• সমন্বয় নিয়ে বিদ্ধ লালবাজার
    আনন্দবাজার | ০৬ এপ্রিল ২০২৬
  • আইনশৃঙ্খলা এবং পুলিশের ভূমিকা নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন তুললেন পর্যবেক্ষকেরা। একই সঙ্গে জানানো হয়েছে, আগামী দিনে মৌখিক ভাবে নয়, বরং লিখিত ভাবে ‘অসহযোগিতার’ সব ঘটনা নির্বাচন কমিশনকে জানাবেন তাঁরা। সংশ্লিষ্ট সূত্রে বিষয়টি উঠে আসে।

    সূত্রের দাবি, সেই বৈঠকে ছিলেন কলকাতার নগরপাল অজয় নন্দাও। রবিবার একাধিক বৈঠকে কলকাতার নগরপাল ছাড়াও ছিলেন বিশেষ পর্যবেক্ষক সুব্রত গুপ্ত, উত্তর ও দক্ষিণ কলকাতা জেলা নির্বাচনী আধিকারিকেরা। ২৪ পরগনার বিধানসভার একাংশ (যেগুলি শহুরে এলাকায় রয়েছে) সেই প্রস্তুতি-বৈঠকের আওতাভুক্ত ছিল।

    কমিশন সূত্রের খবর, প্রথম দফায় প্রায় ২৪০০ কোম্পানির পাশাপাশি অন্যান্য রাজ্য থেকে আরও প্রায় ৩০০০ সশস্ত্র পুলিশ আনা হচ্ছে এ রাজ্যের ভোট-নিরাপত্তায়। আগামী ১৩ এপ্রিল থেকে সেই বাহিনী আসার কথা রয়েছে। প্রসঙ্গত, গত ১৯ মার্চ লিখিত ভাবে এ কথা জানিয়েছিল কমিশন।

    অন্য দিকে, প্রথম দফার জন্য আজ, সোমবার এবং দ্বিতীয় দফার জন্য আগামী ৯ এপ্রিল বিধানসভা ভিত্তিক ভোটকেন্দ্রের (বুথ) চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ পাবে। প্রার্থীদের জন্য ভোটের আগে সর্বশেষ চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ পাবে প্রথম এবং দ্বিতীয় দফার জন্য যথাক্রমে ১২ এবং ১৬ এপ্রিল।

    সূত্রের দাবি, এ দিনের বৈঠকে পুলিশের ভূমিকা এবং আইনশৃঙ্খলা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন ভোটের নজরদারির দায়িত্বপ্রাপ্ত পর্যবেক্ষকেরা। পুলিশকর্তাদের সামনেই তাঁরা জানান, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এখনও পর্যন্ত তেমন পর্যায়ে পৌঁছয়নি, যেখানে ভোট অবাধ, শান্তিপূর্ণ বা ভয়ডরহীন করা যেতে পারে। কারণ, পুলিশের একাংশের ভূমিকা এখনও পুরো ইতিবাচক নয়। আধিকারিকদের একাংশ জানাচ্ছেন, এ দিনের বৈঠকে উপদ্রুত এলাকা এবং দুষ্কৃতীদের তালিকা তৈরি করা, যাঁদের বিরুদ্ধে চার্জশিট হয়ে রয়েছে, তাদের হেফাজতে নেওয়া ইত্যাদি অনেক কাজের অগ্রগতি কাঙ্ক্ষিত নয় বলে আলোচনা হয়েছে। কলকাতা পুলিশের এলাকায় মাত্র ৩৪৬ জনকে উপদ্রুত ভোটার (ভালনারেবল ভোটার) হিসাবে চিহ্নিত করেছে পুলিশ। কিন্তু যে এলাকায় ভাঙড়ের মতো উপদ্রুত এলাকা রয়েছে, রয়েছে আরও অনেক গোলমালের ঘটনার ইতিহাস থাকা এলাকা, সেখানে এমন ভোটারদের সংখ্যা এত কম কী করে হয়, বৈঠকে তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছিল। এমনকি, সমন্বয়ের প্রশ্নে কলকাতা পুলিশের দিক থেকে ঘাটতি থেকে যাওয়ার অভিযোগও তোলা হয়েছে। তবে সংশ্লিষ্ট সূত্র দাবি করেছে, এই সব প্রশ্নে ইতিবাচক পদক্ষেপের আশ্বাস দিয়েছেন কলকাতার পুলিশ কমিশনার।

    ঘটনাচক্রে, এই প্রশ্নে গত কয়েক দিন ধরে বেশ কয়েকজন পুলিশকর্মী-আধিকারিককে নিলম্বিত-অপসারণ করেছে কমিশন। এ দিনই কসবা থানার ওসি বিশ্বজিৎ দেবনাথকেও সাসপেন্ড করা হয়েছে বলে খবর। তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ, থানা স্তরে তৈরি করা এলাকার দুষ্কৃতীদের তালিকায় অনেকগুলি অভিযোগে অভিযুক্ত সোনা পাপ্পুর নাম ছিল না।

    অন্য দিকে, আজ, সোমবার প্রথম দফার ১৫২টি বিধানসভা কেন্দ্রের বুথের সবিস্তার তথ্য তালিকা আকারে প্রকাশ পাবে। জেলা-কর্তাদের একাংশ জানাচ্ছেন, আগে থেকে দাখিল হয়ে থাকা ফর্ম-৬-গুলির মাধ্যমে নতুন নাম তোলার সব আবেদনগুলির নিষ্পত্তি করে ফেলার কথা ছিল রবিবারের মধ্যে। দ্বিতীয় দফায় ১৪২টি বিধানসভা কেন্দ্রের জন্য একই প্রক্রিয়া হবে ৯ এপ্রিল।

    পাশাপাশি, নিয়ম অনুযায়ী, মনোনয়ন জমা দেওয়ার শেষ দিনের থেকে পরের তিন দিনের মধ্যে চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রার্থীদের হাতে তুলে দেওয়া রীতি। সেই অনুযায়ী, প্রথম দফার জন্য মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ দিন ৯ এপ্রিল এবং দ্বিতীয় দফার ক্ষেত্রে তা ১৩ এপ্রিল। অর্থাৎ, ওই দুই দফার জন্য সর্বাধিক ১২ এবং ১৬ এপ্রিলের মধ্যে চূড়ান্ত ভোটার তালিকা তৈরি করে ফেলতে হবে। কমিশন সূত্রের খবর, এর মধ্যে তথ্যগ্রাহ্য অসঙ্গতির আওতায় যোগ্য বলে বিবেচিত ভোটারদের নাম থাকবে। ২৮ ফেব্রুয়ারি চূড়ান্ত ভোটার তালিকায় সংশ্লিষ্টদের নামের উপর লেখা ‘বিবেচনাধীন’ কথাটি নতুন তালিকায় থাকবে না। তবে যাঁদের নাম বাদ যাচ্ছে, তাঁদের নাম পৃথক তালিকায় প্রকাশিত হতে পারে। তা চূড়ান্ত হবে দিল্লির নির্বাচন সদনের ছাড়পত্র পেলেই।

    কমিশন সূত্রের খবর, প্রাক্তন পুলিশ কমিশনার সুপ্রতিম সরকার তামিলনাড়ুতে পুলিশ পর্যবেক্ষকের দায়িত্ব নিচ্ছেন। তাঁর অব্যাহতির আবেদন গ্রাহ্য হয়নি বলেই খবর।
  • Link to this news (আনন্দবাজার)