• নিজের গাড়ি নেই, কোটিপতি আগে থেকেই ছিলেন, গত পাঁচ বছরে সম্পত্তির শ্রীবৃদ্ধি হয়েছে আরও! কত আয় ফিরহাদের?
    আনন্দবাজার | ০৮ এপ্রিল ২০২৬
  • তিনি কলকাতার মহানাগরিক। একই সঙ্গে সামলান রাজ্য মন্ত্রিসভারগুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বও। পাশাপাশি নিজস্ব ব্যবসাও রয়েছে তাঁর। কোটিপতি ছিলেন আগেথেকেই। গত পাঁচ বছরে সম্পত্তি আরও বৃদ্ধি পেয়েছে। কোটিপতি নেতা হওয়ার পরেওফিরহাদের নিজের নামে কোনও গাড়ি নেই।

    কলকাতা বন্দর এলাকার টানা তিন বারের বিধায়ক ফিরহাদ। বিদায়ীবিধায়ককে প্রত্যাশিত ভাবেই এ বারও কলকাতা বন্দর থেকেই প্রার্থী করেছে তৃণমূল। কলকাতাবন্দরে ভোটগ্রহণ রয়েছে দ্বিতীয় দফায়, ২৯ এপ্রিল। ওই আসনের প্রার্থী হিসাবেইতিমধ্যে মনোনয়ন দাখিল করেছেন বিদায়ী বিধায়ক। তাঁর সম্পত্তির হিসাবনিকাশ, বার্ষিকআয়, জমিজমা-সহ বিভিন্ন তথ্য উঠে এসেছে নির্বাচনী হলফনামায়।

    আয় এবং সম্পত্তি

    গত পাঁচ বছরে ফিরহাদের বার্ষিক আয় ধারাবাহিক ভাবে বৃদ্ধিপেয়েছে। ২০২১ সালের বিধানসভা ভোটের সময়ে দাখিল করা হলফনামায় ফিরহাদ জানিয়েছিলেন, ওই সময়ে তাঁর৪ কোটি ১২ লক্ষ টাকার অস্থাবর সম্পত্তি ছিল। তৃণমূল নেতার স্থাবর সম্পত্তির ওইসময়ের বাজারমূল্য ছিল ১ কোটি ৮১ লক্ষ টাকা। পাঁচ বছর পরে স্থাবর, অস্থাবর উভয় সম্পত্তিইবৃদ্ধি পেয়েছে। সম্প্রতি জমা দেওয়া হলফনামায় ফিরহাদ জানিয়েছেন, তাঁর কাছে ৭ কোটি২৭ লক্ষ টাকার অস্থাবর সম্পত্তি রয়েছে। স্থাবর সম্পত্তির বর্তমান বাজারমূল্যদাঁড়িয়েছে ২ কোটি ৫১ লক্ষ টাকা।

    হলফনামায় ফিরহাদ জানিয়েছেন, ২০২০-২১ সালে তাঁর বার্ষিক আয়ছিল ৭৬ লক্ষ টাকা। পরবর্তী চার বছরে তাঁর বার্ষিক আয় যথাক্রমে ৮৩ লক্ষ ৬০ হাজারটাকা, ১ কোটি ২২ লক্ষ টাকা, ১ কোটি ৪৯ লক্ষ টাকা এবং ১ কোটি ৭১ লক্ষ টাকা। ২এপ্রিল জমা দেওয়া হলফনামা অনুযায়ী, বিদায়ী বিধায়কের হাতে নগদ ১ লক্ষ ৫৩ হাজার টাকারয়েছে। তাঁর স্থায়ী আমানত-সহ মোট ৯টি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট রয়েছে। সেখানে গচ্ছিতরয়েছে ৪ কোটি ২২ লক্ষ টাকা। বিভিন্ন জায়গায় বিনিয়োগও রয়েছে তাঁর। এর মধ্যে ১ লক্ষটাকা বিনিয়োগ রয়েছে মিউচুয়াল ফান্ডে।

    সোনা, রুপো এবং মূল্যবান পাথরের গয়নাও রয়েছে ফিরহাদের। সেগুলিরদাম ১৭ লক্ষ ৯৭ হাজার টাকা। ফিরহাদের নিজের নামে কোনও গাড়ি নেই। তবে তাঁর স্ত্রীর২৭ লক্ষ টাকা দামের একটি গাড়ি রয়েছে। ফিরহাদের স্ত্রীও ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। নেতারস্ত্রীও গত পাঁচ বছরে ধারাবাহিক ভাবে কোটি টাকার বেশি উপার্জন করেছেন। ২০২৪-২৫অর্থবর্ষে ফিরহাদ-জায়ার বার্ষিক আয় ছিল ২ কোটি ১০ লক্ষ টাকা। তাঁর মোট ৯ কোটি টাকারঅস্থাবর সম্পত্তি রয়েছে। স্থাবর সম্পত্তি রয়েছে ৩ কোটি ৭৮ লক্ষ টাকার।

    ইডি-সিবিআইয়ের মামলা

    কলকাতা বন্দর এলাকার বিদায়ী বিধায়কের বিরুদ্ধে দু’টি এফআইআররয়েছে। দু’টিই কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার রুজু করা— একটি সিবিআইয়ের, অন্যটিইডির। নারদকাণ্ডে ওই এফআইআরগুলি রুজু হয়েছে। প্রথমে সিবিআই পদক্ষেপ করে। পরে ইডিওএফআইআর রুজু করে। তবে দু’টি মামলাই এখনও বিচারাধীন অবস্থায় রয়েছে। চলছে কলকাতারবিচারভবনে। তবে কোনওটিতেই এখনও চার্জ গঠন হয়নি।

    পড়াশোনা এবং পেশা

    ১৯৭৬ সালে কালীঘাট উচ্চ বিদ্যালয় থেকে উচ্চমাধ্যমিক পাশকরেন ফিরহাদ। তার পরে ১৯৭৯ সালে স্নাতক হন। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের হেরম্বচন্দ্রকলেজ থেকে বি.কম করেন তিনি। হলফনামায় ফিরহাদ রাজনীতিকের পাশাপাশি ব্যবসায়ী এবংসমাজকর্মী হিসাবেও নিজের পেশাগত পরিচয় দিয়েছেন। জানিয়েছেন, সরকারি বেতনের পাশাপাশিব্যবসা এবং ব্যাঙ্কের সুদ থেকে তাঁর আয় হয়। স্ত্রীর আয়ের উৎস হিসাবেও ব্যবসা এবংব্যাঙ্কে গচ্ছিত টাকার সুদের কথা উল্লেখ করেছেন ফিরহাদ।
  • Link to this news (আনন্দবাজার)