• প্রচারে গুরুত্ব পাচ্ছে প্রাতর্ভ্রমণ বা বাজারে ছোট জমায়েত
    আনন্দবাজার | ০৫ এপ্রিল ২০২৬
  • ভোরের আলো ফুটতেই শহরের বিভিন্ন পার্কে, সরোবরের ধারে বা অলিগলিতে নতুন চিত্র। হাতে জল-ভর্তি বোতল, তোয়ালে নিয়ে হাঁটতে বেরোনো মানুষের মধ‌্যেই হঠাৎ হাজির রাজনৈতিক দলের প্রার্থীরা। মাইকের আওয়াজ নেই, বরং সরাসরি কথোপকথনেই জোর। প্রাতর্ভ্রমণের এই সময় নির্বাচনী প্রচারের গুরুত্বপূর্ণ মঞ্চ হিসেবে বেছে নিয়েছেন প্রার্থীরা।

    সাধারণত, প্রাতর্ভ্রমণকারীদের বড় অংশ প্রবীণ ও মধ্যবিত্ত নাগরিক। যাঁরা নিয়মিত খবর পড়েন, রাজনৈতিক পরিস্থিতি সম্পর্কে সচেতন এবং নিজেদের মতামত প্রকাশ করেন। ফলে, তাঁদের কাছে পৌঁছনো মানে এক ধরনের ‘কোয়ালিটি ইন্টারঅ্যাকশন’, এমনটাই মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা। তাই সকালেই পার্কে বা লেকের ধারে দেখা যাচ্ছে প্রার্থীর সঙ্গে দলীয় কর্মীদের ছোট দলকে।

    পানিহাটি বিধানসভা কেন্দ্রের সিপিএম প্রার্থী কলতান দাশগুপ্ত জানালেন, সম্প্রতি এ ভাবে প্রচার শুরু করেছেন। ইতিমধ্যেই এক দিন পানিহাটির মহোৎসবতলা ঘাট এবং বারোমন্দির ঘাটে বসে মানুষের সঙ্গে কথা বলেছেন। তাঁদের সমস্যা শুনেছেন। যা খুব ইতিবাচক।

    চুঁচুড়া বিধানসভা কেন্দ্রের তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী দেবাংশু ভট্টাচার্য বললেন, “প্রাতর্ভ্রমণ বা বাজারের ভিড়ে মিশে মানুষের সঙ্গে কথা বললে তাঁদের কাছাকাছি পৌঁছনো যায়। এর মধ্যেই এক দিন চুঁচুড়ার মাঠের ধার অঞ্চলে যাব। সকালে ওখানে সব বয়সের মানুষের সঙ্গে কথা বলব বলেও ঠিক করেছি।’’ খড়্গপুর সদরের বিজেপি প্রার্থী দিলীপ ঘোষ বরাবরই স্বাস্থ্য সচেতন মানুষ। তিনি বলেন, ‘‘এত দিন তো এ ভাবেই সকালে বেরিয়ে মানুষের সঙ্গে কথা বলছিলাম। এ বার প্রচার শুরু করব। সারা বছর এই রুটিনটাই ফলো করি। তাই নির্বাচনের সময়েও এটা বাদ দিই না। এতে দুটো কাজ‌ই ভাল ভাবে একই সঙ্গে হয়ে যায়।’’

    প্রাতর্ভ্রমণকারীদের কেউ কেউ এই উদ্যোগকে ইতিবাচক ভাবে দেখছেন, কেউ আবার বিপরীত মতের পক্ষে। অনেকের মতে, এতে প্রার্থীদের কাছ থেকে সমস্যা সমাধানের আশ্বাস সরাসরি পাওয়া যায়, যা অন্য সময়ে সম্ভব হয় না। আবার অনেকের মত, ব্যক্তিগত সময়েও রাজনীতির অনুপ্রবেশ বাড়ছে, যেটা কিছুটা বিরক্তিকর। খড়দহ বিধানসভা কেন্দ্রের এক বাসিন্দা তনুশ্রী চক্রবর্তী বলেন, “মানুষের সঙ্গে কথা বলার ভাল পদ্ধতি এটা। এক গাদা পতাকা আর ব্যানার নিয়ে কথা বলতে আসার চেয়ে ব্যক্তিগত পরিসরে ভাল ভাবে মতামত বিনিময় হতে পারে। প্রার্থী যদি নিজের স্বাস্থ‌্য এবং রাজনীতি, দু’টিই একসঙ্গে সামলাতে চান, তবে এটি ভাল উদ‌্যোগ।’’

    আবার মানিকতলা বিধানসভা কেন্দ্রের বাসিন্দা এক প্রাতর্ভ্রমণকারীর মতে, “অনেক সময়ে এটি খুব বিরক্তিকর বলে মনে হয়। সকালটা একটু শান্তিতে পার্কে হাঁটতে আসি। তাতেও যদি নেতারা এসে ব্যাঘাত ঘটান, তখন সমস্যা হয়।’’

    দেখা যাচ্ছে, নির্বাচনী প্রচারের ধরনে ক্ষীণ পরিবর্তন এসেছে। বড় সভার পাশাপাশি এখন গুরুত্ব পাচ্ছে ছোট, কিন্তু সরাসরি যোগাযোগের মাধ্যম। ভোরের নির্মল পরিবেশে হাঁটার ছন্দে মিশে যাচ্ছে ভোটের আলোচনা। প্রার্থীরাও বুঝে গিয়েছেন, ভোটের লড়াই এখন আর কোনও সময়েই ফাঁকা রাখা চলবে না। তাই প্রাতর্ভ্রমণও হয়ে উঠেছে রাজনৈতিক লড়াইয়ের গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র।
  • Link to this news (আনন্দবাজার)