ভবানীপুরে শুভেন্দুর মনোনয়নে অশান্তি করার অভিযোগে নোটিস পাঠানো শুরু! ভিডিয়ো ফুটেজে চিহ্নিত অভিযুক্তেরা
আনন্দবাজার | ০৫ এপ্রিল ২০২৬
ভবানীপুরে রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর মনোনয়নজমা দেওয়াকে কেন্দ্র করে অশান্তির ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে এ বার পদক্ষেপ করল কলকাতাপুলিশ। সিসিটিভি ক্যামেরার ভিডিয়ো ফুটেজ খতিয়ে দেখে ওই ঘটনার জড়িত ৩৫-৪০ জনকেচিহ্নিত করে নোটিস পাঠানো শুরু হয়েছে বলে লালবাজার সূত্রের খবর।
কলকাতা পুলিশের এক কর্তা জানিয়েছেন, বৃহস্পতিবারের ওই ঘটনাসংক্রান্ত তিনটি মামলায় ওই নোটিস পাঠানো হয়েছে। বৃহস্পতিবার মনোনয়ন দাখিল করার আগেশুভেন্দুর রোড শো-তে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ স্বয়ং।সেই কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে অশান্তির ঘটনায় এফআইআর দায়ের করেছে কলকাতা পুলিশ।নির্বাচন কমিশনের অভিযোগের ভিত্তিতেও পদক্ষেপ করা হয়েছে। ওই অশান্তির ঘটনারপ্রেক্ষিতে কলকাতা পুলিশের ডিসি ২(দক্ষিণ) সিদ্ধার্থ দত্ত এবং ডিসি ২ (রিজ়ার্ভ ফোর্স) মানস রায়কে ইতিমধ্যেই শো কজ়করা হয়েছে বলে লালবাজার সূত্রের খবর। অশান্তির দিন তাঁরা ওই এলাকায় নিরাপত্তারদায়িত্বে ছিলেন। কী ভাবে ওই পরিস্থিতি তৈরি হল, কেন জমায়েত করতে দেওয়া হল,কারণ দর্শাতে হবে এই দুই আধিকারিককে।
কমিশনের নির্দেশের প্রেক্ষিতেই দুই আধিকারিকের বিরুদ্ধেপদক্ষেপ করা হয়েছে বলে কলকাতা পুলিশের একটি সূত্র জানাচ্ছে। প্রসঙ্গত, বৃহস্পতিবারহাজরা মোড় থেকে শুরু হয়েছিল শুভেন্দুদের রোড শো। সার্ভে বিল্ডিং পর্যন্ত রোড শোকরেই মনোনয়ন জমা দিতে গিয়েছিলেন শুভেন্দু। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়েরবাড়ির সামনে দিয়ে মিছিল যাওয়ার সময় পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। সেখানে তৃণমূলেরকর্মী-সমর্থকেরা মাথায় কালো কাপড় বেঁধে বিক্ষোভ দেখাচ্ছিলেন। তাঁদের সঙ্গে বিজেপিকর্মীরা তর্কাতর্কিতে জড়িয়ে পড়েন। ক্রমে তা ধস্তাধস্তির পর্যায়ে পৌঁছোয়। এই ঘটনারপরেই সংশ্লিষ্ট জেলা নির্বাচনী আধিকারিকের (ডিইও) কাছে রিপোর্ট তলব করেছিল কমিশন।
ভবানীপুরে অশান্তির পরেই রাজ্য প্রশাসনের শীর্ষ আধিকারিকদেরসঙ্গে বৈঠকে করেছিলেন দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার। সূত্রের খবর, কলকাতারপুলিশ কমিশনার অজয় নন্দকে ভর্ৎসনা করেন তিনি। বলেন, ‘‘আইপিএস অফিসারহয়ে কলকাতা সামলাতে পারছেন না? আপনাকে কি প্রশিক্ষণ দিতে হবে?’’ওই গোলমালের ঘটনায় কালীঘাট এবং আলিপুর থানায় পৃথক ভাবে তিনটি অভিযোগদায়ের হয়েছিল। তার ভিত্তিতে পুলিশ এফআইআর করে। দু’টি এফআইআর করা হয়েছেস্বতঃপ্রণোদিত ভাবে। কমিশনের আধিকারিকদের অভিযোগের ভিত্তিতেও পদক্ষেপ করা হয়েছে।অভিযোগ রয়েছে মূলত বেআইনি জমায়েত, স্লোগান, পাল্টা স্লোগানে উত্তপ্ত পরিস্থিতি এবং সরকারি নির্দেশিকা লঙ্ঘনের। অভিযোগ,বৃহস্পতিবার বিজেপির কর্মসূচিতে পুলিশের অনুমতি আগে থেকেই নেওয়াছিল। তবে তৃণমূলের তরফে কোনও জমায়েতের অনুমতি ছিল না বলে দাবি বিজেপির।