• রাতেই ৮০ কিমি বেগে ঝড় দক্ষিণবঙ্গের আট জেলায়! হতে পারে শিলাবৃষ্টিও, কী পূর্বাভাস কলকাতায়? দুর্যোগ কত দিন
    আনন্দবাজার | ০৮ এপ্রিল ২০২৬
  • কলকাতা-সহ দক্ষিণবঙ্গের বিস্তীর্ণ অংশে কালবৈশাখী ঝড়ের সতর্কতা জারি করা হয়েছে। সঙ্গে রয়েছে ভারী বর্ষণের সম্ভাবনাও। আলিপুর আবহাওয়া দফতর আটটি জেলায় লাল সতর্কতা জারি করেছে। ঝড়ের বেগ পৌঁছে যেতে পারে প্রতি ঘণ্টায় ৮০ কিলোমিটারে।

    বুধবার সন্ধ্যায় হুগলি, পশ্চিম মেদিনীপুর, পূর্ব বর্ধমান, হাওড়া, পুরুলিয়া, বাঁকুড়া, বীরভূম এবং পশ্চিম বর্ধমানে লাল সতর্কতা জারি করা হয়েছে। হাওয়া অফিস জানিয়েছে, এই সমস্ত জেলায় বৃষ্টির সঙ্গে ঝড়ের বেগ থাকবে ঘণ্টায় ৭০ থেকে ৮০ কিলোমিটার। নদিয়া, মুর্শিদাবাদ ও উত্তর ২৪ পরগনাতেও লাল সতর্কতা রয়েছে। সেখানে ৬০-৭০ কিলোমিটার বেগে ঝড় হতে পারে। এ ছাড়া, বীরভূম, উত্তর ২৪ পরগনায় ঘণ্টায় ৬০ থেকে ৭০ কিলোমিটার বেগে কালবৈশাখী ঝড় হতে পারে। দমকা হাওয়ার বেগ পৌঁছে যেতে পারে ঘণ্টায় ৮০ কিলোমিটারে। হুগলি, পূর্ব বর্ধমান এবং উত্তর ২৪ পরগনায় ভারী বর্ষণের সম্ভাবনা রয়েছে। শিলাবৃষ্টি হতে পারে বীরভূম ও পশ্চিম বর্ধমানে। কলকাতা-সহ দক্ষিণের বাকি জেলাগুলিতেও বৃষ্টি হবে। ঝড়ের বেগ থাকবে ঘণ্টায় ৫০ থেকে ৬০ কিলোমিটার।

    বৃহস্পতিবার বজ্রবিদ্যুৎ-সহ হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে কলকাতা, উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা, পূর্ব মেদিনীপুর, হাওড়া, নদিয়ায়। প্রায় সব জেলাতেই ঘণ্টায় ৩০ থেকে ৪০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়া বইবে।

    শুক্রবার বিক্ষিপ্ত ভাবে বৃষ্টি হতে পারে দুই মেদিনীপুর, দক্ষিণ ২৪ পরগনা এবং ঝাড়গ্রামে। বাকি জেলাগুলিতে শুক্রবার থেকে রবিবার পর্যন্ত শুকনো আবহাওয়া থাকবে। রবিবারের পর থেকে দক্ষিণ ও পশ্চিমের কিছু জেলায় ফের বিক্ষিপ্ত বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।

    উত্তরবঙ্গেও দুর্যোগ চলবে। বুধবার ভারী বৃষ্টি হতে পারে আলিপুরদুয়ার ও জলপাইগুড়িতে। দার্জিলিং, কালিম্পঙের কিছু কিছু জায়গায় শিলাবৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। বৃহস্পতিবারও উত্তরের পাহাড় ঘেঁষা পাঁচ জেলাতেই বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টি এবং ঘণ্টায় ৪০ থেকে ৫০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়ার সতর্কতা জারি করা হয়েছে। উত্তরে দুর্যোগ চলতে পারে সোমবার পর্যন্ত। তার পর বৃষ্টি কিছুটা কমবে বলে মনে করা হচ্ছে।

    উত্তর ও়ড়িশা এবং পশ্চিমবঙ্গ সংলগ্ন উপকূলে ঝোড়ো হাওয়া বইছে। বেগ ঘণ্টায় ৪০ থেকে ৫০ কিলোমিটার। এর ফলে আগামী অন্তত ২৪ ঘণ্টা মৎস্যজীবীদের সমুদ্রে না-যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

    হাওয়া অফিস জানিয়েছে, একটি পূর্ব-পশ্চিম অক্ষরেখা উত্তর-পশ্চিম উত্তরপ্রদেশ থেকে বিহার, পশ্চিমবঙ্গ, উত্তর বাংলাদেশ, মেঘালয়, দক্ষিণ-পূর্ব অসম হয়ে হিমালয়ের পাদদেশ ছুঁয়ে মণিপুর পর্যন্ত বিস্তৃত। সমুদ্রতল থেকে তার উচ্চতা ১.৫ কিলোমিটার। এ ছাড়া ছত্তীসগঢ় এবং আশপাশের অঞ্চলের উপর একটি ঘূর্ণাবর্ত রয়েছে। সমুদ্রতল থেকে তা ০.৯ কিলোমিটার উঁচুতে অবস্থান করছে। মঙ্গলবারের অক্ষরেখাটি তেলঙ্গানা ও তামিলনাড়ুর উপরে অবস্থিত দ্বিতীয় অক্ষরেখার সঙ্গে মিশে গিয়েছে। এর ফলে বঙ্গোপসাগর থেকে প্রচুর পরিমাণে জলীয় বাষ্প ঢুকছে স্থলভাগে। তাই পশ্চিমবঙ্গের উপর ঝড়বৃষ্টির অনুকূল পরিস্থিতি রয়েছে।
  • Link to this news (আনন্দবাজার)