বাংলার মনীষীদের নামও বিকৃত করা হচ্ছে! সাহিত্যসম্রাটের প্রয়াণ দিবসে ‘বঙ্কিমদা’ বিতর্ক উস্কে বিজেপিকে তোপ মমতার
আনন্দবাজার | ০৮ এপ্রিল ২০২৬
সাহিত্যসম্রাট বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের প্রয়াণ দিবসে তাঁকে শ্রদ্ধা জানালেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আর সেই সূত্রেই বাংলার মনীষীদের নাম বিকৃত করার অভিযোগ তুলে নাম না-করে নিশানা করলেন বিজেপি-কে। উস্কে দিলেন ‘বঙ্কিমদা’ বিতর্কও।
বুধবার সকালে সমাজমাধ্যমে একটি পোস্ট করে মুখ্যমন্ত্রী লেখেন, “বঙ্কিমচন্দ্রের মতো বাংলার পূজনীয় মনীষীদের নাম নিয়েও বিকৃতি করা হচ্ছে। যারা বাংলার ইতিহাস জানে না, তারাই এমন করার ধৃষ্টতা দেখায়।” প্রসঙ্গত, গত ৮ ডিসেম্বর লোকসভায় ‘বন্দে মাতরম’ নিয়ে বলতে উঠে বঙ্কিমচন্দ্রকে ‘বঙ্কিমদা’ বলে সম্বোধন করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। তা নিয়ে বিতর্কের সূত্রপাত হয়। বিষয়টি নিয়ে প্রধানমন্ত্রী এবং বিজেপির বিরুদ্ধে সুর চড়ায় তৃণমূল। মমতা নিজেও সরব হন।
গত ফেব্রুয়ারি মাসে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের তরফে একটি বিজ্ঞপ্তি দিয়ে জানানো হয়, সরকারি অনুষ্ঠানে এ বার থেকে জাতীয় সঙ্গীত ‘জনগণমন’ গাওয়ার আগে গাইতে হবে জাতীয় গান, বঙ্কিমচন্দ্র রচিত ‘বন্দে মাতরম’। সেই সময় তৃণমূলের তরফে দাবি করা হয়েছিল, পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচনের কথা মাথায় রেখেই কেন্দ্র বঙ্কিমচন্দ্রের ‘বন্দে মাতরম’কে গুরুত্ব দেওয়ার কথা বলছে। বঙ্কিমচন্দ্রের গরিমা তুলে ধরতে গিয়ে আর এক কৃতী বঙ্গসন্তান রবীন্দ্রনাথকে ছোট করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ তোলা হয় রাজ্যের শাসকদলের তরফে।
বুধবার বঙ্কিমচন্দ্রের প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী সমাজমাধ্যমে লেখেন, “তাঁর লেখনী পরাধীন ভারতবর্ষকে আত্মমর্যাদা ও দেশপ্রেমের মন্ত্রে দীক্ষিত করেছিল। আজও ‘বন্দে মাতরম’ ধ্বনি উচ্চারিত হলে দেশের প্রতি ভালবাসায়, শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধায় আমাদের মাথা নত হয়ে আসে। এই গান আমাদের জাতীয় পরিচয়ের অন্যতম প্রধান স্তম্ভ — আমাদের ন্যাশনাল সং।” একই সঙ্গে তাঁর সংযোজন, “বাংলার মনীষীরা আমাদের গর্ব, আমাদের আবেগের জায়গা। তাই যারা বাংলার ঐতিহ্যকে এ ভাবে অপমান করার চেষ্টা করছে, বাংলার মানুষই তাদের যোগ্য জবাব দেবে।”