• উত্তর সিকিমে ধস! সদ্য তৈরি সেতুর একাংশ ভাঙল হুড়মুড়িয়ে, লাচেনে বহু পর্যটক আটকে, চলছে উদ্ধারকাজ
    আনন্দবাজার | ০৬ এপ্রিল ২০২৬
  • উত্তর সিকিমে ধস। সদ্য তৈরি করাসেতুর একাংশ ভেঙে পড়েছে হুড়মুড়িয়ে। তার ফলে লাচেনের সঙ্গে যোগাযোগ প্রায় বিচ্ছিন্নহয়ে গিয়েছে। রাস্তা বন্ধ রেখে উদ্ধারকাজ চলছে। বহু পর্যটক আটকে পড়েছেন। স্থানীয়সূত্রে খবর, গত কয়েক সপ্তাহ ধরে সিকিম এবং উত্তরবঙ্গের পাহাড়ি এলাকায় দুর্যোগচলছে। ঝড়বৃষ্টি লেগেই আছে। সিকিমে তুষারপাতও হচ্ছে ঘন ঘন। আবহাওয়ার কোনও প্রভাবসেতুর উপর পড়েছে কি না, স্পষ্ট নয়।

    উত্তর সিকিমের লাচেনে তাড়ামচুএলাকায় সম্প্রতি সেতু তৈরি করা হয়েছিল। গত ফেব্রুয়ারি মাসে তার উদ্বোধন হয়। এই সেতুরমাধ্যমে সিকিমের পার্বত্য এলাকায় পর্যটক এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের যাতায়াত কিছুটাসুগম হয়েছিল। কিন্তু এক মাসের মাথায় সেই সেতুর একাংশ ধসের কবলে। অনির্দিষ্ট কালেরজন্য লাচেনের একটি অংশের সঙ্গে যোগাযোগ বন্ধ হয়ে পড়েছে। চুংথাং থেকে লাচেনের দিকেযাওয়ার রাস্তা আপাতত সম্পূর্ণ অবরুদ্ধ। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, সে দিকেশতাধিক পর্যটক রয়েছেন। তাঁদের উদ্ধারের চেষ্টা চলছে। রাস্তার বরফ সরিয়ে পর্যটকদেরউদ্ধারের কাজে হাত লাগিয়েছে সেনা, ইন্দো-টিবেটান বর্ডার পুলিশ, বর্ডার রেডঅর্গানাইজ়েশনের আধিকারিকেরা।

    পরিস্থিতির দিকে নজর রেখেছে সিকিমপ্রশাসন। রবিবার সেতু বিপর্যয়ের পর তাদের তরফে একটি বিবৃতিতে বলা হয়, আবহাওয়ারপরিস্থিতি বিবেচনা করে উত্তর সিকিমের পর্যটকদের অন্যত্র সরানোর ব্যবস্থা করা হবে। আপাতততাঁদের গ্যাংটকের দিকে নিয়ে আসাই প্রশাসনের প্রধান লক্ষ্য। জানা গিয়েছে, একাংশ ধসেগেলেও সদ্য তৈরি সেতুটির বাকি অংশ তেমন ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি। তবে পর্যটকদের সুরক্ষারকথা মাথায় রেখে রাস্তা পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। উত্তর সিকিমে লাচুং থেকেইয়ুমথাং উপত্যকা বা জ়িরো পয়েন্টের দিকে যাওয়ার রাস্তা স্বাভাবিক রয়েছে।

    গত কয়েক সপ্তাহে টানা তুষারপাতেরকারণেই সিকিমে এখন পর্যটকদের আনাগোনা বেশি। বিশেষত উত্তর সিকিমে বহু মানুষ ভিড় করেছেন।তবে আবহাওয়ার বিষয়টি মাথায় রেখে চিন্তিত প্রশাসন। হিমালয়ান হসপিটালিটি অ্যান্ডটুরিজ়ম ডেভেলপমেন্ট নেটওয়ার্ক্সের সম্পাদক সম্রাট সান্যাল বলেন, ‘‘ঠিক কত জন পর্যটক আটকে রয়েছেন, তার সঠিক হিসাব এখনও পাওয়া যায়নি।তবে আমাদের অনুমান, বহু মানুষ উত্তর সিকিমে আটকে পড়েছেন। আমরা প্রতিনিয়ত সিকিমপ্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছি। পর্যটকদের কী ভাবে নিরাপদে উদ্ধার করা যায়, সেই চেষ্টাচলছে।’’
  • Link to this news (আনন্দবাজার)