• মমতার পথে কেজরীও! নিজেই সওয়াল করবেন দিল্লি হাই কোর্টে, আবগারি দুর্নীতি মামলায় বিচারপতি বদল চায় আপ
    আনন্দবাজার | ০৬ এপ্রিল ২০২৬
  • পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দেখানো পথে হাঁটতে চলেছেন দিল্লির প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী তথা আম আদমি পার্টির প্রধান অরবিন্দ কেজরীওয়াল। আবগারি দুর্নীতি মামলায় দিল্লি হাই কোর্টে সোমবার তিনি নিজেই সওয়াল করতে চলেছেন। রবিবার দলের তরফে বিবৃতি দিয়ে সে কথা জানানো হয়েছে। এই মামলায় বিচারপতি বদল চেয়ে আবেদন করেছে আপ। এর আগে এসআইআর মামলায় সুপ্রিম কোর্টে গিয়ে নিজে সওয়াল করেছিলেন মমতা।

    আবগারি দুর্নীতি মামলা থেকে কেজরীওয়াল, মনীশ সিসৌদিয়া-সহ ২৩ জন অভিযুক্তকে গত ২৭ ফেব্রুয়ারি অব্যাহতি দিয়েছিল দিল্লির নিম্ন আদালত। সেই নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে তদন্তকারী সংস্থা সিবিআই হাই কোর্টে যায়। হাই কোর্টের বিচারপতি স্বর্ণকান্ত শর্মা জানান, নিম্ন আদালতের নির্দেশ ত্রুটিপূর্ণ। ওই নির্দেশে ১৬ মার্চ পর্যন্ত স্থগিতাদেশ দেওয়া হয়। এর পরেই বেঞ্চ বদলের আবেদন জানায় আপ। দিল্লি হাই কোর্টের প্রধান বিচারপতি ডিকে উপাধ্যায়ের কাছে লিখিত আবেদন করা হয়। আপের দাবি, বিচারপতি শর্মা পক্ষপাতদুষ্ট। তিনি নিরপেক্ষ ভাবে বিচার করতে পারবেন না। প্রধান বিচারপতি প্রাথমিক ভাবে আপের লিখিত আবেদনটি খারিজ করে দিয়েছিল। এ বিষয়ে সিবিআই-কে বক্তব্য জানাতে বলেছিল দিল্লি হাই কোর্ট। ৬ এপ্রিল সেই মামলার পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য হয়।

    প্রধান বিচারপতির কাছে আবেদন খারিজ হয়ে যাওয়ার পর আপের তরফে দিল্লি হাই কোর্টের বিচারপতি শর্মার কাছে মামলা থেকে সরে দাঁড়ানোর আবেদন করা হয়েছে। তা নিয়েই সোমবার সওয়াল করবেন কেজরী। দাবি, বিচারপতি শর্মার নিরপেক্ষতার অভাব রয়েছে।

    আপের দলীয় সিদ্ধান্তকে কটাক্ষ করেছে বিজেপি। তাদের দিল্লির মুখপাত্র প্রবীণ শঙ্কর কপূর সমাজমাধ্যমে লিখেছেন, ‘‘এই সিদ্ধান্ত কেজরীওয়ালের আসল রূপ প্রকাশ করে দিল। মামলা অন্য বেঞ্চে স্থানান্তরের আবেদন খারিজ হয়ে যাওয়ার পর তিনি নিজেই এখন সংশ্লিষ্ট বিচারকের কাছে মামলা থেকে সরে দাঁড়ানোর আবেদন করবেন।’’ একে বিচারবিভাগ এবং বিচারব্যবস্থার প্রতি অসম্মান বলে দাবি করেছে বিজেপি। আবগারি দুর্নীতি মামলায় সিবিআই এবং ইডির হাতে গ্রেফতার হয়েছিলেন কেজরী। বেশ কিছু দিন ছিলেন তিহাড় জেলে। তবে দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী পদ থেকে গ্রেফতারির পরেও তিনি ইস্তফা দেননি। ফলে তিনিই হয়েছিলেন দেশের প্রথম মুখ্যমন্ত্রী যিনি পদে থাকাকালীন জেল খেটেছেন। এর পর দিল্লির নির্বাচনে কেজরীর দল হেরে যায়। ক্ষমতায় আসে বিজেপি। ফেব্রুয়ারিতে আবগারি মামলা থেকে অব্যাহতি পাওয়ার পর সংবাদমাধ্যমের সামনে কেঁদে ফেলেছিলেন আপ প্রধান।
  • Link to this news (আনন্দবাজার)