দীর্ঘ টানাপড়েনের পর রাজগঞ্জের তৃণমূল প্রার্থী হিসাবে মনোনয়নপত্র জমা দিলেন প্রাক্তন অ্যাথলিট স্বপ্না বর্মণ। সোমবার মনোনয়ন জমা দেওয়ার শেষ দিনে সরকারি অফিস থেকে বেরিয়ে স্বপ্না বলেন, ‘‘অনেক স্ট্রাগল, ত্যাগের পর মনোনয়নপত্র জমা দিলাম।’’ প্রাক্তন রেলকর্মী জানান, তিনি আগেই রেলকে পদত্যাগপত্র পাঠিয়েছিলেন। শেষমেশ ছাড়পত্র পেলেন।
তৃণমূল স্বপ্নাকে প্রার্থী করা ইস্তক নানা বাধাবিপত্তির মধ্য দিয়ে গিয়েছেন স্বপ্না। তাঁর বিরুদ্ধে রেল অভিযোগ করে, কর্মরত অবস্থায় সক্রিয় রাজনীতিতে যোগ দিয়েছেন তিনি। ঘটনাক্রমে ইস্তফা দেন স্বপ্না। তিনি জানান, পেনশনও নেবেন না। যদিও তার পরেও ছাড়পত্র মেলেনি। মামলা গড়ায় আদালতে। ওই এনওসি বা ছাড়পত্র না পেলে ভোটে লড়া কার্যত অসম্ভবই ছিল। এর মধ্যে পিতৃহারা হয়েছেন স্বপ্না। অবশেষে রবিবার নির্বাচন কমিশনের তরফে জানিয়ে দেওয়া হয়, ভোটে লড়তে বাধা নেই স্বপ্নার। তাঁর বিরুদ্ধে রেল বেশ কিছু অভিযোগ করেছে। তবে তাঁর বিরুদ্ধে দুর্নীতি কিংবা রাষ্ট্রের প্রতি বিশ্বাসঘাতকতার কোনও অভিযোগ নেই।
সোমবার সকালে রাজগঞ্জের তৃণমূল প্রার্থী ভ্রামরীদেবীর মন্দিরে পুজো দিতে যান। পুজো দেওয়ার আগে প্রাক্তন সোনাজয়ী অ্যাথলিট বলেন, ‘‘মন্দিরে পুজো দিয়ে মনোনয়নপত্র জমা দেব। আর কোনও জটিলতা নেই।’’ মনোনয়ন জমা দিয়ে তিনি বলেন, ‘‘অবশেষে...। আমি রাজগঞ্জের মেয়ে। আমার ব্যাকগ্রাউন্ড খেলাধুলোর। অনেক ত্যাগের পর মনোনয়ন দিলাম। এ বার পুরোদমে প্রচারে নেমে পড়ব।’’
অন্য দিকে, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ফোন পাওয়ার পর শেষ মুহূর্তে প্রার্থী হওয়ার সম্ভাবনা দেখছিলেন রাজগঞ্জের বিদায়ী বিধায়ক খগেশ্বর রায়। দলের নির্দেশমতো তিনিও তৈরি ছিলেন মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার জন্য। তৃণমূল সূত্রে খবর, আইনি জটিলতায় যদি কোনও ভাবে স্বপ্নার মনোনয়ন আটকে যায়, সে ক্ষেত্রে ঝুঁকি না নিয়ে খগেশ্বরকেও প্রস্তুত থাকতে বলা হয়েছিল। স্বপ্নার মনোনয়ন জমা দেওয়ার সময় খগেশ্বরকে আশপাশে দেখা যায়নি। তবে তৃণমূল সূত্রে খবর, তিনি অভিষেকের উত্তরবঙ্গ সফর নিয়ে ব্যস্ত। কোনও বিরোধ নেই।