• ভবানীপুরে প্রচারের সময় সাদা পোশাকের পুলিশের নজরদারির অভিযোগ! নির্বাচন কমিশনে চিঠি বিজেপি প্রার্থী শুভেন্দুর
    আনন্দবাজার | ০৬ এপ্রিল ২০২৬
  • ভবানীপুর বিধানসভা কেন্দ্রে এ বারের নির্বাচনে হাইভোল্টেজ লড়াই জমে উঠেছে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর মধ্যে। ভোট যত এগোচ্ছে, ততই উত্তাপ বাড়ছে। শুভেন্দুর মনোনয়নে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের উপস্থিতি সেই উত্তাপ কয়েক গুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। এরই মধ্যে নতুন করে বিতর্কের সূত্রপাত হয়েছে শুভেন্দু অধিকারীর তোলা এক গুরুতর অভিযোগকে কেন্দ্র করে। রবিবার ইমেলের মাধ্যমে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার-এর কাছে একটি লিখিত অভিযোগ পাঠান বিজেপি প্রার্থী শুভেন্দু।

    অভিযোগপত্রে বিরোধী দলনেতা দাবি করেছেন, ভবানীপুরে বাড়ি বাড়ি গিয়ে প্রচারের সময় তাঁর উপর সাদা পোশাকের পুলিশকর্মীরা নজরদারি চালাচ্ছেন। শুধু তাই নয়, যেসব সাধারণ ভোটার তাঁর সঙ্গে দেখা করছেন বা কথা বলছেন, তাঁদের নাম-ঠিকানা ও পরিচয় নথিভুক্ত করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেছেন তিনি।

    শুভেন্দুর দাবি, এই ধরনের পদক্ষেপের মাধ্যমে ভোটারদের পরবর্তী কালে ভয় দেখানোর চেষ্টা করা হতে পারে। তাঁর কথায়, “যাঁরা সাহস করে আমার সঙ্গে দেখা করছেন, তাঁদের চিহ্নিত করা হচ্ছে। এটা গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার পরিপন্থী এবং ভোটারদের উপর পরোক্ষে চাপ সৃষ্টি করার কৌশল।” এ প্রসঙ্গে তিনি আরও অভিযোগ করেন, ভবানীপুরে গণতন্ত্র আক্রান্ত হচ্ছে এবং কলকাতা পুলিশকে শাসকদল তৃণমূল তাদের ব্যক্তিগত নজরদারিবাহিনী হিসাবে ব্যবহার করছে। তাঁর মতে, এই ধরনের কার্যকলাপ অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনী প্রক্রিয়ার পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে।

    এই অভিযোগের সমর্থনে নিজের সমাজমাধ্যমের অ্যাকাউন্টেও একটি বিস্তারিত পোস্ট করেন শুভেন্দু অধিকারী। সেখানে তিনি লেখেন, “ভবানীপুরে আক্রান্ত গণতন্ত্র।” পাশাপাশি তিনি উল্লেখ করেন, শান্তিপূর্ণ ভাবে প্রচার চালানোর সময় সাদা পোশাকের পুলিশ তাঁকে অনুসরণ করেছে এবং তাঁর সঙ্গে দেখা করা প্রতিটি ভোটারের তথ্য সংগ্রহ করেছে। নন্দীগ্রামের বিদায়ী বিধায়ক আরও দাবি করেন, এটি ভোটারদের ভয় দেখানোর একটি কৌশল এবং এর মাধ্যমে মুক্ত ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। তৃণমূলকে কটাক্ষ করে তিনি বলেন, “এই ধরনের কৌশল আর কাজ করবে না। রাজ্যে তাদের একচ্ছত্র আধিপত্যের দিন শেষের পথে। ভবানীপুরের ভোটাররা এর উপযুক্ত জবাব দেবেন।”

    উল্লেখযোগ্য ভাবে শুভেন্দু দু’জনের ছবি প্রকাশ করেছেন (সেই ছবির সত্যতা যাচাই করেনি আনন্দবাজার ডট কম)। তাঁর দাবি, ওই ব্যক্তিরা পুলিশকর্মী। তাঁদের নাম, পদ ও কোন থানার অন্তর্গত, সেই তথ্যও উল্লেখ করেছেন তিনি। এর ফলে বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক মহলে চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। যদিও এই অভিযোগ নিয়ে এখনও পর্যন্ত রাজ্য প্রশাসন বা কলকাতা পুলিশের তরফে আনুষ্ঠানিক কোনও প্রতিক্রিয়া মেলেনি। বিষয়টি নিয়ে নির্বাচন কমিশন কী পদক্ষেপ গ্রহণ করে, সে দিকে নজর রয়েছে রাজনৈতিক মহলের।
  • Link to this news (আনন্দবাজার)