• কী ভাবে কৃষ্ণনগরে রাস্তার ধারে এল ওই শিশু? হাওড়ার পরিযায়ী শ্রমিক গুজরাতে বসে দাবি করলেন, তিনিই বাবা
    আনন্দবাজার | ০৬ এপ্রিল ২০২৬
  • কৃষ্ণনগরে রাস্তার ধারে ঝোপ থেকে উদ্ধার হওয়া শিশুকন্যার পরিচয় নিয়ে তৈরি হয়েছে রহস্য। কী ভাবে, কোথা থেকে সেখানে এল ওই শিশু, উঠেছে প্রশ্ন। এক ব্যক্তিইতিমধ্যে নিজেকে উদ্ধার হওয়া সেই শিশুর পিতা বলে দাবি করে একটি ভিডিয়ো পোস্টকরেছেন (ওই ভিডিয়োর সত্যতা যাচাই করেনি আনন্দবাজার ডট কম)। পুলিশ জানিয়েছে, ভিডিয়োটি তাদের নজরে এসেছে।

    শুক্রবার রাতে শিশুটিকেকৃষ্ণনগর ১২ নম্বর জাতীয় সড়কের পাশ থেকে উদ্ধার করেন স্থানীয় এক টোটো চালক। তাকেথানায় দিয়ে আসে উদ্ধারকারীর পরিবার। এখন শিশুটি একটি হোমে রয়েছে। তারপরিচয় জানতে তদন্ত শুরু করে পুলিশ।

    তার মধ্যে হাওড়ার বাসিন্দা পেশায় সেলাই কর্মীপলাশ মণ্ডল নামে এক যুবক ভিডিয়ো প্রকাশ করে দাবি করেন, তিনি শিশুটির বাবা। এখনতিনি গুজরাতের উধনায় কাজ করেন। পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, হাওড়ার বাসিন্দা ওই যুবকের সঙ্গেবালুরঘাটের অনিমা ভৌমিকের আলাপ হয়েছিল সমাজমাধ্যমে। বছর দুয়েক আগে মন্দিরে বিয়েকরে ঘর বেঁধেছিলেন তাঁরা। কাজের সূত্রে স্ত্রীকে নিয়ে উধনায় চলে যান ওই যুবক। গতবছর ডিসেম্বরে অনিমা কন্যার জন্ম দেন।

    গত ১ এপ্রিল শিশুকে নিয়ে হঠাৎ নিখোঁজ হয়েযান অনিমা। স্ত্রীর কোনও হদিস না পেয়ে উধনা থানায় ডায়েরিও করেছিলেন স্বামী। কিন্তুগুজরাত থেকে নিখোঁজ হওয়া মা এবং শিশু কী ভাবে নদিয়ার কৃষ্ণনগরে এসে পৌঁছোল, তা নিয়ে ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে। শিশুটির মায়েরকোনও খোঁজ এখনও মেলেনি। ওই যুবকের দাবি, তাঁর স্ত্রীর সঙ্গে অন্য কারও সম্পর্ক ছিল বলে তাঁর জানা নেই।স্ত্রীর সঙ্গে ছিল মোবাইল। ফলে শ্বশুরবাড়ির লোকজনের সঙ্গে যোগাযোগের কোনও উপায় নেইবলে জানিয়েছেন তিনি।

    পলাশ জানিয়েছেন, উধনা থানা থেকে প্রয়োজনীয় নথিসংগ্রহ করে রবিবার রাতেই কৃষ্ণনগরের উদ্দেশে রওনা দিচ্ছেন তিনি। শিশুটিকে কে ফেলেরাখল,তা খুঁজছে পুলিশ। সীমান্ত সংলগ্ন এই এলাকায় পাচারচক্রের কোনও যোগসূত্র রয়েছেকি না, তা-ও খতিয়ে দেখাহচ্ছে।

    কৃষ্ণনগরের ডেপুটি সুপার শিল্পী পাল বলেন, ‘‘সরকারিনিয়ম মেনে বর্তমানে শিশুটি সংশ্লিষ্ট দফতরের হেফাজতে রয়েছে। তার পরিচয় জানতে তদন্তচলছে। আমাদের নজরে একটি ভিডিয়োবার্তা এসেছে। গোটা বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।’’
  • Link to this news (আনন্দবাজার)