রাজনীতিবিদেরা মহাপুরুষ নন! আমাদের সমাজ যেমন, নেতারাও তো তেমনই হবেন: অনুপম রায়
আনন্দবাজার | ০৫ এপ্রিল ২০২৬
১. মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে কাকে দেখতে চান?
অনুপম রায়: এই প্রশ্নটা বরং এড়িয়ে যাওয়াই ভাল।
২. দল দেখে ভোট দেন না কি প্রার্থী দেখে?
অনুপম: কঠিন বিষয়! তবে শেষ পর্যন্ত দল দেখেই ভোট দেওয়া হয়ে যায়।
৩. প্রার্থী বাছাইয়ের পরীক্ষা হলে কেমন হয়? আর জেতার পরে যদি হয় বিধায়কের প্রশিক্ষণ?
অনুপম: প্রশ্ন হল, এই পরীক্ষাটা নেবেন কে? আসলে নিরপেক্ষ পরীক্ষকও তো পাওয়া যায় না। সেখানে আরও একটা কারচুপি, আরও একটা মিথ্যাচার। ক্রমশ পরীক্ষাটাও গুরুত্ব হারিয়ে ফেলবে। আসলে মানুষই একটা সিস্টেম তৈরি করে, আবার মানুষই সেই সিস্টেমকে ধ্বংস করে। তবে বিধায়কের প্রশিক্ষণ হলে তো খুবই ভাল হয়। কিন্তু যা কিছু ভাল বা আদর্শগত, অধিকাংশেই তা বাইপাস করে দেয়। যেমন নির্বাচন পদ্ধতি তো গণতন্ত্র রক্ষার্থেই করা হয়। কিন্তু আজ তো সেই পদ্ধতিটাই নিয়ন্ত্রিত হয় ক্ষমতাশীলদের দ্বারা। যার হাতে ক্ষমতা, সে-ই মানুষকে ভোট দেওয়ার জন্য প্রভাবিত করতে পারে।
৪. নিজে বিধায়ক হলে কী বদলাতে চাইতেন?
অনুপম: অনেক কিছুই বদলানো যেতে পারে। তবে আমি সবচেয়ে বেশি চিন্তিত থাকি পরিবেশ নিয়ে। শহরগুলোয় এখন শ্বাস নেওয়ার মতো বাতাস নেই। এই পরিবেশেই মানুষ পড়াশোনা করে, জীবিকা নির্বাহ করবে এবং সংসার পাতবে। কিন্তু তাকে সবার আগে তো প্রাণে বাঁচতে হবে। ক্রমশ আমাদের কলকাতা শহরের পরিবেশেরই অবনতি হচ্ছে। তাই সুযোগ হলে আমি পরিবেশের দিকেই সবার আগে নজর দেব।
৫. আপনার পেশার জগতের কোনও অভিযোগ কি ভোট প্রচারে গুরুত্ব পাওয়া দরকার?
অনুপম: এটাও খুব কঠিন প্রশ্ন! এটা আমি সত্যিই ভেবে দেখিনি।
৬. নির্বাচন প্রক্রিয়াকে দুর্নীতিমুক্ত রাখতে পারে কী কী?
অনুপম: সততার প্রসঙ্গই চলে আসে। যারা নির্বাচন প্রক্রিয়ার আয়োজক, তাদের নির্লোভ হতে হবে। তাদের যেন কেউ কিনে না নিতে পারে। সেই সঙ্গে তাদের নির্ভীকও হতে হবে, যাতে তাদের প্রাণের হুমকি দিলেও তারা সততার দিক থেকে অনড় থাকতে পারে! খুবই আদর্শবান হতে হবে। তবে এগুলি একজন মানুষের থেকে প্রত্যাশা করা খুবই কঠিন। কোনও মহাপুরুষ নির্বাচন কমিশন চালালে, তবেই ভোট প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ দুর্নীতিমুক্ত রাখা যায়! কিন্তু সেই মহাপুরুষ কোথায়? সে ক্ষেত্রে যন্ত্রের উপর নির্ভর করার কথা উঠতে পারে। কিন্তু যন্ত্রকেও মানুষ নিয়ন্ত্রণ করতে পারে।
৭. ঘন ঘন দলবদলের বিরুদ্ধে কি ব্যবস্থা নেওয়া দরকার?
