• ভয় দেখালেই এ বার জামিনঅযোগ্য মামলা
    আনন্দবাজার | ০৮ এপ্রিল ২০২৬
  • ভোটারদের ভয় দেখানোর ক্ষেত্রে জামিনঅযোগ্য ধারায় মামলা রুজু করার নির্দেশ দিল জাতীয় নির্বাচন কমিশন। সম্প্রতি একটি বৈঠকে ভোটে নিযুক্ত পর্যবেক্ষক-সহ অন্য আধিকারিকদের এই নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে, ঘৃণা ভাষণ ছড়ানোর ক্ষেত্রেও পুলিশের কাছে এফআইআর দায়ের করতে বলা হয়েছে। তবে সে ক্ষেত্রে অপরাধের গভীরতা দেখে জামিনঅযোগ্য নাকি জামিনযোগ্য ধারায় মামলা হবে, তা স্থির করা হবে। প্রশাসন সূত্রের খবর, কমিশনের এই বার্তার পরেই এ ব্যাপারে পদক্ষেপের নির্দেশ দিয়েছেন কলকাতার নগরপাল অজয় নন্দ।

    ভোটারদের ভয় দেখানো নিয়ে ইতিমধ্যেই বিভিন্ন এলাকা থেকে অভিযোগ পাচ্ছে কমিশন। অভিযোগের তির শাসকদলের নেতা-কর্মীদের দিকেই উঠছে। ভোটারদের ভয় দেখানোর অভিযোগে সম্প্রতি মুর্শিদাবাদে এক তৃণমূল নেতাকে গ্রেফতার করা হলেও তিনি জামিনে ছাড়া পেয়ে গিয়েছেন। প্রশাসনের একাংশের মতে, ভোটারদের ভয় দেখিয়ে জামিনে ছাড়া পেলে হুমকি এবং প্রভাবমুক্ত ভোটের প্রশ্নে তা বাধা হয়ে দাঁড়াবে। একই সঙ্গে ঘৃণা এবং উস্কানিমূলক ভাষ্যও ধেয়ে আসছে রাজনৈতিক নেতা-প্রার্থীদের থেকে। কমিশনের একাংশের মতে, শান্তিপূর্ণ ভোটের ক্ষেত্রে এই ধরনের ভাষ্যেও লাগাম টানা জরুরি।

    কমিশনের এই বার্তার পরেই কলকাতার নগরপাল নির্দেশ দিয়েছেন, ভোটারকে ভয় দেখানোর অভিযোগ পেলে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার (বিএনএস) ১৭১ এবং ৩৫৩(২) ধারায় মামলা রুজু করতে হবে। ভোটারকে ভয় দেখানো যে বরদাস্ত করা হবে না, বাহিনীকে তা-ও মনে করিয়ে দিয়েছেন তিনি।উল্লেখ্য, শহরের বিভিন্ন জায়গায় ভোটের আগে থেকে এবং নির্বাচনের দিন ভোটারদের ভয় দেখানোর অভিযোগ বারবার ওঠে। সে সব অভিযোগের ক্ষেত্রে পুলিশি নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগও নতুন নয়। সে দিক থেকে ভোটারদের ভয় দেখানোর অভিযোগ ‘বরদাস্ত’ না-করার বার্তা বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলেও মনে করছেন অনেকে।

    এ বার ভোটে পুলিশি ব্যবস্থা যে ভিন্ন হবে, সে কথা কমিশনের কর্তারা আগেও মনে করিয়ে দিয়েছেন। প্রশাসন সূত্রের খবর, কমিশনের নির্দেশ মেনেই এ বার পুুলিশ দুষ্কৃতীদমনে বিশেষ সক্রিয়। সম্প্রতি লালবাজার থেকে কলকাতার থানাগুলিকে তাদের এলাকায় ‘ভিআইপি’ গুন্ডাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে। গুন্ডাদের ক্ষেত্রে ‘ভিআইপি’ শব্দবন্ধের উল্লেখওবিশেষ বার্তাবহ বলে মনে করছে পুলিশের একাংশ। পুলিশের এক প্রবীণ অফিসারের মন্তব্য, ‘‘ভিআইপি বলতে এ ক্ষেত্রে শাসকদলের নেতাদের আশ্রিত দুষ্কৃতীদের বোঝানো হয়েছে।’’

    পুলিশের খবর, প্রতিটি থানাকে এলাকার অন্তত ১০ জন প্রভাবশালী স্থানীয় দুষ্কৃতীকে চিহ্নিত করে পদক্ষেপের নির্দেশ দিয়েছে লালবাজার। প্রসঙ্গত, কয়েকদিন আগে একটি বৈঠকে পুলিশ কমিশনারের সামনেই শাসক দল আশ্রিত দুষ্কৃতীদের বিরুদ্ধে বাহিনীর নড়বড়ে মানসিকতার অভিযোগ জানিয়েছিলেন ভোটে নিযুক্ত পর্যবেক্ষকেরা। সমন্বয়ের প্রশ্নে তাঁদের হুঁশিয়ারি ছিল, কঠোর না-হলে সরাসরি দিল্লির নির্বাচন সদনকে লিখিত অভিযোগ করা হবে।

    এ দিকে, সরকারি পদে থেকে রাজ্যের শাসক দলের হয়ে প্রচার করার অভিযোগ তুলে পুলিশ কল্যাণ পরিষদের কো-অর্ডিনেটর এবং কলকাতা পুলিশের ডিসি শান্তনু সিংহবিশ্বাসের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের হয়েছে হেয়ার স্ট্রিট থানায়। সূত্রের খবর, ওই অভিযোগে শান্তনু ছাড়াও পুলিশ সংগঠনের আরও দুই কর্তার নামও আছে। অভিযোগ, ওই পুলিশ অফিসারেরা তৃণমূলের ব্যানার হাতে নিয়ে মিছিল করেছেন এবং তাঁদের গুরুতর রাজনৈতিক সংশ্রব আছে। পুলিশ সূত্রের বক্তব্য, অভিযোগ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তবে মঙ্গলবার রাত পর্যন্ত কোনও এফআইআর হয়নি।
  • Link to this news (আনন্দবাজার)