• কোন দেশের নাগরিক, প্রমাণে প্রশাসনের দুয়ারে ছুটছেন ‘পতাকা রাজু’
    আনন্দবাজার | ০৬ এপ্রিল ২০২৬
  • তাঁর বাড়িতে ভোটের দামামা বেজেছে চার মাস আগেই। তখন থেকে তাঁর হাতেই তৈরি হচ্ছে পদ্ম, ঘাসফুল, কাস্তে হাতুড়ি তারা বা হাত আঁকা রাজনৈতিক দলগুলির প্রচারের অন্যতম অস্ত্র—পতাকা। কমপক্ষে ১০-১২ জন কারিগরের সেলাই মেশিন ঝড় তুলছে দিবারাত্র। অথচ, পতাকা তৈরির কারখানার সেই মালিকেরই নাগরিকত্ব এখন প্রশ্নের মুখে। কারণ, ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়ায় তাঁর নাম বিবেচনাধীন থাকার পরে শেষে বাদই চলে গিয়েছে। আতঙ্কে ঘুম উড়েছে হাওড়ার ঊনসানি দক্ষিণপাড়ার বাসিন্দা রাজু হালদারের। প্রবল কাজের চাপের মধ্যেই তাঁকে নাগরিকত্ব প্রমাণের জন্য এখন ছুটে বেড়াতে হচ্ছে প্রশাসনের দরজায়।

    স্থানীয় সূত্রে জানা যাচ্ছে, প্রতিটি নির্বাচনের আগেই ‘পতাকা রাজুর’ খোঁজ করে রাজনৈতিক দলগুলি। তবে, এ বার পতাকা তৈরির বরাত অতীতের প্রায় সব নির্বাচন ছাপিয়ে গিয়েছে। কেউ তৈরি করতে দিয়েছেন ২০ হাজার, কেউ বা তারও বেশি।

    ‘‘দলগুলির এত পতাকার চাহিদা আগে দেখিনি। তৃণমূল, বিজেপির পতাকা তো আছেই, এত সংখ্যায় সিপিএমের পতাকার অর্ডারও আগে পাইনি।’’— বলছেন রাজু। তিনি জানান, পতাকা তৈরি তাঁদের পৈতৃক ব্যবসা। তাঁদের কারখানায় তৈরি পতাকা যায় রাজ্যের বিভিন্ন জেলায়।

    রাজু জানান, প্রথম দফার চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশের পরে দেখা যায়, তাতে তাঁর বৃদ্ধা মা, স্ত্রী-সহ পরিবারের সকলের নাম আছে। শুধু তাঁরই নেই। তিনি বলেন, ‘‘২০০২ সালের ভোটার তালিকায় আমার নাম ছিল। তার পরেও শুনানির নোটিস পাই। সব নথি দিয়েছিলাম। তার পরেও নাম বিবেচনাধীন হয়ে যায়। কিছু দিন পরে দেখি, ফের নাম উঠেছে। কিন্তু শেষ দফায় দেখি, নামই নেই।’’

    শেখ সইফুদ্দিন নামে রাজুর এক কারিগর বলেন, ‘‘আমরাও খুবচিন্তায় আছি। যদি সত্যিই নাম নাওঠে, কী হবে জানি না। দেশ ছাড়তে হবে না তো?’’
  • Link to this news (আনন্দবাজার)