অনুপম: এর উত্তর জানা নেই! তবে প্রথম থেকেই যদি চুক্তি করা হয়, একটি দলে যোগ দিলে অন্তত ১৫ বছর সেখানেই থাকতে হবে। কিন্তু এই আইন কেউ আনবে না। তাই দল পরিবর্তনের বিষয়টি ভীষণ ভাবেই থেকে যাবে।
৮. রাজনীতিতে অপশব্দের প্রয়োগ কি জরুরি?
অনুপম: রাজনীতি যাঁরা করছেন, তাঁরা সমাজেরই অঙ্গ। এটা সমাজের সমস্যা। অপশব্দের প্রয়োগ বেড়ে গিয়েছে। গত ২০ বছরে আমি রাস্তাঘাটে তা লক্ষ করেছি। আগে যে কথা প্রকাশ্যে বলা যেত না, তা আজকাল অনায়াসেই বলা হচ্ছে। সমগ্র মানবজাতির অবস্থাই খারাপ হচ্ছে। ক্রমশ ‘হ্যাপিনেস ইনডেক্স’-এর অবনতি হচ্ছে। জীবনের মান খারাপ হচ্ছে। তাই অপশব্দের ব্যবহার করে মানুষ আরাম পাচ্ছে। রাজনীতিবিদরা সমাজের বাইরের ‘মহাপুরুষ’ নন। তাঁরাও তো এই সমাজেরই অংশ। সমাজ যেমন হবে, আমাদের নেতারাও তো তেমনই হবেন।
৯. দেশজ সংস্কৃতি, উন্নয়ন না কি সমান অধিকার— ভোট প্রচারে কোনটা বেশি গুরুত্বপূর্ণ?
অনুপম: আমার চোখে অধিকারের লড়াই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। এটা প্রাথমিক। তার পরেই উন্নয়নের গুরুত্ব।
১০. ভাতা-র রাজনীতি সমাজের উন্নতি করে কি?
অনুপম: এটা অর্থনীতিবিদরা ভাল বলতে পারবেন। কী ভাবে অর্থনীতির উন্নতি হয়, সে বিষয়ে আমার ধারণা নেই। এই উত্তর দেওয়ার জন্য আমি ঠিক লোক নই।
১১. প্রায় বিরোধীশূন্য রাজনীতি কি স্বাস্থ্যকর?
অনুপম: একদমই নয়। বিরোধীশূন্য রাজনীতি কোনও দিনই স্বাস্থ্যকর নয়। একজন রাজা থাকবে। তার কেউ বিরোধিতা করবে না। এমন হতে পারে না! গণতন্ত্রের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ই হল বিরোধীপক্ষ, যারা অনবরত ত্রুটি ধরবে। তা হলেই একমাত্র ক্ষমতা নিয়ন্ত্রণে থাকে।
১২. তারকারা কি ভোট টানার শর্টকাট?
অনুপম: আমাদের দেশে কিছু রাজ্যে অবশ্যই তারকাদের জন্য ভোট আসে। দক্ষিণ ভারতের রাজনীতিতে তারকাদের বিশেষ ভূমিকা রয়েছে। জাতীয় ক্ষেত্রেও জনপ্রিয় মুখেদের রাজনীতির ময়দানে দেখা যায়। এক এক রাজনৈতিক দলের এক এক পন্থা। এগুলো সবই ভোট জেতার অস্ত্র।
১৩. পছন্দের রাজনীতিবিদ কে?
অনুপম: একজন আজকাল ভাল কথা বলছেন— রাঘব চ়়ড্ঢা। ওঁর কথা শুনতে আমার ভাল লাগে।