বিজেপির নির্বাচনী কার্যালয়ে হামলার অভিযোগে তৃণমূলের বিদায়ী বিধায়ক তথা প্রার্থী রত্না চট্টোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে আগেই এফআইআর দায়ের হয়েছে। এ বার রবিবারের ওই অশান্তির ঘটনায় তৃণমূলের ছ’জনকে গ্রেফতার করল পুলিশ। সোমবার এমনটাই জানা গেল পুলিশ সূত্রে।
রবিবার দুপুরে বেহালা পশ্চিম বিধানসভার পর্ণশ্রী এলাকায় বিজেপির একটি নির্বাচনী কার্যালয়ে হামলার অভিযোগ ওঠে তৃণমূলের বিরুদ্ধে। বিজেপি প্রার্থী ইন্দ্রনীল খাঁ অভিযোগ করেন, তাঁদের দলের পোস্টার, পতাকা, হোর্ডিং ইত্যাদি ছিঁড়ে দিয়েছেন ‘রত্নার লোকজন’। কারণ, তাঁরা তাঁদের নির্বাচনী কার্যালয়ে তৃণমূলের প্রার্থীর পোস্টার সাটাতে দেননি। ওই ঘটনার প্রতিবাদে পর্ণশ্রী থানায় ধর্নাও দেন ইন্দ্রনীল।
অন্য দিকে, থানার বাইরে স্লোগান দিতে থাকেন তৃণমূলের লোকজন। বিদায়ী বিধায়ক রত্না একটি ভিডিয়ো প্রকাশ করে দাবি করেছিলেন, তৃণমূল এই ঘটনায় জড়িত নয়। অশান্তি পাকাচ্ছে বিজেপি-ই। যদিও নির্বাচন কমিশনের নির্দেশে রত্নার বিরুদ্ধেই এফআইআর দায়ের হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে খবর, রবিবার বিজেপি নেতা মনোজ হালদার একটি অভিযোগ করেছিলেন। তাতে তৃণমূল প্রার্থী ছাড়াও অভিজিৎ মিত্র ওরফে পিকলু, বাপি নাগ, মন্টি সিংহ, পুরণ থাপা, ঝুম্পা দাস, আকাশ থাপা প্রমুখের বিরুদ্ধে অভিযোগ করা হয়। অভিযোগ, রবিবার দুপুর ২টো নাগাদ তৃণমূলের লোকজন এবং তৃণমূলের সঙ্গে যুক্ত কেউ কেউ তাদের নির্বাচনী কার্যালয়ে হামলা চালান। তখন একটি ল্যাপটপও চুরি যায়। সেই সঙ্গে মারধর করা হয় বিজেপি কর্মীদের।
ওই ঘটনার তদন্তে নেমে কাজল রায়, তাপস আইচ, পূরণ গুরুং, মন্টি সিংহ, দেবাশিস নাগ এবং আকাশ থাপাকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তাঁদের বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ১২৬ (২), ৩২৪ (৪), ১১৭ (২), ৩০৩ (২) এবং ৫৪ ধারায় মামলা রুজু হয়েছে। স্থানীয় সূত্রে খবর, ধৃতদের সকলে তৃণমূলের সঙ্গে যুক্ত।
রত্না বলেন, ‘‘এত দিন জানতাম নির্বাচন কমিশন স্বশাসিত সংস্থা। এখন যদি তারা বিজেপি-র কথায় কাজ করে, তা হলে কী করা যাবে? মেনে নিতে হবে।’’