নিজেদের চাকরি নেই, খাবার নেই, তবু তারকার মুখ দেখে ভোট দেন জনগণ! হুঙ্কার শ্রীলেখা মিত্রের
আনন্দবাজার | ০৮ এপ্রিল ২০২৬
১. মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে কাকে দেখতে চান?
শ্রীলেখা: প্রকৃত শিক্ষিত, প্রকৃত গুণী কাউকেই মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দেখতে চাই। উদাহরণ চাইলে বলব, বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য।
২. দল দেখে ভোট দেন, না কি প্রার্থী দেখে?
শ্রীলেখা: দল ঠিক না থাকলে প্রার্থী কী ভাবে ঠিক বা ভাল হবে? তাই দু’টিই দেখে ভোট দেওয়া দরকার।
৩. প্রার্থী বাছাইয়ের পরীক্ষা হলে কেমন হয়? আর জেতার পরে যদি হয় বিধায়কের প্রশিক্ষণ?
শ্রীলেখা: অবশ্যই পরীক্ষা হওয়া জরুরি! এটা একটা পেশা। রাজনীতিবিদেরা তাঁদের এই পেশা থেকে ভাল অঙ্কের টাকা রোজগার করছেন। আর যে কোনও কাজের জন্য প্রশিক্ষণ প্রয়োজন। এই যে যাঁরা বিধায়ক, সাংসদ হচ্ছেন, তাঁরা পার্লামেন্টে যান না, কোনও প্রয়োজনে তাঁদের পাওয়া যায় না। এ রকম ভাবে কাজ হয় না। কী ভাবে হয়, তা জানার জন্য বোধহয় এই প্রশিক্ষণ খুবই দরকার।
৪. নিজে বিধায়ক হলে কী বদলাতে চাইতেন?
শ্রীলেখা: বিধায়ক হওয়ার কোনও ইচ্ছে, অভিলাষ, বাসনা নেই আমার! তবু যদি কোনও এক কাল্পনিক জগতের কথা ভেবে বলতে হয়, তা হলে বলব, মানুষগুলিকেই বদলে দিতে চাই।
৫. আপনার পেশার জগতের কোনও অভিযোগ কি ভোট প্রচারে গুরুত্ব পাওয়া দরকার?
শ্রীলেখা: আমাদের ইন্ডাস্ট্রি একটা ছোট অংশ। আলাদা একটা ইউনিট হিসেবে কাজ করে। যদিও সেটিও এখন… যাই হোক! মোট কথা, ভোটের প্রচারে জায়গা পাওয়ার কোনও দরকার আছে বলে আমার মনে হয় না। তবে ফেডারেশন যে ভয়ে ও আতঙ্কে রেখেছে শিল্পীদের, সেটা মোটেই সমর্থন করতে পারি না। পকেটে অল্প পয়সা নিয়ে কাজে নামেন কত পরিচালক, তাও তাঁদের গিল্ডের লোক নেওয়ার জন্য চাপ দেওয়া হয়। ফলে লোকে লুকিয়ে কাজ করছে। যেন মনে হয়, শিল্প না, চুরি করতে নেমেছেন তাঁরা। মানুষের মেরুদণ্ডটাকে ভেঙে দেওয়া হচ্ছে। আতঙ্ককে ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে। এটা কোনও ভাবে প্রচারে অংশ নিলে ভাল।
৬. নির্বাচন প্রক্রিয়াকে দুর্নীতিমুক্ত রাখতে পারে কী কী?
শ্রীলেখা: সততার প্রয়োজন দুর্নীতিকে সরানোর জন্য। তবে বাস্তবে এত আশা করা কি ঠিক? বহু জায়গায় দেখা যায়, জনগণ বাড়িতে বসে আছেন, এ দিকে তাঁদের নামে ভোট পড়ে গেল। যিনি নিযুক্ত থাকবেন কমিশন থেকে, তিনি যাতে কোনও দলের প্রতি পক্ষপাতী না হন, তা-ও দেখতে হবে। এমন অনেক কিছুই আসলে আছে।
৭. ঘন ঘন দলবদলের বিরুদ্ধে কি ব্যবস্থা নেওয়া দরকার?
শ্রীলেখা: অনির্দিষ্টকালের জন্য নিলম্বিত করে দেওয়া উচিত। আদর্শ ছেড়ে টাকার বা ক্ষমতার লোভে যিনি ঘন ঘন দল বদলান, তিনি দেশের জন্য, রাজ্যের জন্য কী-ই বা করবেন আর?
৮. রাজনীতিতে অপশব্দের প্রয়োগ কি জরুরি?
শ্রীলেখা: রাজনীতিতে শালীনতার বড় অভাব ঘটেছে। যুক্তি দিয়ে কথা হোক, ঘৃণা দিয়ে কেন? হুমকির রাজনীতি বন্ধ হওয়া দরকার।
৯. দেশজ সংস্কৃতি, উন্নয়ন না কি সমান অধিকার— ভোট প্রচারে কোনটা বেশি গুরুত্বপূর্ণ?
শ্রীলেখা: প্রকৃত উন্নয়নকে তো অবশ্যই জায়গা করে দিতে হবে। নয়তো সাম্যবাদ আসবে কী ভাবে? সুতরাং সমাজের নিচু স্তরের মানুষদের শিক্ষা দিয়ে, কাজ দিয়ে সাহায্য না করতে পারি, তা হলে উচ্চ ও নিম্নবিত্তদের মাঝের বিস্তর দূরত্ব ঘুচবে কী ভাবে?
১০. ভাতা-র রাজনীতি সমাজের উন্নতি করে কি?
শ্রীলেখা: বিদেশে কিন্তু অনেক জায়গায় বিমা দেওয়া হয় জনসাধারণকে। বিনামূল্যে অনেক সময়ে অনেক কিছু পান লোকেরা। তাতে উপকারই হয়। কিন্তু ভাতা-অনুদানের পক্ষে আমি নই। কাজকম্ম নেই, অল্প টাকা দিয়ে মনভোলানোকে আমি ঠিক বলে মানি না। কাজ বাড়ুক, শিল্প বাড়ুক, শিক্ষা বাড়ুক— এগুলিই আসল। নয়তো সবাই ধীরে ধীরে বাইরে চলে যাবে কাজের আশায়।
১১. প্রায় বিরোধীশূন্য রাজনীতি কি স্বাস্থ্যকর?
শ্রীলেখা: কোনও ক্ষেত্রে কখনওই স্বাস্থ্যকর নয়। কেবল গণতন্ত্র কেন? একটা সন্ধিক্ষণে আমরা রয়েছি। এখন যদি বিরোধী শক্তিশালী হয়, যদি সরকারের ঘাড়ে নিঃশ্বাস নেয়, তা হলে সরকারের একটা তাগিদ থাকবে ভাল কাজ করার।
১২. তারকারা কি ভোট টানার শর্টকাট?
শ্রীলেখা: একেবারেই তাই। এখনও মানুষ তারকা দেখেই ভোট দেন। নিজেরা এত কষ্টে থাকেন, চাকরি পান না, খাবার পান না, জল পান না, তার পরও তারকাদের দেখেই ভোট দেন। ফলে অবশ্যই ভোট টানার জন্যই তো তাঁদের দাঁড় করানো হচ্ছে প্রার্থী হিসেবে।
১৩. পছন্দের রাজনীতিবিদ কে?
শ্রীলেখা: জ্যোতি বসুর কথাই মনে পড়ছে।