করলেন? আপনারা বিজেপিশাসিত রাজ্য থেকে আইপিএস অফিসারদের নিয়ে এলেন এ রাজ্যে সিএপিএফকে নিয়ন্ত্রণ করতে।”
এ প্রসঙ্গে মহুয়ার আরও জানান, উত্তরপ্রদেশ ক্যাডারের ২০০৬ সালের ব্যাচের এক আইপিএস অফিসার দু’মাস আগেই (গত জানুয়ারিতে) ডেপুটেশনে সিআরপিএফ-এ যোগ দিয়েছেন। এখন তিনিই পশ্চিমবঙ্গে ভোটের দায়িত্ব রয়েছেন। আবার ওই আইপিএস অফিসারের স্ত্রীও মণিপুর ক্যাডারের আইপিএস অফিসার। তিনিও আইবি-র জয়েন্ট ডিরেক্টর এবং তিনিও এ রাজ্যে রয়েছেন বলে দাবি মহুয়ার। এমন আরও এক আইপিএস দম্পতিকে পশ্চিমবঙ্গে পাঠানো হয়েছে বলে দাবি মহুয়ার। সদ্য আধাসেনা বাহিনীতে যোগ দেওয়া এই অফিসারদের কেন পশ্চিমবঙ্গে পাঠানো হচ্ছে, তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তৃণমূল সাংসদ।