আনুষ্ঠানিক যোগদান হয়েছিলদিল্লিতে। বিজেপিতে কেন যোগ দিলেন, তার ব্যাখ্যা সে দিনই দিয়েছিলেন। চার দিন পরেকলকাতায় এসে আরও একবার বিজেপি-তে যোগদানের কারণ ব্যাখ্যা করলেন প্রাক্তন টেনিসতারকা লিয়েন্ডার পেজ়। ভোট রাজনীতির চেয়ে ক্রীড়া প্রশাসনেই যে তাঁর আগ্রহ বেশি,সে কথাও বুঝিয়ে দিলেন স্পষ্ট ভাবেই। জানালেন যে, ২০৩৬ সালের অলিম্পিক্সের আসরভারতে নিয়ে আসার দায়িত্ব প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী তাঁকে দিয়েছেন। আর শনিবারবিধাননগরের বিজেপি দফতরে লিয়েন্ডারের সাংবাদিক বৈঠক শেষ হতেই খবর এল যে তিনি ওয়াইক্যাটেগরির কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা পাচ্ছেন।
লিয়েন্ডার শনিবার জানিয়েছেন যে,তিনি গোটা দেশে টেনিসের উন্নতির লক্ষ্যে কাজ করতে চান। সে বিষয়ে কথা বলতেইপ্রধানমন্ত্রী মোদীর কাছে সময় চেয়েছিলেন। প্রধানমন্ত্রী ‘ব্যস্ততার মাঝেও’ কী ভাবেতাঁর সব কথা ‘মন দিয়ে শুনেছেন’, তা একাধিক বার জোর দিয়ে উল্লেখ করেন দেশেরসর্বকালের অন্যতম সেরা টেনিস খেলোয়াড়। তার পরেজানান, তাঁর সমস্ত কথা শোনার পরে প্রধানমন্ত্রী তাঁকে কিছু পরামর্শ দিয়েছেন। লিয়েন্ডার বলেন, ‘‘প্রধানমন্ত্রীর দেওয়াপরামর্শ অনুযায়ীই আমি কাজ করতে চাই। আগামী ২০ বছরে ২৫ কোটি ছেলেমেয়ের জীবন আমি ক্রীড়াএবং ক্রীড়া সংক্রান্ত শিক্ষার মাধ্যমে গড়তে চাই।’’ প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশেক্রীড়ামন্ত্রী কিরেন রিজিজুও তাঁকে সহযোগিতা করছেন বলে লিয়েন্ডার জানান।
শুধু টেনিসের জন্য নয়,অলিম্পিক্সের আসর ভারতে আনার লক্ষ্যেও তিনি কাজ করবেন বলে লিয়েন্ডার জানিয়েছেন।তিনি বলেন, ‘‘প্রধানমন্ত্রী মোদীজি আমাকে একটা দায়িত্ব দিয়েছেন। ২০৩৬ সালেরঅলিম্পিক্সের জন্য আমাকে পরিশ্রম করতে হবে। টিম বানিয়ে অলিম্পিক্স এই দেশেই আনতেহবে। মোদীজির কাছে অলিম্পিক্স আনতেই হবে। গুজরাতে যে কমনওয়েলথ গেমস হবে, তার জন্যপরিশ্রম করতে হবে। আমি পরিশ্রম করব।’’
ভারতীয় টেনিসে তথা ক্রীড়াক্ষেত্রেপ্রথম সারির প্রশাসকের ভূমিকায় লিয়েন্ডারকে যে এ বার দেখা যেতে পারে, সে কথা তাঁরবিজেপিতে যোগদানের দিন থেকেই শোনা যাচ্ছিল। পশ্চিমবঙ্গের টেনিস অ্যাসোসিয়েশনেরমাথা হিসাবে তিনি এমনিতেই কাজ করছিলেন। তবে এ বার গোটা দেশের টেনিস প্রশাসনেইতাঁকে গুরুদায়িত্বে দেখা যেতে পারে বলে জল্পনা তৈরি হয়েছিল। শনিবার লিয়েন্ডারনিজেই সে জল্পনার অবসান ঘটিয়ে দিলেন। টেনিসের জন্য তো বটেই, কমনওয়েলথ গেমস এবংঅলিম্পিক্সের জন্যও যে তিনি কাজ করবেন, সে কথা লিয়েন্ডার নিজেই জানিয়ে দিলেন।
লিয়েন্ডারকে কেন্দ্রীয় সরকারআধাসামরিক নিরাপত্তাও দিচ্ছে। শনিবার তাঁর সাংবাদিক বৈঠক শেষ হওয়ার পরেই সে খবরআসে। টেনিস তারকাকে আপাতত ‘ওয়াই ক্যাটেগরি’র কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা দেওয়া হচ্ছে বলেবিজেপি সূত্রে জানা গিয়েছে।
মার্চের শেষ সপ্তাহে দু’দিনের সফরেকলকাতায় এসেছিলেন বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি নিতিন নবীন। নিউটাউনের যে হোটেলেনিতিন ছিলেন, সেখানে গিয়ে বিজেপি সভাপতির সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছিলেন লিয়েন্ডার। সেদিন থেকেই তাঁর বিজেপিতে যোগদানের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়ে গিয়েছিল। বিজেপিসূত্রে জানা গিয়েছিল যে, মাস আটেক আগেই দিল্লিতে বিজেপি নেতৃত্বের সঙ্গে লিয়েন্ডারকথাবার্তা সেরে ফেলেছেন। বিজেপিতে যোগ দেওয়ার পরে তিনি দেশের ক্রীড়া প্রশাসনে বড়ভূমিকা পেতে চলেছেন বলেও শোনা যাচ্ছিল তখন থেকেই। গত ৩১ মার্চ তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে বিজেপিতে যোগ দেন।
তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দিলেওতৃণমূলের নাম করে কোনও মন্তব্য লিয়েন্ডার শনিবার করেননি। এ রাজ্যে ক্রীড়ারউন্নতির জন্য কিছুই হচ্ছে না বলে শুধু তিনি মন্তব্য করেছেন। যুবভারতীতে লিয়োনেলমেসির ইভেন্টের দিন যে বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়েছিল, কোনও ক্রীড়াবিদ ওই ইভেন্টেরদায়িত্বে থাকলে তা হত না বলেও তিনি দাবি করেছেন। নিজের বাঙালি পরিচয়ে বার বার জোরদিয়েছেন। বলেছেন, ‘‘আমার নাম হয়তো সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায় নয়। আমার নাম লিয়েন্ডার পেজ়।কারণ আমার বাবা পর্তুগিজ়, গোয়ার মানুষ। কিন্তু আমার মা বাঙালি ছিলেন। আমি কলকাতায়জন্মেছি। পশ্চিমবঙ্গ আমার মাতৃভূমি।’’ তৃণমূল তাঁকে ‘বহিরাগত’ বলে যে আক্রমণকরেছিল, তার জবাব দিতেই যে লিয়েন্ডার কথাগুলি বলেছেন, সে নিয়ে কারও সংশয় নেই।